Latest News

অমিত-মন্ত্রকের নিশানায় এবার জন্ম-মৃত্যু তথ্যপঞ্জি, শঙ্কা নজরদারির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত আইনে (রেজিস্ট্রেশন অফ বার্থস অ্যান্ড ডেথস অ্যাক্ট, ১৯৬৯) বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, এই প্রথম দেশে জন্ম-মৃত্যুর জাতীয় রেজিস্টার তৈরি হতে চলেছে। সেই জাতীয় রেজিস্টারের ভিত্তিতে ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার, ভোটার তালিকা, আধার তালিকা, পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সধারীর জাতীয় তালিকায় নির্দিষ্ট সময় অন্তর সংশোধন করবে কেন্দ্রীয় সরকার। জন্ম-মৃত্যুর খবর যিনি সরকারি দফতরে নথিভুক্ত করাবেন, তার অর্থাৎ অভিভাবক, পরিবারের সদস্য, পরিজন প্রমুখের আধার নম্বরও সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্রে আগামীদিনে উল্লেখ করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট আইনটিতে গুচ্ছ সংশোধনী আনতে চলেছে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

সংশোধনী প্রস্তাবগুলি দেখে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, জন্ম-মৃত্যুর তথ্যপঞ্জিও নাগরিকের উপর নজরদারিতে সরকারের আর একটি হাতিয়ার হতে চলেছে। ১৯৬৯ সালে আরবিডি অ্যাক্ট চালুর পর থেকে এমন ব্যাপক সংশোধনী আর হয়নি। এই ব্যাপারে মতামত চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সংশ্লিষ্ট কমিটির সাংসদদের মধ্যে সংশোধনীর খসড়া বিলি করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনে রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার অফিস জনগণনার পাশাপাশি জন্ম-মৃত্যু নথিভুক্তির কাজও দেখাশোনা করে থাকে। কিন্তু জন্ম-মৃত্যুর কোনও জাতীয় তথ্যপুঞ্জি এখনও দেশে নেই। রাজ্যভিত্তিক তথ্য রাজ্য সরকারগুলির হেফাজতে থাকে। আইন সংশোধন করে এবার রাজ্যের চিফ রেজিস্ট্রারকে নিয়মিত জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য জাতীয় তথ্যভাণ্ডারে নথিভুক্ত করতে হবে। রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া জাতীয় স্তরে তথ্যপঞ্জি সংরক্ষণ করবেন এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেই তালিকা মিলিয়ে ভোটার তালিকা, আধার তালিকা, ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্ট্রার, রেশন কার্ড, পাসপোর্ট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সধারীর তালিকা সংশোধন করবেন।

সরকারি পদাধিকারীদের একাংশে বক্তব্য, এরফলে স্বচ্ছতা রক্ষার পাশাপাশি নাগরিকের উপর পরোক্ষ নজরদারীও সহজ হয়ে যাবে। যেমন, আধার তালিকা নতুন সংযোজিত নামগুলি জন্মতালিকায় আছে কিনা দেখে নেওয়া সহজ হবে। আবার মৃতের তালিকা দেখে কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি ভোটার তালিকা, রেশন কার্ডধারীর তালিকা থেকে নামগুলি বাদ দিয়ে দিতে পারবে। একইভাবে পাসপোর্ট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকেও মৃতের নাম বাদ দিয়ে দিতে পারবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এ জন্য আইনের সংশোধনী জরুরি।

অনেকেই মনে করছেন, স্বচ্ছাতা রক্ষার পাশাপাশি পরোক্ষে নাগরিকের উপর নজরদারিও এর ফলে সহজ হয়ে যাবে।

২০০৩-এর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বলে ২০১০-এ দেশে প্রথম ন্যাশনাল পপুলেশ রেজিস্টার তৈরি হয়। ২০১৫-সালে তা প্রথমবার পরিমার্জন, নতুন নাম সংযোজন করা হয়। চলতি বছরে জনগণনার সময় সেই তালিকা আরও একবার সংশোধন করার পরিকল্পনা ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের। দ্বিতীয়বার সংশোধনের সময় তালিকায় প্রত্যেক নাগরিকের মাতৃভাষা, জন্মস্থান, বর্তমান বাসস্থান, ঠিকানা বদল হয়ে থাকলে আগের ঠিকানা এবং বাবা ও মায়ের জন্মস্থানের ঠিকানা যুক্ত করার কথা। করোনার কারণে সেই কাজ এবং জনগণনা দুই-ই আটকে গিয়েছে। কিন্তু আপত্তি উঠলেও।কেন্দ্র সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি।

এনপিআর-এর জন্য বাবা ও মায়ের জন্মস্থান জানতে চাওয়ার মধ্যে সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। তাদের বক্তব্য, দেশভাগের শিকার পরিবারগুলি এর ফলে সমস্যায় পড়তে পারে। কারণ, সঠিক তথ্য দেওয়ার পর নথিপত্র চাইলে সমস্যায় পড়বেন অনেকেই। বেশিরভাগের কাছেই উপযুক্ত নথি নেই। আবার এনপিআর-কে ভিত্তি করেই সারা দেশে এনআরসি বা ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেন বা নাগরিক পঞ্জী তৈরি হওয়ার কথা। অর্থাৎ সরাসরি নাগরিকত্বের বিষয়টিও এবার জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে।

রেজিস্ট্রেশন অফ বার্থস অ্যান্ড ডেথস সংক্রান্ত আইন সংশোধন করে সরকার এনপিআর-ও সময় সময় সংশোধন করবে। সব মিলিয়ে নাগরিকত্ব এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি সংক্রান্ত তথ্যপঞ্জিকে এক সূত্রে গাঁথার কাজ এবার চূড়ান্ত করার পথে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের সরকার।

পাশাপাশি নতুন পদ সাব-রেজিস্ট্রার তৈরির বিধান রাখা হচ্ছে আইনে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জন্ম-মৃত্যু নতুন করে নথিভুক্ত করার কাজ করবেন সাব-রেজিস্ট্রারেরা।

You might also like