Latest News

ভয়ের সঙ্গে চোখে ছিল বাঁচার অসম্ভব আকুতি, চাউনিটা ভুলতে পারছি না

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভরা বাজারের মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ছিল একুশ বছরের মেয়েটা। বুঝতে পারছিল, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে সব। তাও হারতে রাজি ছিল না সে। আশেপাশের সকলের দিকেই করুণ আর্তি নিয়ে তাকিয়েছিল শেষবারের মতো। যদি কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যু হয় তরুণীর।

তবে একুশ বছরের প্রীতি মাথুরের জলভরা চোখের শেষ চাউনিটা ভুলতে পারছেন না ৫৩ বছরের গিরি লাল।

ঘটনাস্থল দিল্লির ভোগাল মার্কেট

শুক্রবার সন্ধ্যায় এই বাজারের মধ্যেই ২৫ বছরের মহম্মদ মুনাসিরের হাতে আক্রান্ত হন প্রীতি। পরপর ৮ বার ছুরি দিয়ে প্রীতিকে কুপিয়ে মারাত্মক ভাবে জখম করে মুনাসির। সন্ধেবেলা বাজারে তখন চারপাশে রয়েছে অসংখ্য খদ্দের। ঘটনার আকস্মিকতায় চমকে যান দোকানদার থেকে ক্রেতা, সকলেই। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন প্রীতি। সাড়ে সাত কিলোমিটার দূরে এইমসের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে তরুণীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

তবে বেঁচে থাকার জন্য বড্ড আকুতি ছিল প্রীতির চোখে। সেটাই দেখেছিলেন স্থানীয় দোকানদার গিরি লাল। ভুলতে পারছেন না সেই চাউনিই। বারবার বলছেন, “মেয়েটা চেয়েছিল আমরা ওকে বাঁচাই। ভয় ছিল ওর চোখে। সঙ্গে ছিল বাঁচার জন্য অসম্ভব জেদ, আকুতিও। ওর চাউনিটা ভুলতে পারছি না কিছুতেই।”

ঘটনার পরেই অবশ্য আততায়ীকে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। পুলিশ এলে তাকে তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে। আততায়ী মহম্মদ মুনাসিরের কঠোর শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন সকলেই।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রীতি মাথুর এবং মহম্মদ মুনাসির দু’জনেই প্রতিবেশী। প্রায় এক বছর ধরে একে অন্যকে চেনেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের মধ্যে বেশ সখ্যও ছিল। কিন্তু হঠাৎই চিড় ধরে সম্পর্কে। নিজেকে ধীরে ধীরে মুনাসিরের থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন প্রীতি। তাই রাগের বশেই এ ভাবে প্রকাশ্যে তরুণীকে কুপিয়ে খুন করেছে মহম্মদ মুনাসির। পুলিশের দাবি, আততায়ী নিজেই তাদেরকে এ কথা জানিয়েছে।

তবে একেবারে অন্য কথা বলছে প্রীতির পরিবার 

পুলিশকে প্রীতির ভাই জানিয়েছেন, তাঁর বোনের সঙ্গে যে মুনাসিরের কোনও সম্পর্ক ছিল এমন কথা জানতেন না কেউই। বরং দিন ১৫ আগে মত্ত অবস্থায় প্রীতির বাড়ির সামনে এসে চিৎকার-চেঁচামেচি করে মুনাসির। এই নিয়ে মুনাসিরের বাড়িওয়ালার কাছে অভিযোগও জানিয়েছিল প্রীতির পরিবার। যার জেরে মুনাসিরকে ওই বাড়ি ছাড়তে হয়। প্রীতির ভাই আরও বলেছেন যে, ঘটনার দিন মুনাসিরের আচরণ দেখে যথেষ্টই বিরক্ত ছিলেন প্রীতি। তাঁকে চলে যেতেও বলেছিলেন সেখান থেকে।

চার ভাইয়ের সঙ্গে দিল্লির সরাই কালে খান এলাকায় থাকতেন প্রীতি। পুলিশ জানিয়েছে, আয়ার কাজ করতেন তিনি। শুক্রবার সন্ধে সাড়ে ছ’টা নাগাদ কাজ থেকে বাড়ি ফেরার সময়েই ওই বাজারের মধ্যে আক্রান্ত হন তিনি। সেই সময়েই প্রীতিকে দেখতে পান দোকানদার গিরি লাল। তিনি বলেন, “হঠাৎ দেখলাম ফুটপাথ দিয়ে দৌড়চ্ছে একটা মেয়ে। চিৎকার করছে বাঁচাও বাঁচাও। কিছু বোঝার আগে দেখি একটা ছেলে এসে ওকে ছুরি মারতে শুরু করল। পরপর দু থেকে তিনবার। আশেপাশের লোক মেয়েটাকে বাঁচাতে এগোতে যাবে, তখনই ছুরি উঁচিয়ে হুমকি দিল ছেলেটা। তারপর আবার মেয়েটাকে কোপাতে শুরু করল।” গিরি লাল আরও বলেন, “মেয়েটাকে মারার সময় ছেলেটা বারবার বলছিল এই মেয়ে নাকি ওর জীবন শেষ করে দিয়েছে। ওর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।”

চোখের সামনে প্রীতির ওরম অবস্থা দেখে একটা কাঠের ঝুড়ি ছুড়ে দিয়েছিল একজন। সেটাকেই ঢাল করে ছুরির আঘাত থেকে বাঁচতে চেয়েছিলেন তরুণী। কিন্তু মুনাসিরের প্রবল আক্রোশের মুখে দাঁড়াতে পারেননি। তাঁর নিজের মেয়ের বয়সী একজন এ ভাবে অত্যাচারিত হচ্ছে। আর সহ্য হয়নি গিরি লালের। পাশের একটা দোকান থেকে ঝাঁটা তুলে তিনি এগিয়ে যান মুনাসিরের দিকে। বার কয়েক ঘা-ও বসান মুনাসিরের গায়ে। উল্টে তাঁকেই ছুরি মেরে বসে মুনাসির। তবে সে চোট সামান্যই। এর মধ্যেই বাজারের বাকি লোকজন জড়ো হয়ে পাকড়াও করে মুনাসিরকে। খানিক মারধরের পর তাকে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে।

You might also like