Latest News

ভ্যাকসিনের ‘প্রিকশনারি ডোজ’ নিতে কোমর্বিডিটির সার্টিফিকেট দেখাতে হবে না, নয়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড ভ্যাকসিনের বুস্টার তথা প্রিকশনারি ডোজ নেওয়ার জন্য সার্টিফিকেট দেখানোর দরকার পড়বে না। ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে কোমর্বিডিটির রোগীদের প্রিকশনারি ডোজ নিতে গেলে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে নয়া নির্দেশিকায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, সার্টিফিকেট দেখানোর দরকার নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন প্রবীণরা।

ওমিক্রন হানা দিয়েছে দেশে। কোভিড ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নেওয়ার পরেও সংক্রমিত হচ্ছেন অনেকে। সংক্রমণ ঠেকাতে তাই তৃতীয় ডোজ তথা বুস্টার নেওয়ার পরামর্শই দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও কোভিড ভ্যাকসিনের বুস্টার তথা প্রিকশনারি ডোজ নেওয়ার কথাই বলেছেন। ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী সহ প্রথম সারির করোনা যোদ্ধা ও ৬০ বছরের উর্ধ্বে প্রবীণদের প্রিকশনারি ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কী এই প্রিকশনারি ডোজ? 

বড়দিনে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভ্যাকসিনের প্রিকশনারি ডোজ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। প্রিকশনারি ডোজ মানে হলে ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজ অর্থাৎ বুস্টার ডোজ। সেকেন্ড ডোজ নেওয়ার ৯ মাস পরে এই তৃতীয় ডোজ নেওয়া যাবে। স্বাস্থ্য়মন্ত্রকের গাইডলাইনে বলা হয়েছে, সেকেন্ড ডোজ নেওয়ার দিন থেকে ৩৯ সপ্তাহ পরে বুস্টার বা প্রিকশনারি ডোজ নেওয়া যাবে।

Medical Certificates Needed for Senior Citizens to Get 'Precautionary' Booster  Dose

করোনার নতুন প্রজাতিদের সংক্রমণ সাঙ্ঘাতিকভাবে বাড়ছে। এমনও দেখা গেছে, ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নেওয়ার পরেও শরীরে ভাইরাল লোড বেশি। অর্থাৎ সংক্রমণ বেশি। বিশেষজ্ঞরা তাই তৃতীয় ডোজ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, দুটি ডোজের পরে যে পরিমাণ অ্যান্টিবডি তৈরি হবে শরীরে তৃতীয় ডোজ নিলে তার পরিমাণ আরও বাড়বে। যেহেতু শরীরে অ্যান্টিবডি খুব বেশি দিন স্থায়ী হচ্ছে না, তাই সেকেন্ড ডোজ নেওয়ার ৯ মাস পরে আরও একটি ডোজ নিলে নতুন করে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে। শরীরের ইমিউন কোষগুলি ফের সক্রিয় হবে এবং রোগ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

কারা নিতে পারবেন প্রিকশনারি ডোজ? প্রিকশনারি ডোজ সকলের জন্য নয়। ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির সিইও ডা. আরএস শর্মা বলেছিলেন, প্রথম সারির কোভিড যোদ্ধা ও প্রবীণদের জন্যই এই প্রিকশনারি ডোজ। করোনা রোগীদের সংস্পর্শে থাকতে হয় যাঁদের বা পেশাগত কারণে জনবহুল জায়গায় থাকতে হয়, প্রবীণ যাঁদের কোমর্বিডিটি আছে ও হাই-রিস্ক গ্রুপে আছেন, শুরুতে তাঁরাই পাবেন এই ডোজ। পরে ভ্যাকসিনের জোগান বাড়লে সকলের কথা ভাবা যাবে।

তবে প্রিকশনারি ডোজ নিতে হলে বয়স্কদের মেডিক্যাল সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল গাইডলাইনে। কী ধরনের রোগ রয়েছে বা রোগের চিকিৎসা চলছে তা দেখেই তৃতীয় ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে রোগের তালিকাও দিয়েছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রক। হার্ট, কিডনি, ফুসফুসের রোগ, ক্যানসারের মতো মারণ রোগও ছিল তালিকায়। তবে এখন নয়া নির্দেশিকায় বলা হচ্ছে, ষাটের বেশি বয়স্করা দুটি ডোজ নেওয়া হয়ে গেলে তৃতীয় ডোজ পাবেন। সেক্ষেত্রে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেখানোর দরকার নেই। তবে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

কেন দরকার বুস্টার ডোজ?

বিশ্বজুড়েই ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনে মিউটেশন বা জিনের গঠন বিন্যাস খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। মানে মিউটেশন হচ্ছে পর পর, র‍্যাপিড। একবারে ২০০ বার জিনের গঠন বদলাতেও দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। স্পাইক প্রোটিনে অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোডও বদলে যাচ্ছে। তাই ভাইরাল স্ট্রেন দিনে দিনে আরও ছোঁয়াচে, অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। ভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্স করে বা জিনের বিন্যাস সাজিয়ে যেমনটা দেখে ভ্যাকসিনের ফর্মুলা তৈরি হয়েছিল, সেই জিনের বিন্যাসই এখন বদলে গেছে। যদিও ভ্যাকসিনে কাজ হবে ঠিকই, কিন্তু সারা বছর সংক্রামক ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে শরীরের ইমিউনিটি সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। এর জন্যই দরকার এই তৃতীয় ডোজ।

ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজ হবে ‘বুস্টার’, অর্থাৎ শরীরের ইমিউন পাওয়ার বা রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে। সাধারণত, ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ শরীরে ঢুকে ইমিউন কোষগুলোকে (বি-কোষ ও টি-কোষ) সক্রিয় করার চেষ্টা করে। দেহকোষে ভাইরাস প্রতিরোধী সুরক্ষা বলয় তৈরি করার জন্য ইমিউন কোষগুলোকে অ্যাকটিভ করা শুরু করে। দ্বিতীয় ডোজে এই কাজটাই সম্পূর্ণ হয়। বি-কোষ সক্রিয় হয়ে প্লাজমায় অ্যান্টিবডি তৈরি করে। অন্যদিকে, টি-কোষ বা টি-লিম্ফোসাইট কোষ সক্রিয় সংক্রামক কোষগুলিকে নষ্ট করতে শুরু করে। দুই ডোজের পরে যে অ্যান্টিবডি শরীরে তৈরি হয় তাই ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্যাকসিনেশনের প্রায় এক বছর পরে যদি এই বুস্টার দেওয়া হয়, তাহলে আবারও শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে, আরও কয়েকমাস ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে।

You might also like