Latest News

ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির রহস্য খুঁজতে মহাকাশে বসল পেল্লায় দূরবীন, পৃথিবী থেকে ১৫ লাখ কিমি দূরে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাকাশে পৌঁছে গেল নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। ভারতীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ মহাশূন্যের ল্যাগারাঞ্জ পয়েন্ট (এল২)-তে গিয়ে ল্যান্ড করেছে পৃথিবীর দীর্ঘতম এই দূরবীন। ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির রহস্যভেদ করাই এই উদ্দেশ্য। সৌরমণ্ডল ও তার বাইরের গ্রহ-তারাদের জন্ম-মৃত্যুর খবরও দেবে এই টেলিস্কোপ।

ডিসেম্বর ২৫ তারিখে আরিয়ান ৫ রকেটে চেপে মহাশূন্যের দিকে যাত্রা করেছিল দূরবীন। হাবল যেখানে আলোক তরঙ্গ নিয়ে নাড়াচাড়া করে, জেমস ওয়েব সেখানে ‘বিগ ব্যাং’ বা মহাবিস্ফোরণের সূত্র খুঁজে আনবে। ২৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিট নাগাদ আরিয়ান-৫ রকেটে চেপে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের বাইরে মহাকাশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জেমস ওয়েব দূরবীনকে। এখন মহাশূন্যে একে একে পাপড়ি মেলবে দূরবীন।

Why NASA's James Webb Space Telescope Will Never Live As Long As Hubble

পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য বিশাল অ্যান্টেনা রয়েছে জেমস ওয়েবের। শক্তি জোগাবে পেল্লায় সোলার প্যানেল। মহাশূন্যে পৌঁছেই সেগুলি খুলতে থাকবে এক এক করে। হাবল টেলিস্কোপ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে, জেমস ওয়েব একধাপ এগিয়ে সৌরমণ্ডলের কর্তা সূর্যকে প্রদক্ষিণ করবে। সূর্যের চোখা চোখা রশ্মির ফলা থেকে বাঁচতে এতে রয়েছে বিশাল সানশিল্ড। উৎক্ষেপণের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই টেলিস্কোপের সুবিশাল আয়না খুলে যাবে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মেলে গ্রহ-নক্ষত্র, ছায়াপথকে খুঁটিয়ে দেখবে জেমস ওয়েব।

১৩৮০ কোটি বছর আগে বিগ ব্যাং-এর পর কীভাবে ব্রহ্মাণ্ড তৈরি হয়েছিল সে খবর খুঁজে আনার দায়িত্ব জেমস ওয়েবের। কীভাবে জন্ম-মৃত্যু হয় তারাদের, নক্ষত্রপুঞ্জের জন্ম ইতিহাস, গ্রহদের গোপন কথা, ছায়াপথের ফিসফিসানি সবই জেনে-বুঝে পৃথিবীতে খবর পাঠাবে নাসার দূরবীন। সেই জন্মের পর থেকে মহাকাশে য়ে ক্রমবর্ধমান বিবর্তন হয়ে চলেছে সেই ধারাকে পর পর সাজিয়ে বিশ্লেষণ করবে জেমস ওয়েব।

সূর্যের চারদিকে ঘুরবে এই দূরবীন। এর অবস্থান হবে সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে ২ নম্বর ল্যাগারাঞ্জ পয়েন্টে। আর্থ-সান সিস্টেমে পাঁচটি পজিশন আছে, তার মধ্যে ১ নম্বর ল্যাগারাঞ্জ পয়েন্টে আছে সোলার ও হেলিওস্পেরিক অবজারভেটরি। ২ নম্বর পয়েন্টে যাবে জেমস ওয়েব। এখান থেকে পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সহজ এবং একই সঙ্গে সৌরমণ্ডলকে খুঁটিয়ে দেখাও সম্ভব। এখ মাস সময় লাগবে এই পয়েন্টে পৌঁছতে।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like