Latest News

#Exclusive: সিপিএম বৃদ্ধতন্ত্রের অবসান ঘটানোর পথে, ষাট পেরোলেই কমিটিতে আর নয়

শোভন চক্রবর্তী

দলের নেতাদের বয়স নিয়ে দলের মধ্যেই আলোচনা কম নেই। এ বার সেই সিপিএম-ই কোমর বেঁধে নামছে নেতৃত্বের বয়স কমাতে। সিপিএম সূত্রে খবর, সেপ্টেম্বর মাস থেকেই শুরু হচ্ছে সেই অভিযান।

সিপিএমে এখন লোকাল কমিটি, জোনাল কমিটি নেই। শাখা কমিটি আর জেলা কমিটির মাঝে একটাই স্তর। সেটা এরিয়া কমিটি। যা খবর, তাতে পুজোর আগেই রাজ্যের সমস্ত এরিয়া কমিটি থেকে ষাটোর্দ্ধ নেতাদের অব্যাহতি দিয়ে দেবে দল। এমনিতে সিপিএমের রেওয়াজ সম্মেলনে কমিটির সদস্য বদল। অথবা একটা সম্মেলন থেকে আরএকটা সম্মেলনের মাঝে যদি কেউ মারা যান, বহিষ্কৃত হন বা ইস্তফা দেন, তাহলে সেই জায়গায় অন্য মুখ আনে দল। কিন্তু এ বার সে সব হচ্ছে না। আলিমুদ্দিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ষাট পেরনো নেতাদের বলা হবে, এ বার আপনাদের কমিটি ছাড়তে হবে। শাখাস্তরে গিয়ে কাজ করুন।

নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। আসন সংখ্যা শূন্য। ভোট শতাংশ এসে ঠেকেছে সাতে। বাংলায় ৪০টি কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছিল বামফ্রন্ট। জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে গিয়েছে ৩৯টি আসনে। চলতে থাকা রক্তক্ষরণ এখন রক্তশূন্যতার পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে তারুণ্যে অগ্রাধিকারকেই ওষুধ হিসেবে মনে করছেন ডাক্তার সূর্যকান্ত মিশ্ররা।

এরিয়া কমিটিতে এই বৃদ্ধতন্ত্রের অবসান ঘটানোর পর ধাপে ধাপে জেলা এবং রাজ্য কমিটিতে তা করা হবে। বদলে আনা হবে তরুণ মুখ। মূলত ছাত্র-যুব ফ্রন্টের নেতৃত্বকেই দলের নেতৃত্বে তুলে আনতে চাইছে সিপিএম। একাধিক জেলা কমিটির বৈঠকে গিয়ে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা বলে দিচ্ছেন, তৈরি হোন। সেপ্টেম্বরেই সব করে ফেলতে হবে।

কিন্তু এই কাজটাও কি সর্বত্র করা যাবে? এই প্রশ্ন এখন থেকেই উঠতে শুরু করে দিয়েছে পার্টির মধ্যে। কেন? সিপিএমের যখন গতবার সম্মেলন হচ্ছে, তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রতিটি এরিয়া কমিটিতে একজন করে অনুর্দ্ধ ৩১ রাখতে হবে। কিন্তু রাজ্যে এমন বহু এরিয়া কমিটি আছে, যেখানে সেই রইকম কাউকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। সেই জায়গা খালিই পড়ে রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বৃদ্ধদের নয় সরিয়ে দেওয়া গেল। কিন্তু সেই জায়গায় বসানোর মতো লোক খুঁজে পাওয়া যাবে তো?

You might also like