Latest News

কোভিডে প্রতিটি মৃত্যুর তথ্য জানাতে হবে, দিল্লির পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেজরিওয়ালকে নির্দেশ অমিত শাহের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। ইতিমধ্যেই তা ৬০ হাজার ছুঁই ছুঁই। মৃতের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। আর এই পরিস্থিতিতে রবিবার ফের দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বাইজালের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকের পরে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশ কিছু নির্দেশ দিয়েছেন শাহ। তার মধ্যে সংক্রমণের উৎস খোঁজায় বেশি জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে কোভিডে প্রতিটি মৃত্যুর তথ্য জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেজরিওয়াল সরকারকে।

রবিবারের এই মিটিংয়ে কেজরিওয়াল ছাড়াও দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআর এবং অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল সায়েন্সেস বা এইমস-এর আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই কী ভাবে কন্টেইনমেন্ট এলাকায় আরও কড়া নজরদারি চালানো যায় ও রাজধানীর স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতি করা সম্ভব তা নিয়ে আলোচনা হয়।

সূত্রের খবর, এই বৈঠকে বলা হয়েছে, কেন্দ্রের তরফে আনলক ফেজ ওয়ানে যে সব পরিষেবায় ছাড় দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যেও দিল্লিতে বেশ কিছু ক্ষেত্রে কেন্দ্রের নির্দেশ মানা হয়নি। যারা এই নিয়ম ভেঙেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই বৈঠকে রাজধানীতে মৃতের সংখ্যার গণ্ডগোল নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর। কয়েক দিন আগে মহারাষ্ট্র ও দিল্লিতে মৃতের সংখ্যার হিসেবে গণ্ডগোলের জন্যই ভারতে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা রাতারাতি ২ হাজার বেড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতি যাতে আগামী দিনে না হয়, সেই ব্যাপারে কেজরিওয়াল সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে। অমিত শাহ জানিয়েছেন, কারও মৃত্যু হলে সঙ্গে সঙ্গে যেন তা নথিভুক্ত করা হয়। স্বাস্থ্য পরিষেবায় আরও স্বচ্ছতা আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার দিল্লি এবং উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানার কিছু অংশের পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বৈঠক করেছিলেন অমিত শাহ। এই মাসের শেষে দিল্লিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ পেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। আগামী মাসের শেষে তা বেড়ে সাড়ে পাঁচ লাখ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত রবিবারও কেজরিওয়াল ও দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনের সঙ্গে বৈঠক করেন অমিত শাহ। সেখানে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, খুবই গুরুত্ব দিয়ে দিল্লির পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। এই সংক্রান্ত একাধিক নির্দেশিকা দেন শাহ।

কেন্দ্রের তরফে এই তৎপরতা শুরুই হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের তরফে দিল্লি সরকারকে ভর্ৎসনা করার পর থেকে। সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়, দিল্লিতে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ব্যর্থ প্রশাসন। রোগীদের সঙ্গেই মৃতদেহ ফেলে রাখা হচ্ছে। ঠিকমতো রোগীদের দেখাশোনা করা হচ্ছে না। তাঁদের পশুদের মতো রাখা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে লোক নায়ক জয় প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়। তারপরেই দিল্লি গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে যান অমিত শাহ।

গত কয়েক দিন ধরেই রাজধানীর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে তৎপর রয়েছে কেন্দ্র। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল পরিস্থিতি মোকাবিলায় বারবার কেন্দ্রের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। যেভাবে রাজধানীতে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রও। কারণ, ভারতের প্রশাসনিক কাজকর্মের প্রধান কেন্দ্র দিল্লি। আর তাই দিল্লির পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে তৎপর কেন্দ্র।

You might also like