Latest News

ভাড়ার নিউক্লিয়ার সাবমেরিন রাশিয়ায় ফিরে যাচ্ছে, নতুন ৬ ডুবোজাহাজ বানানোর সিদ্ধান্ত নয়াদিল্লির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় নৌবাহিনীর একমাত্র পরমাণু শক্তিচালিত জাহাজ ‘আইএনএস চক্র’ ফিরে যাচ্ছে রাশিয়ায়। ভারতের নিজের তৈরি নিউক্লিয়ার সাবমেরিন তথা পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ এতদিন ছিল না। ২০১২ সালে এই নিউক্লিয়ার সাবমেরিনটিকে রাশিয়ার থেকে দশ বছরের জন্য ভাড়ায় নেওয়া হয়। তবে মেয়াদ শেষের আগেই এটিকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। বদলে দেশের নিজের তৈরি আধুনিক ৬ নিউক্লিয়ার সাবমেরিন তৈরিতে তোড়জোড় করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

৬টি অত্যাধুনিক নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের জন্য ৪৩ হাজার কোটি টাকার চুক্তি পাকা হয়েছে। অত্যাধুনিক সাবমেরিন বানাতে কৌশলগত অংশীদারিত্বের পথে হেঁটেছে ভারত। এই মেগা প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘পি-৭৫ আই’ । এই মডেলে দেশের কোনও বেসরকারি সংস্থা নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য বিদেশি সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে পারে।

Submarines May Sink Indian Navy's Plans For Future Aircraft Carrier

মোট ২৪টি সাবমেরিন হাতে রাখতে চাইছে ভারতীয় নৌসেনা। তার মধ্যে ৬টি নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিন, ১৫টি ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন  এবং ২টি নিউক্লিয়ার সাবমেরিন। ভারতীয় নৌসেনার হাতে এই মুহূর্তে সাবমেরিনের সংখ্যা ১৫টি। যার মধ্যে  ১৩টি ডিজেল ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন, ২টি নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিন। ভারতের হাতে এখন যে ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিনগুলি রয়েছে সেগুলির মধ্যে ৯টি রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা হয়েছিল। ৪টি কেনা হয়েছিল জার্মানির কাছ থেকে। এই সাবমেরিনগুলি এখন অনেক পুরনো হয়ে গেছে। নতুন ৬টি সাবমেরিন চলে এলে এই পুরনোগুলিকে অবসরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

গালওয়ান সংঘাতের পরে দক্ষিণ চিন সাগরে আরও আগ্রাসী চিনের নৌবহর। ভারতও ইতিমধ্যেই সেখানে নিজেদের রণতরী পাঠিয়ে দিয়েছে। সূত্রের খবর, চিনের অ্যাটক সাবমেরিনের সংখ্যা ভারতের থেকে বেশি। চিনের হাতে এখন আছে ৫০টি সাবমেরিন। যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা সাড়ে তিনশোর বেশি। আগামী ৮-১০ বছরে এই সংখ্যায় পাঁচশোর কাছাকাছি পৌঁছবে। তাই ভারত তার নৌবহরের শক্তি আরও বাড়িয়ে রাখছে।

নিউক্লিয়ার সাবমেরিনকে বলা হয় ‘স্টিল্থ ফাইটার’। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলেন ‘নীরব ঘাতক’। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার প্রযুক্তি থাকে এই ধরনের সাবমেরিনে। পারমাণবিক হামলাও চালাতে পারে। নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এটি গুপ্ত ঘাতকের মতো হামলা করতে পারে। নিজের অবস্থান লুকিয়ে রেখে আচমকা আক্রমণ করে শত্রুবাহিনীর সাবমেরিনের দফারফা করে দিতে পারে। রেডারকে ফাঁকি দিয়ে শত্রুঘাঁটির খুব কাছাকাছি চলে যেতে পারে এই ধরনের ডুবোজাহাজ।

You might also like