Latest News

অযোধ্যা মামলা থেকে সিনিয়র আইনজীবীকে সরাল জমিয়ত, তোপ দাগলেন তিনিও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবারই দেশের শীর্ষ আদালতে অযোধ্যা রায়ের রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এবং জমিয়ত উলেমা হিন্দ। মঙ্গলবার মুসলিম পক্ষের অন্যতম আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানালেন, তাঁকে ওই মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কেন এই বর্ষীয়ান আইনজীবীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে ব্যাপারে জমিয়তের পক্ষ থেকে কোনও কারণ জানানো হয়নি। তবে রাজীব ধাওয়ান এই গোটাটাকেই ‘ননসেন্স’ বলে তোপ দেগেছেন। তাঁর কথায়, “জমিয়তের প্রধান মৌলানা আরশাদ মাদানির নির্দেশেই আমায় সরানো হয়েছে।” মুসলিম পক্ষের মুখ্য আইনজীবী ইজাজ মকবুলের নেতৃত্বে কাজ করতেন রাজীব ধাওয়ান। ইজাজ মকবুলই তাঁকে অপসারণের কথা জানিয়েছেন বলে ফেসবুকে লিখেছেন ধাওয়ান।

এমনিতে রিভিউ পিটিশন করা হবে কিনা তা নিয়ে মুসলিম পক্ষের মধ্যে ভিন্ন মত ছিলই। আগেই সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড জানিয়ে দিয়েছিল তারা রিভিউ পিটিশন করবে না। কিন্তু রায় ঘোষণার দিন থেকেই মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড রিভিউ পিটিশনের সুর গেয়ে রেখেছিল। পরে তাতে যোগ দেয় জমিয়ত। ধবনের অপসারণকে মুসলিম পক্ষের মধ্যে ফাটল বলেই মনে করছেন অনেকে। অনেকের মতে, রাজীব ধাওয়ানকে সরিয়ে দেওয়ার পিছনে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিও থাকতে পারে।

গত ৮ নভেম্বর ঐতিহাসিক অযোধ্যা মামলার রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ। রায় ঘোষণার পর মামলার অন্যতম পক্ষ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, তারা রিভিউ পিটিশনের পথে হাঁটবে না। অযোধ্যা ইস্যুকে ‘ক্লোজড চ্যাপটার’ বলে উল্লেখ করেছিলেন ওয়াকফ বোর্ডের নেতারা। কিন্তু মুসলিম ল বোর্ডের বক্তব্য, এমন অনেকে আছেন যাঁরা হয়তো মামলার অংশীদার ছিলেন না কিন্তু তাঁরা নানা ভাবে এই মামলায় সাহায্য করেছেন। তাঁরা চাইছেন রিভিউ পিটিশন হোক।

অযোধ্যা মামলার রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রিভিউ পিটিশন দাখিল করলে ভারতের হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ধাক্কা খাবে বলে কয়েক দিন আগেই মন্তব্য করেছিলেন জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান ঘেরুল হাসান রিজভি। তিনি বলেছিলেন, “মুসলিমদের পক্ষ থেকে যদি রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয় তাতে হিন্দুদের কাছে বার্তা যাবে যে, মুসলিমরা রামমন্দির তৈরিতে বাধা দিতে চাইছে। এটা সম্প্রীতির জন্য খুব একটা ভাল জিনিস হবে না। মুসলিমদের উচিত দেশের শীর্ষ আদালতের রায় মেনে নেওয়া।” রিজভি আরও বলেন, “আদালত যে নির্দেশ দিয়েছে তা মেনে নিয়ে দুই সম্প্রদায়েরই উচিত সম্প্রীতির নয়া নজির তৈরি করা। রামমন্দির তৈরিতে মুসলিমদের সহযোগিতা করা উচিত। আর পৃথক পাঁচ একর জমিতে যখন মসজিদ তৈরি হবে তাতে সাহায্য করা উচিত হিন্দুদের।” সেইসঙ্গে তিনি ওই সাক্ষাৎকারে এও বলেন, “মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড ও জামিয়েতের মতো সব পক্ষেরই উচিত রিভিউ পিটিশন দাখিল না করে পৃথক পাঁচ একর জমিতে মসজিদ নির্মাণের নির্দেশকে মেনে নেওয়া।” কিন্তু সে সবে কান দেয়নি অন্য পক্ষ। রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয়ে গিয়েছে। এবার সেই মামলার আইনজীবী প্যানেল নিয়েও গোল বাঁধল।

You might also like