Latest News

এমএলএ কেনা দিদিমণির অভ্যেস, বিজেপি-র না, পাল্টা দিলেন দিলীপ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিদি বলেছিলেন, “ওরা টাকার থলি নিয়ে নেমেছে। ফোন করে করে বলছে, চলে আসুন, কত টাকা লাগবে?”

দিলীপ ঘোষ জবাবে বললেন, “এমএলএ-এমপি কেনাকাটা তৃণমূলের অভ্যেস। আমাদের না। চাইলে গোটা তৃণমূলই কিনে ফেলতে পারি। কিন্তু ও ভাবে ব্যাগ ভর্তি করব না। বিজেপি-র মতাদর্শ বলে একটা বস্তু রয়েছে। যাঁরা বিজেপি-র নীতি, আদর্শ মেনে দল করতে চাইবেন, তাঁদেরই শুধু নেওয়া হবে।”

এক্কেবারে শঠে শাঠ্যং!

সোমবার ফেব্রুয়ারি মাসের ২৫ তারিখ হয়ে গেল। ফলে যে কোনও মুহূর্ত লোকসভা ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করে দিতে পারে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তার আগে বাংলার রাজনীতি এখন ক্রমশই এ ভাবে জমে উঠছে।

দিলীপবাবু যাই বলুন, লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি যে বাংলায় তৃণমূলে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে তা ষোল আনার মধ্যে আঠারো আনা সত্যি। বিজেপি-র এক শীর্ষ নেতার কথায়, “শুধু ভোট ঘোষণার অপেক্ষা। তার পর দেখুন না!” ভোট ঘোষণার আগে কেন তাঁরা তা করছেন না, জানতে চাইলে বলছেন, তা হলে বাংলার পুলিশ ওঁদের কেস দিতে পারে। মিথ্যা মামলায় জড়ানো হতে পারে। যতদিন ওঁরা শাসক দলের সঙ্গে রয়েছেন, তদ্দিন ভাল। তৃণমূল ছাড়লেই খারাপ। ভোট ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলার পুরোটাই নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে আসবে। তখন অন্তত মিথ্যা মামলায় জড়াতে পারবে না।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দল ভাঙার ব্যাপারে কিছুটা হলেও আতঙ্ক ঢুকে গিয়েছে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের মধ্যেও। এবং সেই কারণেই সোমবার নজরুল মঞ্চে তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরিই অভিযোগ করেছেন, টাকার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে তাঁর দলের নেতাদের। সেই সঙ্গে দলের উদ্দেশে বলেছেন, “ওদের অনেক টাকা। যদি অনেক হেলিকপ্টার নামায়, অনেক টাকা বিলোয়, অনেক বাইক দেয়, সামলে নেবেন তো?”

বিকেলে তারই পাল্টা জবাব দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। শুধু দিলীপবাবু কেন, সাংসদ-বিধায়ক কেনাবেচা নিয়ে এ দিন তৃণমূলের সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতারাও। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, “বাংলার রাজনীতিতে কেনাবেচার সংস্কৃতি কে ঢুকিয়েছে? ষোলো সালের বিধানসভা ভোটের পর বিরোধীদের দখলে থাকা পুরসভা ও জেলা পরিষদ কোথাও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে দখল করেছে তৃণমূল, কোথাও টাকার জোরে কংগ্রেস ভেঙেছে। পাপের শাস্তি এ ভাবেই হয়।”

বস্তুত, পুলওয়ামা কাণ্ডের পর থেকেই মমতা অভিযোগ করছেন রাজ্যে জাতীয়তাবাদের সুড়সুড়ি দিয়ে বিজেপি, আরএসএস এবং বিশ্বহিন্দু পরিষদ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করছে। মাঝ রাতে বাইক নিয়ে বেরিয়ে হাঙ্গামা করছে। এ ব্যাপারে বেহালার একটি ঘটনা নিয়ে স্থানীয় নেতাদের এ দিন মৃদু ধমকও দেন মমতা। নির্দেশ দেন এলাকায় কোনও গুজব শুনলেই পুলিশে অভিযোগ করুন। কাজ না হলে তাঁর বাড়ির দরজা খোলা রয়েছে বলেও জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাল্টা দিলীপবাবু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নিজের অযোগ্যতা চাপা দেওয়ার জন্যই আরএসএস, বিএইচপি-র নাম বলছেন। যারা হাঙ্গামা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক প্রশাসন।”

You might also like