Latest News

কংগ্রেস নেতৃত্ব চায়নি আমরা বিহারে প্রচার করি, অধীরের অভিযোগের জবাবে সিব্বল ঘনিষ্টরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কংগ্রেসের অভ্যন্তরে দ্বন্দ্ব বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন অধীর চৌধুরী, সলমন খুরশিদ, পি চিদম্বরমরা। বেশি আক্রমণাত্মক হয়েছেন অধীর। পষ্টাপষ্টি তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, সিব্বল অন্য দলে যোগ দিতে পারেন, কিংবা নতুন দল খুলতে পারেন। তার জবাবে কপিল সিব্বল কোনও উত্তর না দিলেও কপিল ঘনিষ্টদের তরফে জবাব, কংগ্রেস নেতৃত্ব চায়নি তাঁরা বিহারে ভোটের প্রচার করুন।

বুধবার লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরি প্রশ্ন তোলেন, যে নেতারা এখন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিচ্ছেন, তাঁরা বিহারে ভোটের সময় কোথায় ছিলেন? তাঁর কথায়, “ওই নেতারা যদি সত্যিই কংগ্রেসকে চাঙ্গা করতে চাইতেন, তাহলে কাজে সেকথা প্রমাণ করতেন। বিহারে ভোটের সময় তাঁরা কি কোনও কাজ করেছেন?”

এই প্রশ্নের জবাবে কপিল ঘনিষ্টরা জানিয়েছেন, এই ধরনের মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। কারণ, অধীরবাবু ও অন্যান্য নেতারা হয়তো জানেন না জি ২৩ নেতারা বিহারে নির্বাচনের প্রচারের তালিকায় ছিলেন না। তাই দল না বললে তো তাঁরা প্রচারে যেতে পারতেন না। জি ২৩ নেতা বলতে যে ২৩ জন নেতা দলের অভ্যন্তরীণ অবস্থা নিয়ে সনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখেছিলেন তাঁদের বোঝানো হয়েছে। সেই দলে ছিলেন সিব্বলও।

গতকাল একের পর এক আক্রমণ হানেন অধীরবাবুর। তিনি বলেন, “কোনও নেতা যদি ভাবেন কংগ্রেস তাঁর উপযুক্ত দল নয়, তিনি নিজে নতুন পার্টি গড়তে পারেন। অথবা যে পার্টিকে তিনি প্রগতিশীল ভাবেন, যেখানে গেলে তাঁর স্বার্থরক্ষা হবে মনে করেন, সেখানে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু তারা এভাবে দলকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারেন না।”

সোমবার একটি সর্বভারতীয় দৈনিকের সাক্ষাৎকারে সিব্বল বলেন, এখন দলের সংগঠনকে চাঙ্গা করে তুলতে হবে। যাঁরা অভিজ্ঞ, রাজনীতি বোঝেন, তাঁরা এই কাজ করবেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “এখন আর ভাবার সময় নেই।”

তাঁর কথায়, “অবিলম্বে কয়েকটি স্তরে কিছু কিছু কাজ করতে হবে। সাংগঠনিক কাজ করতে হবে। আরও নানা স্তরে কাজ করতে হবে। আমাদের চাই সক্রিয় ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব। সবদিক ভেবে কাজে হাত দিতে হবে।” পরে তিনি বলেন, “কংগ্রেস কর্মীদের বুঝতে হবে, আমাদের দলের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।”

বিহারের পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাতের মতো রাজ্যের উপনির্বাচনেও খারাপ ফল করেছে কংগ্রেস। সিব্বল সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম, মানুষ আমাদের ওপরে সেভাবে আস্থা রাখছেন না। আমাদের এখন সবকিছু ভেবে দেখার সময় এসেছে। আমরা জানি কী করতে হবে। কংগ্রেসের এই সত্যটি মেনে নেওয়া উচিত।”

এক সাক্ষাৎকারে সিব্বল বলেন, “দলের অভ্যন্তরে আলোচনার কোনও জায়গা নেই। তাই আমি প্রকাশ্যে মুখ খুলতে বাধ্য হচ্ছি। আমি একজন কংগ্রেসম্যান। বর্তমানে যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, তাঁরা দেশের সব মূল্যবোধকে ধ্বংস করছেন। আমি প্রার্থনা করি, কংগ্রেস যেন মানুষের কাছে বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।”

সিব্বলের এই মন্তব্যের পরেই কংগ্রেসের ভিতর থেকে তাঁর বিরোধিতায় মুখ খোলেন অনেকে। তাঁদের অভিযোগের জবাব সিব্বল না দিলেও এবার তাঁর ঘনিষ্টমহল থেকে এল জবাব। এবারও নিশানায় সেই দলীয় নেতৃত্বই।

You might also like