Latest News

দিল্লিতে পুলিশ, সিভিক ভলান্টিয়ারদের উপর হামলা কন্টেইনমেন্ট এলাকার বাসিন্দাদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটল। এবার তা হল রাজধানীতে। পুলিশ আধিকারিক ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের উপর হামলা চালালেন কন্টেইনমেন্ট এলাকার বাসিন্দারা। এই ঘটনা বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন বলে খবর।

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির নারাইনা এলাকায়। রবিবার সন্ধেবেলা সেখানকার একটি কন্টেইনমেন্ট জোনে খাবার ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিতে গিয়েছিলেন পুলিশকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়াররা। তখন সেখানকার বাসিন্দারা তাঁদের কাছে অভিযোগ করেন, পুরো এলাকার চারদিকে ব্যারিকেড করে রাখা হয়েছে। এমন জায়গাতেও ব্যারিকেড করা হয়েছে, যেখানে কেউ আক্রান্ত হননি। এতে সমস্যা হচ্ছে। ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করেন তাঁরা।

জানা গিয়েছে, তাঁদের পুলিশকর্মীরা বলেন, তাঁরা এই ব্যারিকেড লাগাননি। প্রশাসনের উপরের স্তর থেকে তা ঠিক করা হয়েছে। তাই তাঁদের কিছু করার নেই। এই নিয়েই কথা কাটাকাটি শুরু হয়। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। তখনই সেখানে উপস্থিত বাসিন্দারা পুলিশকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের উপর হামলা করেন বলে অভিযোগ। এতে বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

কিছুক্ষণ পরেই আরও পুলিশকর্মী সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বাসিন্দাদের বাড়িতে পাঠানো হয়। যদিও এই ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। জানা গিয়েছে, ওই এলাকার পশ্চিম ব্লকে ১০ জন করোনা আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। তারপরেই ওই এলাকাকে কন্টেইনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে।

জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উপর হামলার ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। ভারতে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর শুরু দিক থেকেই ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলার একাধিক খবর এসেছে। কখনও মধ্যপ্রদেশ, কখনও তামিলনাড়ুতে এই ঘটনা ঘটেছে। এতে অনেক কর্মী আহতও হয়েছেন। হামলার অভিযোগে অনেককে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ।

এই ধরনের ঘটনা সামনে আসার পরেই মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে দেন, করোনা মোকাবিলায় সামনে থেকে যাঁরা লড়াই করছেন তাঁদের বিরুদ্ধে হামলা বরদাস্ত করা হবে না। একই সুর শোনা যায় বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের গলাতেও। তারপরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক নতুন আইন নিয়ে আসে, যেখানে বলা হয় ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলা হলে জেলের সাজা ও জরিমানা দুইই হবে। কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তারপরেও এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।

জুন মাসের শুরু থেকেই লকডাউনে একাধিক শিথিলতা নিয়ে আসে কেন্দ্র। দোকান, শপিং মল, ধর্মীয় স্থান, রেস্তোরাঁ, হোটেল প্রভৃতি খুলেছে। গণপরিবহণও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কন্টেইনমেন্ট জোনে কিছু খোলা হবে না। সেখানে আগে যেরকম লকডাউন চলছিল, সেরকমই চলবে। অর্থাৎ কন্টেইনমেন্ট জোনের বাসিন্দারা ওষুধ ও জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে পারবেন না।

দিল্লিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। মৃত্যু হয়েছে ২ হাজারের উপর। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল অনিল বাইজালের সঙ্গে এক সপ্তাহে তিনবার বৈঠক করেছেন অমিত শাহ। একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

You might also like