Latest News

চাঁদপাল ঘাটে বাবাকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় তরুণী মেয়ের সঙ্গে আর কে ছিল!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাঁদপাল ঘাটে উদ্ধার হওয়া প্রৌঢ়ের জ্বলে যাওয়া মাংসপিণ্ড উদ্ধারের ঘটনায় ক্রমেই বাড়ছে রহস্য। নিহত বিশ্বজিৎ আঢ্যর মেয়ে, ২২ বছরের পিয়ালি পুলিশের জেরার মুখে স্বীকার করেছে যে সে বাবাকে খুন করেছে। কীভাবে সে এই খুনের পরিকল্পনা করে, তার বিস্তারিত বর্ণনা শুনে চমকে উঠেছেন খোদ তদন্তকারীরাও।

তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, একা পিয়ালি নন, অন্য কেউও জড়িত রয়েছে এই খুনে। তবে সে কে হতে পারে, তাই নিয়ে এখনও কোনও সূত্র পুলিশের হাতে আসেনি। চাঁদপাল ঘাটের সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হচ্ছে ভাল করে। এক তদন্তকারী অফিসারের কথায়, “অনেক প্রশ্ন এবং ধন্দ রয়েছে। এক এক করে উত্তর খোঁজা হচ্ছে।”

রবিবার ভোরে স্থানীয় মানুষজনই প্রথম পুলিশে খবর দেন পার্কের ধারে পোড়া মাংসপিণ্ড দেখে। তখন তাঁরাও বোঝেননি, সেটি কারও দেহ বলে। নর্থ পোর্ট থানার পুলিশ এসে উদ্ধার করে দেহটি এবং শুরু হয় তদন্ত।

জানা যায়, পুড়ে যাওয়া ওই ব্যক্তির নাম বিশ্বজিৎ আঢ্য। তাঁর বাড়ি তোপসিয়ায়। এলাকায় খোঁজ খবর করতে শুরু করে পুলিশ। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে, মৃত্যুর আগে মেয়ে পিয়ালির সঙ্গেই বেরিয়েছিলেন তিনিই। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেও সে ব্যাপারে নিশ্চিত হয় পুলিশ এবং শনাক্ত করে পিয়ালিকে।

এর পরেই ২২ বছরের পিয়ালিকে গ্রেফতার করে শুরু হয় জেরা। জেরার মুখে পিয়ালির বয়ানে অসঙ্গতি খুঁজে পান তদন্তকারীরা। এর পরে একটু চাপ দিতেই রীতিমতো ভেঙে পড়ে সে এবং সামনে আসে ভয়ংকর ঘটনা।

পিয়ালি পুলিশকে জানায়, তার বিয়ে হয়েছিল, তবে ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর সে বাবার কাছেই থাকত। বাবা মদ খেয়ে তাকে মারধর করত বলে দাবি করে সে। সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় বাবাকে মেরে ফেলবে বলে ঠিক করে সে।

শেষমেশ শনিবার রাতে, পরিকল্পনা মতো বাবাকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিল পিয়ালি। কথা ছিল রেস্তরাঁয় ডিনার করবে তারা। সেইমতো ডিনার সারা হয়। মদ্যপানও হয়। এরপর বাবাকে চাঁদপাল ঘাট-লাগোয়া পার্কে নিয়ে যায় পিয়ালি। বিশ্বজিৎবাবু ফের শুরু করেন মদ্যপান। পাশে বসে গল্প করছিল পিয়ালি।

পুলিশ জানিয়েছে, মদের নেশায় বিশ্বজিৎবাবু একসময় ঘুমিয়ে পড়লে, ব্যাগ থেকে কেরোসিন বার করে বাবার গায়ে ঢালে পিয়ালি। তারপর আগুন ধরিয়ে দেয় ঘুমন্ত বাবার গায়ে। এর পরে রাতের অন্ধকারেই পিয়ালি ফিরে আসে নিজের বাড়ি। ঘুমন্ত ও মদ্যপ অবস্থায় পুড়ে মারা যান বিশ্বজিৎবাবু।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উত্তর বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মৃতের এক ভাই। তার পরেই তপসিয়ার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় পিয়ালিকে।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, পিয়ালি দাবি করেছে সে মদ্যপ অবস্থায় বাবাকে রেস্তরাঁ থেকে চাঁদপাল ঘাটে নিয়ে গেছিল সে। এমনটা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন পুলিশকর্তারা। এমনকি একা একা বাবাকে পুড়িয়ে দেওয়াও ২২ বছরের মেয়ের পক্ষে অত্যন্ত মুশকিল বলেই মনে করছেন তাঁরা।

হতে পারে, পিয়ালি আর বিশ্বজিৎবাবুর সঙ্গে ওই রাতে অন্য কেউ ছিল, যার সাহায্যেই মদ্যপ বাবাকে ঘাটে নিয়ে গিয়েছিল পিয়ালি। সে-ই সেদিন গাড়ি চালাচ্ছিল কিনা, সে সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি ট্যাক্সিকে শনাক্ত করা হয়েছে। ওই গাড়ির চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে রহস্যের জট খোলে কিনা, তাও দেখার বিষয়।

জানা গেছে, একটি ছাপাখানায় কাজ করতেন বিশ্বজিৎ। ইদানীং টাকাপয়সা নিয়ে সমস্যা চলছিল। অশান্তিও হতো। এছাড়াও বিশ্বজিতের পৈতৃক বাড়িটি একশো বছরের পুরনো। সেই বাড়ির বিষয় সম্পত্তিগত কারণে কোনও সমস্যা ছিল কিনা, তাও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। অনুমান, বড় কোনও প্রতিহিংসা লুকিয়ে রয়েছে এই ঘটনার পেছনে।

You might also like