Latest News

করোনা সংক্রমণ আটকাতে কন্টেইনমেন্ট সম্ভব, কিন্তু সাফল্য নিশ্চিত নয়, জানাল স্বাস্থ্যমন্ত্রক

সবটাই সংক্রমণ রোখার একটা পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে একটা দেওয়াল তোলা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত কতটা সংক্রমণ আটকানো যায়, তার কোনও নির্দিষ্ট পরিমাপ নেই বলেই জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা সংক্রমণ রোখার জন্য দেশজুড়ে কন্টেইনমেন্ট এলাকা চিহ্নিত করেছে কেন্দ্র। সংক্রমণ রুখতে এই কন্টেইনমেন্ট এলাকা চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও তার মাধ্যমে কতটা সংক্রমণ রোখা যায়, তা অবশ্য নিশ্চিত নয়। কারণ এই সংক্রমণ মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। শনিবার এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সংক্রমণের সম্ভাবনা কিছুটা কমাতে কেমোপ্রফিল্যাক্সিস ও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ড্রাগের কথা বলা হলেও এখনও পর্যন্ত এই সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার কোনও ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি।

শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, “এই ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। তাই কন্টেইনমেন্ট করা হলেও তা কতটা ফলপ্রসূ হবে তার নিশ্চয়তা নেই। তবে গাণিতিক মডেল বলছে কন্টেইনমেন্ট পদ্ধতি অবলম্বন করা সম্ভব।”

সরকারের তরফে কন্টেইনমেন্ট পদ্ধতিতে বেশি সংক্রমণ যুক্ত ক্লাস্টারগুলিকে চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে। যদি এভাবে ক্লাস্টারগুলিকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে এই সংক্রমণের চেন-কে ভাঙা সম্ভব হবে বলে ধারণা। তাহলে সেই ক্লাস্টারের বাইরে তো বটেই, ভিতরেও সংক্রমণ ছড়ানো আটকানো সম্ভব।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, “প্রতিটি রাজ্যকে বলা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা কমিটি ও ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে এই ক্লাস্টারগুলিতে নজর রাখার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।”

আরও পড়ুন কলকাতা, হাওড়া-সহ দেশের ৩০ পুর এলাকায় কড়া নজরদারির নির্দেশ কেন্দ্রের

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, বড় এলাকাকে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত করলে একাধিক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কারণ, সেখানে সব জায়গায় সমান সংক্রমণ হয়নি। ফলে যেখানে সংক্রমণ কম, সেখানেও অতিরিক্ত কড়াকড়ি করা হচ্ছে। এতে আখেরে বিশেষ কিছু লাভ হচ্ছে না। এছাড়া বড় এলাকা হলে সেখানে নজরদারি চালানোর ক্ষেত্রেও অনেক সমস্যা হয়। অন্যদিকে যদি কোনও এলাকাকে ছোট ছোট ক্লাস্টারে ভাগ করে নজরদারি চালানো হয়, তাহলে তা যেমন একদিকে সহজ, অন্যদিকে তা কার্যকর।

ক্লাস্টার এলাকায় কী ভাবে নজরদারি চালানো সম্ভব, তার কথাও জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। জানানো হয়েছে, এই এলাকাগুলিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, বাড়ি বাড়ি পর্যবেক্ষণ, নমুনা পরীক্ষা, উপসর্গ দেখলেই হোম কোয়ারেন্টাইন, আক্রান্তদের আইসোলেশন প্রভৃতি পদক্ষেপ নিতে হবে। তবেই ছোট ক্লাস্টারগুলিকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।

তবে সবটাই সংক্রমণ রোখার একটা পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে একটা দেওয়াল তোলা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত কতটা সংক্রমণ আটকানো যায়, তার কোনও নির্দিষ্ট পরিমাপ নেই বলেই জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

You might also like