Latest News

রুমাল আর হোটেলের বিলই ধরিয়ে দিল সূত্র, খড়দহের প্রৌঢ়-হত্যা মামলায় পুলিশের জালে প্রাক্তন স্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: খড়দহের শান্তিনগর থেকে বৃহস্পতিবার উদ্ধার হয়েছিল বছর পঞ্চাশের প্রতুল চক্রবর্তীর দেহ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ছিল সম্ভবত শ্বাসরোধ করেই খুন করা হয়েছে তাঁকে। প্রতুলবাবুর রহস্য মৃত্যুর সঙ্গে কারও যোগ রয়েছে কি না তা জানতে তদন্তে নেমেছিল খড়দহ থানার পুলিশ। শান্তিনগরের খালপাড় থেকে উদ্ধার হয়েছিল প্রতুলবাবুর দেহ। ঘটনাস্থল থেকে মহিলাদের ব্যবহার করা একটি রুমাল এবং একটি হোটেলের বিল পায় পুলিশ। এই বিল এবং রুমালের সূত্র ধরেই শুক্রবার প্রতুলবাবুর প্রাক্তন স্ত্রী অদিতি চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অনুমান, বুধবার রাতে তিনিই গলায় ফাঁস লাগিয়ে খুন করেন প্রতুল চক্রবর্তীকে।

কিন্তু কেন?

পুলিশ জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে অদিতিদেবীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় প্রতুলবাবুর। কিন্তু তার পরেও অদিতিকে নানা ভাবে উত্যক্ত করতেন প্রতুল। কখনও ফোনে, কখনও সোশ্যাল সাইটে। কখনও বা হাজির হতেন সন্তানদের স্কুলের সামনে। অদিতিদেবী পুলিশকে জানিয়েছে, তাঁর থেকে প্রতুলবাবু গয়না এবং বেশ কয়েক লক্ষ টাকাও নিয়েছিলেন। বুধবার সেইসব ফেরত দেবেন বলে তাঁকে খড়দহের ভাড়া বাড়িতে ডেকে পাঠিয়েছিলেন।

অদিতির অভিযোগ, বুধবারে রাতে খড়দহের শান্তিনগরের ওই ভাড়া বাড়িতে যান তিনি। কিন্তু তাঁকে দেখেই মদ্যপ অবস্থায় গালিগালাজ শুরু করেন প্রতুল। অভিযোগ, অদিতিকে তিনি মারধরও করেন। পুলিশের অনুমান, বচসার সময়েই গলায় ফাঁস লাগিয়ে প্রতুল চক্রবর্তীকে খুন করেছেন অদিতি। শুক্রবার কাশীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, অদিতিকে।

বৃহস্পতিবার, উদ্ধার হয় প্রতুলবাবুর দেহ। স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন, দিন চারেক আগে ওই এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বাড়িওয়ালা শ্যামল মজুমদার জানিয়েছিলেন, প্রথমে একাই এসেছিলেন প্রতুলবাবু। পরে স্ত্রী আসবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, গুরগাঁওয়ের বাসিন্দা প্রতুল চক্রবর্তী একটি প্যাথোলজি সেন্টারের চিফ এক্সকিউটিভ অফিসার বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। তাঁকে বাড়ি ভাড়া ঠিক করে দেন  অমিতাভ চৌধুরী। বাড়ির মালিক শ্যামলবাবু পুলিশকে বলেছেন, প্রতুলবাবু তাঁকেও নাকি চাকরি দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।

You might also like