Latest News

খুনিদের গ্রেফতার না করলে রাজস্থানের পুরোহিতের শেষকৃত্য নয়, ক্ষতিপূরণের দাবি পরিবারের

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ জমি বিবাদের জেরে রাজস্থানের কারাউলি জেলার এক পুরোহিত বাবুলালকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে ছ’জনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে এই নৃশংস ঘটনার পরে মূল অভিযুক্ত কৈলাস মীনাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু এখনও অনেক অভিযুক্ত অধরা। তাই যতক্ষণ না দোষীদের সাজা দেওয়া হচ্ছে ও তাঁদের ক্ষতিপূরণ না দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ পুরোহিতের শেষকৃত্য করা হবে না বলেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুরোহিতের পরিবার।

সংবাদসংস্থা এএনআইকে পুরোহিতের এক আত্মীয় ললিত জানিয়েছেন, “যতক্ষণ না আমাদের দাবি পূরণ হচ্ছে ততক্ষণ আমরা শেষকৃত্য করব না। আমাদের ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও সরকারি চাকরি চাই। সব অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া পাটোয়ারির আধিকারিক ও পুলিশকর্মী যারা অভিযুক্তদের সমর্থন করেছে, তাদেরও সাজা চাই আমাদের। সেইসঙ্গে আমাদের সুরক্ষা দিতে হবে।”

এদিন সকালে সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট ওম প্রকাশ মীনা বাবুলাল নামের ওই পুরোহিতের বাড়ি যান। তিনি গিয়ে পরিবারকে শেষকৃত্য করার আবেদন করেন। তিনি বলেন, “শেষকৃত্যের জন্য মানুষ জড়ো হয়েছে। তাঁরা রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের কাছে বেশ কিছু দাবি জানান। পুরোহিতের মৃত্যুর পরে দু’দিন কেটে গিয়েছে। তাই আমরা পুরোহিতের পরিবারকে শেষকৃত্য করার আবেদন জানাচ্ছি।”

চাষের জমি লাগোয়া ঘর বানাতে গিয়েছিলেন রাজস্থানের কারাউলি জেলার এক মন্দিরের পুরোহিত বাবুলাল বৈষ্ণব। সেই নিয়ে স্থানীয় মীনা সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হয়। বুধবার একদল লোক ওই পুরোহিতের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তিনি পুলিশকে বলে গিয়েছেন, জমি নিয়ে বিরোধেই তাঁর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ওপরে যারা আক্রমণ করেছিল, তাদের ছ’জনের নামও তিনি বলে গিয়েছেন।

রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর থেকে ১৭৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কারাউলি জেলায় একটি রাধাকৃষ্ণ মন্দির আছে। পুরোহিত বাবুলাল বৈষ্ণব যে জমি চাষ করতেন, তা ছিল ওই মন্দিরের সম্পত্তি। অনেক সময় অছি পরিষদ কোনও পুরোহিতকে মন্দিরের জমিতে চাষ করতে দেয়। বিনিময়ে সেই পুরোহিত রোজ মন্দিরে পুজো করেন ও অন্যান্য ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করেন। রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের ট্রাস্টও বাবুলাল বৈষ্ণবকে ১৩ বিঘা বা ৫.২ একর জমি চাষ করতে দিয়েছিল।

পুরোহিত চেয়েছিলেন, ওই জমির লাগোয়া বাড়ি বানাবেন। সেখানে জমি ছিল অসমান। বাড়ি বানানোর আগে আর্থ মুভার দিয়ে জমি সমতল করা প্রয়োজন ছিল। এই সময় স্থানীয় মীনা সম্প্রদায়ের লোকজন দাবি করে, ওই জমি তাদের সম্পত্তি। সেই বিরোধ মেটানোর জন্য উভয়পক্ষ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে যায়। তাঁরা পুরোহিতের পক্ষে রায় দেন। পুরোহিত তখন সেই জমি দখল করেন। তাঁর ক্ষেতে উৎপাদিত বাজরা সেই বিতর্কিত জমিতে রাখেন। এমন সময় এক অভিযুক্ত সেই জমিতে বাড়ি বানাতে চেষ্টা করে। তা নিয়ে শুরু হয় ঝগড়া। তারপরেই পুরোহিতের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

পুলিশের পদস্থ অফিসার হারজি লাল যাদব বলেন, মৃতদেহের পোস্ট মর্টেম করা হচ্ছে। মূল অভিযুক্ত কৈলাস মীনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরোহিত যে ছ’জনের নাম বলে গিয়েছেন, তাদের তিনজন হল কৈলাস, শংকর এবং নামো মীনা।

পুরোহিতের মৃত্যু নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন শুরু হয়েছে। বিজেপি রাজ্যের কংগ্রেস সরকারকে দোষ দিয়ে বলেছে রাজস্থানে জঙ্গল রাজ চলছে। অন্যদিকে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দোষীদের কড়া শাস্তি দেওয়া হবে।

You might also like