Latest News

মোদীর সোশ্যাল সন্ন্যাস! ফেসবুক, টুইটারে হাসি, টিপ্পনী, কৌতূহলের স্রোত

একদিকে যেমন রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্জি, যাতে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ছেড়ে না যান, তেমনই রয়েছে টিপ্পনী। আবার কেউ পুরো ব্যাপারটাকেই রাজনৈতিক গিমিক বলতে চাইছেন।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝেমধ্যেই তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘ম্যায় তো ফকির হুঁ জি, ঝোলা লেকর চলে জায়েঙ্গে’। কিন্তু সেকথা অন্য প্রসঙ্গে বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর আজ যখন মোদী বললেন তিনি ‘সোশ্যাল সন্ন্যাস’ নিতে চান, তখন ফেসবুক, টুইটারে হাসি, কৌতুক, মজা এবং কৌতূহলের স্রোত বয়ে গেল। কেউ টিপ্পনী করলেন, আর কেউ সন্দেহ করছেন যে এটাও সোজা ভাবে নেওয়া ঠিক নয়, এর ভেতরেও নিশ্চয় প্যাঁচ আছে। তার মধ্যে যেমন রাজনৈতিক নেতারা রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন দেশের সাধারণ মানুষও।

সোমবার সন্ধেবেলা মোদীর এই টুইটের পরেই শুরু হয়েছে রিটুইট ও কমেন্টের বন্যা। তার মধ্যে একদিকে যেমন রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্জি, যাতে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ছেড়ে না যান, তেমনই রয়েছে টিপ্পনী। আবার কেউ পুরো ব্যাপারটাকেই রাজনৈতিক গিমিক বলতে চাইছেন। তাঁদের বক্তব্য, রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া ত্যাগ করার কথা বলেছেন মোদী। সেদিন নিশ্চয় ‘মন কি বাত’ কিংবা অন্য কোনও অনুষ্ঠানে কিছু বলবেন মোদী। তারই হয়তো আগাম প্রস্তুতি স্বরূপ এই টুইট করলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই টুইটের পরে একটা অংশের বক্তব্য, মোদী জননেতা। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই দেশের মানুষ তাঁর কথা জানতে পারেন। তাহলে কেন সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়ছেন তিনি। একজন তো আবার লিখেছেন, মোদীজি ও ভারত মাতাজি এই মুহূর্তে সমার্থক। এইসময় এই সিদ্ধান্ত যেন তিনি না নেন। কেউ আবার বলেছেন, মোদীকে দেখেই তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার শুরু করেছেন। তাই তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ছেড়ে গেলে খুবই কষ্ট হবে তাঁদের। মোদ্দা কথা হল, এঁরা চাইছেন প্রধানমন্ত্রী যেন তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

আর একটা অংশের মনে আবার জমেছে অনেক প্রশ্ন। কী কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন। কেউ বলছেন, নিশ্চয় এর পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে। হঠাৎ করে কেন সোশ্যাল মিডিয়া ত্যাগ করবেন মোদী। কেউ আবার বলছেন, দিল্লির হিংসার পরে দিল্লি পুলিশ বলেছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই ঘটনার ব্যাপারে ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে। সেই খবরে যেন কেউ কান না দেয়। তাহলে কি সেটাই মোদীর সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়ার কারণ।

অন্যদিকে আর একটা অংশ এই ঘটনা নিয়েও শুরু করেছে রসিকতা। তাঁদের বক্তব্য। মোদীজি যাই করুন না কেন, তাতেই অনেক রকমের মজার মিম তৈরি হয়। সে তাঁর মোতেরাতে ভাষণ দেওয়াই হোক, কিংবা বেয়ার গ্রিলসের সঙ্গে ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’এর শ্যুটিং। এবারেও অনেক মজার মিম বানানোর ব্যবস্থা তিনি করে দিলেন।

মোদীর এই টুইট নিয়ে সাধারণ মানুষ যেভাবেই ভাবুক না কেন, সবার মনে কিন্তু একটা প্রশ্ন রয়েই গিয়েছে। যে মানুষটি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনই সোশ্যাল মিডিয়ায় হাত পাকিয়েছেন, বিদেশের অনেক সেলিব্রিটির ফলোয়ার যাঁর থেকে কম, যিনি প্রতি মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাক্টিভ থাকেন, তিনি হঠাৎ করে এমন একটা কথা কেন বললেন। সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন রবিবারের। সেদিনই তো পর্দা উঠবে।

You might also like