Latest News

ভোটমুখী রাজ্যে নির্মলার বাজেট হবে জেটলির প্রস্তাবের জেরক্স, আশা বিজেপির, আশঙ্কা বিরোধীদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশ সহ পাঁচ রাজ্যের ভোটের ১০ দিন আগে কেন্দ্রীয় সরকারের ২০২২- ২০২৩ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ঘটনাচক্রে পাঁচ বছর আগে ২০১৭- তে দেশের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিও বাজেট পেশ করেছিলেন উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, গোয়া ও মণিপুরের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরুর দশ দিন আগেই। নির্মলা এবার বাজেট পেশ করবেন ১ ফেব্রুয়ারি। পাঁচ বছর আগে অরুণ জেটলি পেশ করেছিলেন ওই একই দিনে। মোদী সরকার ক্ষমতায় এসে ১ ফেব্রুয়ারি প্রতি বছর কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হবে বলে সিদ্ধান্ত করে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, সীতারামন তাঁর পূর্বসুরী প্রয়াত অরুণ জেটলির বাজেট প্রস্তাবকেই এবার অনুসরণ করতে পারেন, দলের স্বার্থে। বস্তুত বিজেপির সেটাই প্রত্যাশা এবং বিরোধীদের আশঙ্কা কেন্দ্রীয় বাজেটকে হাতিয়ার করে বিজেপি শেষ মুহূর্তে বাজিমাৎ করার চেষ্টা করবে। পাঁচ বছর আগে গেরুয়া শিবির এই কৌশলী নিয়েছিল।

প্রয়াত জেটলির পাঁচ বছর আগের বাজেট প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, সেবার অর্থমন্ত্রী পাঁচ রাজ্যের ভোটের দলের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। যা থেকে অনেকেই মনে করছেন এবার নির্মলাও দলের স্বার্থ রক্ষায় অরুণ জেটলির পথ অনুসরণ করবেন।

কী সেই পথ? অরুণের বাজেট মুখ্যত ছিল গ্রামোন্নয়নের কথা। গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামে পরিকাঠামো গড়ার করার কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন কৃষির উন্নয়নে বিপুল বরাদ্দের কথা। একই সঙ্গে ছিল গ্রামীণ কর্মসংস্থানের কথা। আবার গ্রামের গৃহহীনদের বাসস্থান যোগানোর প্রতিশ্রুতি ছিল অরুণের বাজেটে। এক কোটি গৃহহীনকে বাসস্থান জোগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

জানা যায়, ভোটমুখী পাঁচ রাজ্যের মধ্যে অন্তত চার রাজ্য উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব এবং মণিপুরে দলের স্বার্থ রক্ষায় বাজেটের অভিমুখ করেছিলেন গ্রাম। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য উত্তরপ্রদেশ, যেখানে দল বিশেষ সুবিধা পায় ওই রাজ্যের অর্থনীতি পুরোপুরি গ্রাম ও কৃষি নির্ভর হওয়ায়। অরুণের বাজেটে বিজেপির মুখরক্ষা হয় সেবার। ক্ষমতায় আসে দল।

একই কথা প্রযোজ্য উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, মণিপুরের ক্ষেত্রেও। এরমধ্যে পাঞ্জাবে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। বাকি দুই রাজ্যে সরকার গড়ে বিজেপি। আবার কৃষিকে অগ্রাধিকার দেওয়া বাজেটে খনি শিল্পের বিকাশের কথা ছিল গোয়ার স্বার্থ রক্ষায়, যা ওই রাজ্যের অর্থনীতির অন্যতম কাঠামো।

ফলে অনেকেই মনে করছেন যে এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটও হবে ভোটমুখী পাঁচ রাজ্যের কথা ভেবে। আর গ্রামীণ বাজেট বরাবরই জনপ্রিয় তকমা পেয়ে থাকে। যা থেকে বিজেপি অনেকটা সুবিধা পেতে পারে, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

ঘটনাচক্রে সেবারও নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী পাঁচ রাজ্যে ১০ ফেব্রুয়ারি বিধানসভা নির্বাচনের সূচনা হয়েছিল। এবার ভোট ঘোষণার দিনই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল চন্দ্রকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটের দিকে কি নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নজর থাকবে? পাঁচ রাজ্যের ভোটের প্রেক্ষিতে কমিশন কি বাজেট পেশের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারকে কোন পরামর্শ দেবে?

কারণ নিয়ম অনুযায়ী ভোট ঘোষণার পর থেকেই আদর্শ আচরণবিধি চালু হয়ে গিয়েছে। ফলে বাজেটে কোন ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সম্ভব নয়।

পূর্বসূরীদের মতোই সুনীল চন্দ্র জানিয়ে দেন কমিশন বাজেটের ব্যাপারে কোনও রকম হস্তক্ষেপ করবে না। তাঁর বক্তব্য ছিল, বাজেট হল সরকারের সংসারের আয়-ব্যয়ের হিসাব। এটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। নির্বাচন কমিশন কীভাবে সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে?

সুনীল চন্দ্র যথার্থ উত্তর দিয়েছেন বলে মনে করেন রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞে মহল। ফলে পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপির বাজেটকে হাতিয়ার ভোটারদের প্রভাবিত করার সুযোগ থাকছে।

You might also like