Latest News

তৃণমূল বোর্ডের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক কৃষ্ণেন্দু, ভোট চাইলে মানুষ ঝাঁটা-জুতো মারবে

বিবেক সিংহ 

পুর ভোটের ঘণ্টা বেজে গেছে। এর মধ্যেই মালদহের তৃণমূলে ফের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে। ইংরেজবাজার পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী সরাসরি বলে দিলেন, “ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ভোট চাইতে গেলে মানুষ আমাদের জুতো মারবেন। কারণ, এই তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডে শুধু দুর্নীতি হয়েছে। মানুষের কোনও কাজ হয়নি।”

কৃষ্ণেন্দুবাবুও এই পুরসভার কাউন্সিলর। একসময়ে চেয়ারম্যানও ছিলেন। কিন্তু সাবিত্রী মিত্রের সঙ্গে তাঁর কোন্দলের পর দলনেত্রী তাঁকে মন্ত্রিসভা এবং চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেন। কৃষ্ণেন্দুবাবু বলেন, “”ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পুরপ্রধান নীহাররঞ্জন ঘোষের নেতৃত্বে শুধু বেআইনি কাজ হয়েছে। দুর্নীতি হয়েছে। বোর্ড মিটিং হয় না। বাজেট মিটিং হয় না। শহরের মানুষ পুরসভা থেকে কোনও পরিষেবা পাননি। যার খেসারত দিতে হবে আমাদের।”

এখানেই থামেননি তিনি। তাঁর কথায়, “আমি যদি যাই তো মানুষ প্রশ্ন করবেন, ‘আপনি এই বোর্ডের মেম্বার। তো আপনি কি করছিলেন এতদিন?’ উত্তর দিতে পারব না। তখন মানুষ জুতো, ঝাঁটা দিয়ে পেটাবেন।” কৃষ্ণেন্দুবাবুর সুরেই গলা মিলিয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান তথা মালদহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি বাবলা সরকারও।

মালদহ জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি তথা পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সদস্য অম্লান ভাদুড়ী বলেন, “উনি (কৃষ্ণেন্দু) তৃণমূলের কাউন্সিলর। উনি কী জন্য এই ধরণের কথা বলছেন সেটা বুঝতে পারছি না। হয়তো দলের উপর বা কারও উপর রাগ করে বলে থাকতে পারেন।” যদিও চেয়ারম্যান নীহাররঞ্জনবাবুর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

লোকসভা ভোটে মালদহে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। দুটি আসনের একটিও দখলে আনতে পারেনি তৃণমূল। মৌসম বেনজির নুর কংগ্রেস থেকে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়েও ওই আসন জেতা হয়নি শাসকদলের। দুটির মধ্যে একটিতে কংগ্রেস এবং অন্যটিতে বিজেপি জিতেছে। এবার পুরভোটের আগে কৃষ্ণেন্দুর এহেন মন্তব্য নিয়ে অস্বস্তিতে জেলা তৃণমূল।

You might also like