Latest News

মোদী যাবেন! বিশ্বাস করেনি কৃষকেরা, ভোট অঙ্কে বলপ্রয়োগ এড়ায় পুলিশও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশকর্তা জনতাকে বললেন, এই পথ ধরে প্রধানমন্ত্রীর কনভয় যাবে। উনি রওনা হয়ে গিয়েছেন। আপনারা সরে যান। রাস্তা ফাঁকা করে দিন। জবাবে আন্দোলনকারী কৃষকেরা জানায়, প্রধানমন্ত্রীর তো এই পথে যাওয়ার কথা নয়। পুলিশ জানান, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁর সড়ক পথে ফিরোজপুর যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দয়া করে রাস্তা থেকে সরে যান। জনতা সে কথা বিশ্বাস করে না। তাদের ধারণা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নাম করে রাস্তা ফাঁকা করার মতলব করছে পুলিশ।

কৃষকদের অনড় মনোভাবের কথা পৌঁছয় চণ্ডীগড়ে পাঞ্জাব পুলিশের ডিজি সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কানে। তিনি সরকারের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ। কিন্তু মন্ত্রীরা বেশিরভাগই ভোটের প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন। আবার তিনি বলপ্রয়োগ করে অবরোধকারীদের তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর যাওয়ার রাস্তা করে দিতে চাইলে তাঁকে এগোতে নিষেধ করা হয়। বলা হয়, জোরজবরদস্তি করলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে। শেষে গুলিও চালাতে হতে পারে। আর কয়েক মাস পরই রাজ্যে বিধানসভার ভোট। বছর পাঁচ-ছয় আগে এরকমই এক অবরোধ তুলতে গিয়ে পুলিশকে গুলি চালাতে হলে দু’জনের মৃত্যু হয়। ফলে প্রধানমন্ত্রীর কনভয় ঘুরিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাঞ্জাবের ফিরোজপুরে যাওয়ার পথে মাঝরাস্তা থেকে ফিরে যাওয়ার ঘটনার দায় নিয়ে প্রাথমিক তদন্তে এই সব তথ্য উঠে এসেছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে কাদা ছোড়াছুড়ি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্য ছাড়ার আগে পাঞ্জাবের কংগ্রেস সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে দিয়ে গোড়াতেই বিবাদ উস্কে দিয়েছেন। অন্যদিকে, পাঞ্জাব সরকার আঙুল তুলেছে প্রধানমন্ত্রীর অফিস এবং তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজির দিকে।

তবে মোদী দিল্লি ফিরে যাওয়ার পর প্রশাসনিক মহল গোটা ঘটনার যে প্রাথমিক ময়না তদন্ত করেছে তাতে এটা স্পষ্ট, প্রধানমন্ত্রীর আচমকাই সড়ক পথে ১২০ কিলোমিটার সফরের সিদ্ধান্ত তাঁর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রীর কনভয় ঘুরিয়ে ফিরে যাওয়ার ঘটনা যেমন বিরল, তেমনই আশ্চর্যের, মাত্র আধ ঘণ্টার নোটিসে হেলিকপ্টারের পরিবর্তে গাড়িতে ১২০ কিলো মিটার যাওয়ার সিদ্ধান্ত।

বুধবার সকাল ১০’টা ২০ মিনিট নাগাদ প্রধানমন্ত্রী ভাতিণ্ডা বিমানবন্দরে নামার পর সেখানে বৃষ্টি শুরু হয়। আধ ঘণ্টা এয়ারপোর্টে অপেক্ষার পর তাঁকে সড়ক পথে ফিরোজপুরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এমন তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বিস্মিত। তাঁরা অনেকেই মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্য সব সময় বিকল্প পথ খোলা রাখা দরকার। কিন্তু বুধবার মোদীর সড়ক পথে যাত্রার জন্য সংশ্লিষ্ট রাস্তাটিকে বিকল্প হিসাবে ব্যবহারের কোনও পরিকল্পনা ছিল না। তা থাকলে আগের রাত থেকেই পথে নাকা চেকিং চলত। নিয়ন্ত্রণ করা হত গাড়ির সংখ্যাও।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী আকাশ পথে যাবেন ঠিক থাকায় রাস্তায় বিক্ষোভ দেখানোর কর্মসূচি কোনও কৃষক সংগঠনেরই ছিল না। তাহলে প্রধানমন্ত্রীর আচমকা সড়ক পথে যাওয়ার কথায় কীভাবে কৃষকেরা এক্সপ্রেসওয়ের উপর জড়ো হলেন? জানা যাচ্ছে, ফিরোজপুরে হুসেইনিওয়ালা শহিদ স্মৃতি উদ্যানের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর তাঁর বিজেপির জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। প্রধানমন্ত্রীর কনভয় যে পথ ধরে যাচ্ছিল সেই রাস্তা ধরেই বিজেপি সমর্থকদের গাড়ি যাচ্ছিল সভা অভিমুখে। কৃষকেরা বিজেপি সমর্থকদের গাড়ি আটকাচ্ছিল।
যে এলাকা থেকে মোদীর কনভয় ফিরে যায়, তার পাঁচ কিলো মিটার দূরে রাস্তা অবরোধ হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রধানমন্ত্রীর কনভয় যাবে বলে আন্দোলনকারী কৃষকদের জানানো হলে তারা সে কথা বিশ্বাস করতে চায়নি। তাদের ধারণা, অবরোধ তোলার জন্য পুলিশ এ কথা বলছে।

ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন—ক্রান্তিকারীর বলদেব সিং জিরা সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ফিরোজপুরের পুলিশ সুপার তাঁদের বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কনভয় যাওয়ার কথা। কিন্তু কৃষকরা তা বিশ্বাস করেনি। একটি ভিডিও-তে জিরাকে বলতে দেখা যায়, আমাদের কাছে খবর, প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like