Latest News

মদ খেলে শুরুতেই জেল নয় বিহারে, জরিমানা দিলেই প্রথম অপরাধ মাফ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জামিনের আবেদন শুনতে শুনতে বিচারপতিদের মাথা খারাপ হওয়ার জোগার। শতকরা নব্বই ভাগ আবেদনই আবার মদ সংক্রান্ত অপরাধে ধৃতদের। অবস্থা এমনই যে অন্য বিষয়ে মামলা শোনার সময় বের করতে পারছেন না পাটনা হাইকোর্টের বিচারপতিরা।

শুধু আদালত নয়, সমাজেও তুমুল প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বিহার প্রহিবিশন অ্যান্ড এক্সাইজ আইন ২০১৬-র নানা বিধান নিয়ে। কোনও কোনও মহল্লায় একাধিক বাসিন্দাকে এই আইনের ফাঁদে পড়ে জেলের ভাত খেতে হচ্ছে মাসের পর মাস। তাদের সামাজিক সম্মান খর্ব হওয়ার পাশাপাশি পরিবারও মহা বিপাকে পড়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ২০১৬ থেকে বিহারে মদ খাওয়া ও বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আর তার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা বিরূপ প্রতিক্রিয়া। মদ না পেয়ে বহু মানুষ নানা রোগভোগের শিকার হয়েছে। আবার লুকিয়ে মদ বিক্রি ও খেতে গেয়ে পুলিশের জালে পড়ে জেলে যেতে হয়েছে কয়েক হাজার মানুষকে। নয় নয় করে পাঁচ থেকে দশ বছর পর্যন্ত জেলের বিধান আছে আইনে। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে জামিনের আবেদন নিয়ে শয়ে শয়ে মানুষ তাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। হাইকোর্টগুলির কাজকর্ম সংক্রান্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করার সময় বিষয়টি নজরে আসে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এনভি রামান্নার।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ লোককে মদ খাওয়া, বহন করা অথবা বিক্রির দায়ে গ্রেফতার করেছে বিহার পুলিশ। পাটনা হাইকোর্টে শুধু মদ মামলাতেই প্রায় ২০ হাজার জামিনের আবেদন বিবেচনাধীন। বিহারের ৫৯টি জেলে ৪৭ হাজার বন্দি থাকার ব্যবস্থা আছে। সেখানে এখন আছে প্রায় ৭০ হাজার বন্দি। তাদের প্রায় হাজার পঁচিশ মদ সংক্রান্ত মামলায় ধৃত।

এই পরিসংখ্যান হাতে আসার পর দেশের প্রধান বিচারপতি সংশ্লিষ্ট আইনটিকে অবিবেচনাপ্রসূত বলে মন্তব্য করেন সম্প্রতি। তারপরই নড়েচড়ে বসে নীতীশ কুমারের প্রশাসন। যদিও বিরোধীরা তো বটেই জোটসঙ্গী বিজেপিও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল আইনটির বিরুদ্ধে। তাদের বক্তব্য ছিল, মদ নিষিদ্ধ করার ফলে সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। সেই ক্ষতি মেনে নেওয়া যেত যদি বাস্তবে আইনটি অক্ষরে অক্ষরে পালিত হত। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সোনার পাথরবাটির মতো। প্রশাসনকে কোথাও ফাঁকি দিয়ে, কোথাও বোঝাপড়া করে মদ বিক্রি হচ্ছে। ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অথচ মদ বিক্রি পুরোপরি বন্ধ হচ্ছে না। তাছাড়া, বৈধ মদ বিক্রি নিষিদ্ধ হওয়া মাত্র বেড়েছে অস্বাস্থ্যকর মদের জোগান। বিষ মদে সম্প্রতি বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়। তারপরই চলতি আইনের পরিবর্তনের দাবি ফের জোরালো হয়।

কিন্তু মহিলাদের স্বার্থ রক্ষার কথা বলে নীতীশ কুমার আইন শিথিল করতে রাজি ছিলেন না। তাঁর বক্তব্য, মদ আসলে পুরুষের প্রিয় এবং মহিলাদের শত্রু। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় সায় দিয়েও বিরোধী দলগুলির বক্তব্য ছিল, নীতীশ কুমার আসলে মহিলাদের ভোটের কথা মাথায় রেখে এমন অবাস্তব আইন নিয়ে লড়ে যাচ্ছেন।

প্রধান বিচারপতির বিরূপ মন্তব্যের পর সরকার আইন বদল করতে চলেছে বলে বিহার প্রশাসন সূত্রের খবর। প্রথমবার মদ খাওয়া, বহন, বিক্রির অভিযোগে ধরা পড়লে জরিমানা দিয়েই মিলবে রেহাই। জরিমানার অঙ্ক সরকার ঠিক করবে। দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে গ্রেফতারের পাশাপাশি জরিমানার বিধানও রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ দ্বিতীয়বার অপরাধ করলে অপরাধের চরিত্র বুঝে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত হবে। চেষ্টা হবে চড়া হারে জরিমানা নিয়ে রেহাই দেওয়ার। এছাড়া এই সংক্রান্ত মামলায় জামিনের সুযোগও থাকবে। জামিন মঞ্জুর করতে পারবেন প্রশাসনিক ম্যাজিস্ট্রেটরাও।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like