Latest News

করোনা নিয়ে ভাবুন, বাকি সব পরে করলেও হবে, রামমন্দির নিয়ে বিজেপি-কংগ্রেসকে এক সারিতে এনে কটাক্ষ বিজয়নের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। অথচ তার মাঝেই বুধবার মহা ধুমধাম করে অযোধ্যায় হয়েছে ভূমিপুজো। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিজে হাতে ভূমিপুজোতে প্রধান ভূমিকা নিয়েছেন তিনি। এই উৎসব উপলক্ষ্যে সেজে উঠেছিল অযোধ্যা। এই ভূমিপুজো ও রামমন্দিরের নির্মাণকে সমর্থন জানিয়েছে কংগ্রেসও। আর তাই বিজেপি ও কংগ্রেসকে একই সারিতে দাঁড় করালেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের সামনে রামমন্দিরের ভূমিপুজো নিয়ে মন্তব্য করেন বিজয়ন। তিনি বলেন, “সিপিএম নিজেদের চিন্তাভাবনা স্পষ্ট করে দিয়েছে। আমার আর সেটা বলার দরকার নেই। আমাদের দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৯ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছে। আমাদের চিন্তা করা উচিত কী ভাবে এই সংক্রমণকে রোখা যায়। অনেকেই রয়েছেন যাঁরা এই সংক্রমণের জন্য গরিবি রেখার নীচে নেমে গিয়েছেন। বাকি সব পরে ভাবলেও চলবে।”

কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া এই রামমন্দিরের নির্মাণকে সমর্থন করেছেন। এই প্রসঙ্গে বিজয়নের প্রতিক্রিয়া জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এতে তিনি নাকি বিন্দুমাত্র অবাক হননি। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর বক্তব্যে অবাক হইনি। এতে আপনাদেরও অবাক হওয়া উচিত নয়। আমরা সবাই জানি এই প্রসঙ্গে কংগ্রেসের অবস্থান ঠিক কোথায় ছিল। রাজীব গান্ধী ও নরসিমা রাওয়ের অবস্থান ঠিক কোথায় ছিল। তাঁদের প্রতিক্রিয়া বর্তমানে ইতিহাসের অঙ্গ।”

পিনারাই বিজয়ন আরও বলেন, “যদি কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষতার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলত তাহলে ভারতে এই পরিস্থিতি তৈরিই হত না। কংগ্রেস সবসময় ‘নরম হিন্দুত্ব’ মেনে চলেছে। যখন সংঘের সদস্যরা বাবরি মসজিদ ভাঙতে যাচ্ছিল তখন কে অন্ধ হয়ে কোনও পদক্ষেপ না নিয়ে বসেছিল?”

বুধবার অযোধ্যায় রামমন্দিরের ভূমিপুজোর আগে উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া টুইট করে বলেন, “দীনবন্ধু রামের নামে রয়েছে সরলতা, সাহস, ত্যাগ, সংবরণ, প্রতিশ্রুতি। রাম সবার সঙ্গেই রয়েছেন। ভগবান রাম ও মা সীতার আশীর্বাদ নিয়ে রাম লাল্লার এই ভূমিপুজো অনুষ্ঠান দেশের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সংস্কৃতির পরিচয় দেয়।”

টুইট করে রামমন্দির নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থানের সমর্থনে বলেন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। তিনি বলেন, “এটা পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত, অযোধ্যায় রামমন্দিরের নির্মাণের বিরোধিতা কোনও দিনই করেনি কংগ্রেস। কিন্তু বাবরি মসজিদের ধ্বংসের বিরোধিতা করেছিল। ১৯৮৯ সালে রাজীব গান্ধী বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে কাছাকাছি এক এলাকায় শিলান্যাস করার কথা বলেছিলেন।”

শশী থারুর আরও বলেন, “রাজীব গান্ধী মসজিদের তালা খোলার নির্দেশ দেননি। ফৈজাবাদের জেলা বিচারক ১৯৮৬ সালে সেই নির্দেশ দেন। কিন্তু কিছু বামপন্থী নেতা কংগ্রেসকে বিজেপির সমর্থক বলছেন। হ্যাঁ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে অনেক কংগ্রেস নেতা রামমন্দিরকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা কখনওই মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিন্দুদের উস্কাননি। কখনওই মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করেননি। তাঁরা রামের আদর্শের কথা বলেছেন।”

You might also like