Latest News

কোভিশিল্ডের দুটি ডোজের মধ্যে লম্বা ব্যবধান কি কমবে? কেন্দ্র বলল এখনই তাড়াহুড়োর দরকার নেই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভ্যাকসিনের দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান অনেকদিনের হলে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়বে। শুক্রবার আমেরিকার মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডক্টর অ্যান্থনি ফৌজির বক্তব্যের পরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে ভারতে অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় তৈরি কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে কী করা উচিত। এই টিকারও দুটি ডোজের মধ্যে সময়ের অন্তর অন্তত তিন থেকে চার মাসের। লাগাতার প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন জানিয়েছেন, এখনই এত তাড়াহুড়োর দরকার নেই। যা করা হবে ভেবেচিন্তে বৈজ্ঞানিক গবেষণার রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই করা হবে।

কেন্দ্র যতই পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানাক, নীতি আয়োগের সদস্য (স্বাস্থ্য) ডক্টর ভি কে পল কিন্তু বারবারই এই বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলছেন। ডক্টর পলের বক্তব্য, কোভিড ভ্যাকসিনের দুটি ডোজের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কম থাকাই যুক্তিপূর্ণ ও বিজ্ঞানসম্মত। তাই এই ব্যাপারে বিশদে ভাবনাচিন্তা করা দরকার। ন্যাশনাল টেকনিক্যাল গ্রুপ অব ইমিউনাইজেশনেরও সদস্য তিনি। গতকাল বৈঠকে তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও যখন ভ্যাকসিনের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের মধ্যে সময় কম রাখার পরামর্শ দিয়েছে তখন বিষয়টা জরুরি তো বটেই। হু-র প্যানেলের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে দেখেই এমন পরামর্শ দিচ্ছেন। তাই তাঁদের বক্তব্যকে সম্মান দেওয়াও উচিত।

এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, টিকার দুটি ডোজের মধ্যে যখন সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তা ভেবেচিন্তেই করা হয়েছিল। মানুষের সুরক্ষা ও টিকার কার্যকারিতার কথা ভেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। টুইট করে তিনি বলেছেন, যদি কোভিশিল্ড টিকার দুটি ডোজ নেওয়ার সময় কমানো হয় তাহলেও সেটা গবেষণার ওপর ভিত্তি করেই করা হবে। এখনই এত আতঙ্কের কারণ নেই।

ব্রিটেনে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকার চ্যাডক্স টিকার ফর্মুলায় তৈরি হয়েছে কোভিশিল্ড। অক্সফোর্ড তাদের ভ্যাকসিনের এফিকেসির ওপর ভিত্তি করে দুটি ডোজের মধ্যে সময়ের ব্যবধান বাড়িয়েছিল। তাই ভারতেও এই টিকার দুটি ডোজের মধ্যে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কোভিশিল্ড টিকার দুটি ডোজের মধ্যে ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহ ব্যবধান রাখার নির্দেশ দিয়েছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রক। এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয় কোভিশিল্ড টিকার নির্মাতা সংস্থা পুণের সেরাম ইনস্টিটিউট। সংস্থার প্রধান আদর পুনাওয়ালা বিবৃতি দিয়ে জানান, কোভিশিল্ড টিকার দুটি ডোজের মধ্যে বেশি সময়ের অন্তর থাকলে টিকার এফিকেসি যেমন বাড়বে, তেমনি শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে। দুটি ডোজের মধ্যে তিন থেকে চার মাসের ব্যবধান কতটা কার্যকরী হবে তা বিজ্ঞানসম্মতভাবে খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি গ্রুপ ইমিউনাইজেশন (এনটিএজিআই)জানায়, টিকার ডোজে বেশি পরিমাণ অ্যান্টিবডি তৈরি করতে হলে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের মধ্যে লম্বা সময়ের বিরতি রাখতেই হবে। সব টিকার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়, শুধুমাত্র কোভিশিল্ডের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম মানলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।

You might also like