Latest News

বাচ্চাদের শরীরেও তৈরি হচ্ছে অ্যান্টিবডি, দু’বছরের শিশুকেও সুরক্ষা দেবে কোভ্যাক্সিন: এইমস প্রধান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভ্যাক্সিন টিকা বাচ্চাদের শরীরে কতটা কার্যকরী হবে সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আসার আগেই শিশুদের সুরক্ষা দিতে তৎপর কেন্দ্রীয় সরকার। খুব দ্রুত বাচ্চাদের জন্যও ভ্যাকসিন নিয়ে আসার চেষ্টা শুরু হয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এর প্রধান ডক্টর রণদীপ গুলেরিয়া বলেছেন, শিশুদের শরীরেও কার্যকরী হবে দেশের তৈরি কোভ্যাক্সিন। ২ বছরের শিশুর শরীরে ভ্যাকসিনের ডোজে কতটা রোগ প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হবে তা আগামী ২-৩ মাসের মধ্যেই বোঝা যাবে।

দেশে এখন বাচ্চাদের জন্য ভ্যাকসিন নিয়ে আসার চেষ্টা করছে ভারত বায়োটেক। ফাইজারের টিকাও শিশুদের জন্য রয়েছে তবে তা ১২ বছরের উর্ধ্বে। ২ বছরের ওপর থেকে শিশুদের জন্য একমাত্র কোভ্যাক্সিন টিকাই আসতে পারে দেশে। তার জন্য প্রস্তুতি চলছে। পাটনা এইমসে ২ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের ওপর কোভ্যাক্সিন টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হতে চলেছে। তার জন্য রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২৮ মে থেকে শিশু ও কমবয়সীদের শরীরে দেশের তৈরি কোভ্যাক্সিন টিকার ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে। তিন ক্যাটেগরিতে ভাগ করে ট্রায়াল করা হবে। প্রথমটা ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী, দ্বিতীয় ধাপে ৬ থেকে ১২ বছর ও তৃতীয় ধাপে ২ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের ওপরে টিকার ট্রায়াল হবে।

এইমস প্রধান বলছেন, এখনও অবধি ক্লিনিকাল ট্রায়ালে যে ৫০-৬০ জন বাচ্চাকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে তাদের প্রত্যেকের শরীরেই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক বেড়েছে। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ভাইরাসের যে কোনও সংক্রামক প্রজাতি থেকেই সুরক্ষিত থাকবে শিশুরা। বরং তৃতীয় ঢেউতে শিশুদের সংক্রমণ বেশি হবে এমনটা ভাবা ঠিক নয়।

ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)-এর কাছে কোভ্যাক্সিন টিকার তৃতীয় বা চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়াল রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। এই রিপোর্টে বলা হয়েছে দেশের ২৫ হাজার ৮০০ জন স্বেচ্ছাসেবকের ওপরে টিকার তৃতীয় স্তরের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করে দেখা গেছে তা ৭৭.৮ শতাংশ কার্যকরী। টিকার ডোজে কোনওরকম গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি বলেও দাবি করেছে হায়দরাবাদের এই ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি।

কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়লে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি ছড়াতে পারে বলে আগে থেকেই সতর্ক করা হচ্ছে। তাই খুব তাড়াতাড়ি শিশুদের টিকার ডোজ দেওয়ার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় প্যানেল। শিশু ও কমবয়সীদের শরীরে ভ্যাকসিনের পেডিয়াট্রিক ট্রায়াল করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে ভারত বায়োটেককে। সংস্থার প্রধান ডক্টর কৃষ্ণা এল্লা আগেই বলেছেন, টিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। প্রতি পর্বের ট্রায়ালের পরে সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্ট জমা করা হবে। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে টিকার সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিয়ে কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল সবুজ সঙ্কেত দিলেই দেশের বাজারে শিশু ও কমবয়সীদের জন্য ভ্যাকসিনের ডোজ চলে আসবে। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই শিশুদের জন্য কোভ্যাক্সিন টিকা চলে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

You might also like