Latest News

তিন মাস ইএমআই স্থগিত, উপরি বাড়ি, গাড়ি, ব্যবসার ঋণের উপর সুদ কমানোর ইঙ্গিত

তবে এসব সত্ত্বেও বাজারে মুদ্রাস্ফীতির হার যে বাড়তে পারে এবং বৃদ্ধির হার কমতে পারে সে ব্যাপারে এদিন উদ্বেগের কথা শুনিয়েছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর। তিনি বলেন, চলতি অর্থবর্ষে বৃদ্ধির দর কী হতে পারে সে ব্যাপারে পরে ঘোষণা করা হবে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজোড়া মহামারী যখন তীব্র অর্থনৈতিক মন্দার অশনিসংকেত দিচ্ছে, তখন ঘরোয়া অর্থনীতিতে ঝড় সামলাতে শুক্রবার বড় রকমের দাওয়াই দেওয়ার চেষ্টা করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তার মধ্যে অবশ্যই বড় সিদ্ধান্ত হল আপাতত তিন মাস ইএমআই পেমেন্টের উপর মোরাটোরিয়াম ঘোষণা করা। অর্থাৎ বাড়ি, গাড়ি, ব্যবসার ঋণের জন্য যে সহজ মাসিক কিস্তি দিতে হয় তা আগামী তিন মাস স্থগিত রাখা হল। মানে পিছিয়ে দেওয়া হল। কিন্তু একই সঙ্গে বাজারে টাকার জোগান বাড়াতে রেপো রেট এক ধাক্কায় ৭৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এর ফলে গাড়ি, বাড়ি, ব্যবসার জন্য ঋণের উপর সুদের হার কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, রেপো রেট কমায় ব্যাঙ্কগুলি সুদের হার কমিয়ে আরও বেশি ঋণ দেওয়ার পরিসর পেয়ে গেল।

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যে হারে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে টাকা ধার দেয় তাকে বলা হয় রেপো রেট। এ দিন রিভার্স রেপো রেটও ৯০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। কমার্শিয়াল ব্যাঙ্কগুলি থেকে যে হারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক টাকা নেয় তাকে বলা হয় রিভার্স রেপো রেট। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর বলেন, রিভার্স রেপো রেটও কমানো হল যাতে ব্যাঙ্কগুলি ঘুর পথে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে টাকা জমা না রাখে। বরং আরও বেশি ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রাসী হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মূল লক্ষ্যই হল এখন বাজারে টাকার জোগান বাড়ানো।

এদিন সকাল ১০ টায় সাংবাদিক বৈঠক করেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। তবে তার আগে থেকেই ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়ে তুলনায় তেজি হয় বাজার। শেয়ার বাজারের সূচক ওই সাংবাদিক বৈঠকের আগেই এক হাজার পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।

শক্তিকান্ত দাস বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ গোটা বিশ্বে মন্দার পরিস্থিতি অনিবার্য করে তুলেছে। ভারতও সেই ছোঁয়াচ এড়াতে পারবে না। এর প্রভাব ঘরোয়া অর্থনীতিতেও পড়তে বাধ্য। সেই কারণেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মনিটরি পলিসি কমিটি স্থির করেছে বাজারে অর্থের যোগান বাড়ানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করা হবে। সেই সঙ্গে ঋণের টাকা ফেরতের শর্ত কিছুটা শিথিল করা হবে। যাতে কার্যকরী মূলধনের অভাব না হয়। শক্তিকান্ত দাস আরও জানান, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এদিন যে সব পদক্ষেপ করেছে তাতে বাজারে ৩ লক্ষ ৭৪ হাজার কোটি টাকার জোগান বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে।

তবে এসব সত্ত্বেও বাজারে মুদ্রাস্ফীতির হার যে বাড়তে পারে এবং বৃদ্ধির হার কমতে পারে সে ব্যাপারে এদিন উদ্বেগের কথা শুনিয়েছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর। তিনি বলেন, চলতি অর্থবর্ষে বৃদ্ধির দর কী হতে পারে সে ব্যাপারে পরে ঘোষণা করা হবে।

যদিও এদিনই রেটিং সংস্থা মুডিজ জানিয়েছে, ভারতে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার করোনার ধাক্কায় আরও কমে যেতে পারে। তা হতে পারে মাত্র ২.৫ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, এমনিতেই বাজারে চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় বৃদ্ধি কম হবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছিল। বিভিন্ন রেটিং সংস্থা আন্দাজ করছিলেন তা হতে পারে কমবেশি ৫ বা ৬ শতাংশ। করোনা-ধাক্কায় সেটাই কমে এবার তলানিতে ঠেকতে পারে।

You might also like