Latest News

সবিতা ‘দ্য ওয়াল’ পুনিয়া! ৯টি গোল রুখে টিমকে সেমিফাইনালে পৌঁছলেন ধন্যি মেয়ে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘চাক দে ইন্ডিয়া’র বিদ্যা শর্মাকে মনে আছে! ভারতীয় মহিলা হকি টিমের গোলকিপার ছিলেন তিনি। ১৪ বছর আগে রিলিজ হওয়া সেই সিনেমার শেষ দৃশ্য এখনও অনেকেই ভুলতে পারেননি। গোলকিপারের সঙ্গে কোচ কবীর খানের সঙ্গে সামান্য বোঝাপড়া, শেষ মুহূর্তের ইশারা, আটকে দিয়েছিল অবধারিত গোল। জয় এনে দিয়েছিল টিমকে।

তবে সে ছিল সাজানো চিত্রনাট্য। যতই রোমাঞ্চকর হোক না কেন, বিদ্যা শর্মার অস্তিত্ব বাস্তবে নেই। কিন্তু সত্যিই কি নেই? টোকিও অলিম্পিকে ভারতীয় মহিলা হকি দলের শেষতম জয়ের পরে তো উঠে এসেছেন আরও এক বিদ্যা! তিনি সবিতা পুনিয়া। ভারতীয় টিমের গোলকিপার। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রাঙ্গণ এখন তাঁকে ‘দ্য ওয়াল’ বলেই চিনেছে। দেওয়ালের মতোই গোটা টিমকে যেন আগলে রেখেছিলেন তিনি।

আজ, সোমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে অলিম্পিক সেমিফাইনালে উঠেছে ভারতীয় মহিলা হকি টিম। এই প্রথম সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছল তারা, লিখল ইতিহাস, তাও আবার তিন বারের চ্যাম্পিয়ন টিম, বিশ্বের দু’নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে!

এদিন ম্যাচ শেষের হুইসেল বাজতেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরছিলেন হকি টিমের অধিনায়ক রানি রামপালরা। শর্মিলা দেবী, গুরজিৎ কাউরদের চোখে জল। এই জল বেদনার নয়, আনন্দের। কেনই বা হবে না?‌ অলিম্পিকে প্রথমবার সেমিফাইনালে দল, তাও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে! আনন্দে ভেসে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

লড়াই সহজ ছিল না। আট রাউন্ডে পৌঁছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই সবচেয়ে কঠিন ম্যাচের মুখোমুখি হল ভারত। এই ম্যাচেই একটা নয়, দুটো নয়, অস্ট্রেলিয়ার ন’টি ডাইরেক্ট শট নিশ্চিত গোল হওয়ার থেকে রুখে দিয়েছেন গোলকিপার সবিতা পুনিয়া। তার পরেই টুইটার ভেসে গেছে ‘দ্য ওয়াল’ বিশেষণে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া। ২ মিনিটেই গোল করার সুযোগ পেয়েছিল। সবিতা ও ডিফেন্ডারদের তৎপরতায় গোল পায়নি। ৯ মিনিটে রানি রামপালের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২০ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। উল্টে ২২ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার থেকে ভারতকে এগিয়ে দেন পেনাল্টি কর্ণার বিশেষজ্ঞ গুরজিৎ কাউর। এরপর সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের চাপ আরও বাড়ায় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু তখনই সবিতা পুনিয়া  যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন। ভারতীয় ডিফেন্সের সকলেই দারুণ দক্ষতার পরিচয় দেন। তাই গোটা ম্যাচে ৭টা পেনাল্টি কর্ণার পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।

ম্যাচ শেষের পরে কেউ লিখেছেন, “সবাই ভাল খেলেছে, কিন্তু সবিতা, যেন দ্য ওয়াল হয়ে ছাপিয়ে গেছে সবকিছু।” কেউ আবার লিখেছেন, “চাক দের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, গর্বে বুক ভরে যাচ্ছে দ্য ওয়াল সবিতাকে দেখে।”

অলিম্পিকে ভারতের মহিলা দলের সেরা সাফল্য ছিল ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকে। সেবারই প্রথম অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পেয়েছিল ভারতীয় মহিলা হকি দল। ৬ দলের মধ্যে চতুর্থ স্থানে শেষ করেছিল খেলা। তার পরে এতগুলো বছর পরে ফের সামনে সুযোগ এসেছে বড় জয়ের।

You might also like