Latest News

পুলিশ হেফাজতে বাবা-ছেলের মৃত্যু, জোড়া খুনের অভিযোগ পরিবারের, তামিলনাড়ু জুড়ে শুরু প্রতিবাদ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশ হেফাজতে একটি মোবাইল দোকানের মালিক ও তাঁর ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল তামিলনাড়ু। ক্ষোভ বাড়ছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, লক আপের মধ্যে প্রবল অত্যাচার করে মেরে ফেলা হয়েছে তাঁদের। অন্যদিকে পুলিশের অভিযোগ, অসুস্থ হয়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও।

ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ির তুতিকোরিনে। গত শুক্রবার শান্তাকুলম এলাকার একটি মোবাইল দোকানের মালিক জয়রাজ ও তাঁর ছেলে পেন্নিসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়ের পরেও দোকান খুলে রেখেছিলেন তাঁরা। সোমবার সকালে তাঁদের মৃত্যুর খবর সামনে আসে। তারপরেই শুরু হয় বিক্ষোভ। আগামী কাল তুতিকোরিনের সব দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ দেখানো হবে বলে ঠিক হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের লক আপে খুন করা হয়েছে। তাই ময়নাতদন্তের পরে দু’জনের দেহ নিতে অস্বীকার করেছেন তাঁরা। পরিবারের অভিযোগ, দু’জনেরই পায়ুদ্বারে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া আরও অনেক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

জয়রাজের মেয়ে পেরসিসের অভিযোগ, “এটা জোড়া খুনের ঘটনা। আমার বাবা ও দাদাকে এমন জায়গায় অত্যাচার করা হয়েছে, যা একজন মহিলা হিসেবে আমি মুখে আনতে পারছি না। যতক্ষণ না ওখানকার পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা দেহ নেব না।”

পুলিশের তরফে যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, তাতে লেখা রয়েছে, মাটিতে পড়ে যাওয়াতে আঘাত লাগে দু’জনের। জয়রাজ ও পেন্নিস নাকি পুলিশকর্মীদের গালিগালাজ দেন। এমনকি তাঁদের খুনের হুমকিও তাঁরা দিয়েছিলেন বলে লেখা রয়েছে এফআইআরে। দু’জনের বিরুদ্ধে খুনের হমকি, হেনস্থা প্রভৃতি ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।

পরিবারের অভিযোগ, সোমবার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজিরা দেওয়ার আগে যে জেলে তাঁদের রাখা হয়েছিল, সেখানে শুক্রবার রাত থেকে তাঁদের উপর লাগাতার অত্যাচার করা হয়। তার ফলেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার সকালে বুকে ব্যথা হচ্ছে বলে জানান পেন্নিস। হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে জয়রাজের জ্বর হওয়ায় তাঁকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে তিনি মারা যান। তুতিকোরিনের পুলিশ প্রধান অরুণ বালাগোপালন জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ই পালানিস্বামী মৃতের পরিবারকে ২০ লাখ করে মোট ৪০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন। পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। যদিও পুলিশের বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য তিনি করেননি। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সরকার কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

বিরোধী দল ডিএমকের সাংসদ কানিমোঝি এই ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মানবাধিকার কমিশনের তরফেও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

You might also like