Latest News

পড়াশোনা, স্বাস্থ্যের জন্য ২জিই যথেষ্ট, জম্মু-কাশ্মীরে ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ে সিদ্ধান্তের সমর্থনে কেন্দ্র

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ গত বছর জম্মু-কাশ্মীরের উপর থেকে স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস তুলে নেওয়ার আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল উপত্যকার ইন্টারনেট পরিষেবা। কেন্দ্র জানিয়েছিল, ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যবহার করে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। তাই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর ২৪ জানুয়ারি থেকে ফের ইন্টারনেট পরিষেবা শুরু হলেও শুধুমাত্র ২জি পরিষেবা চলছে সেখানে। হাইস্পিড ইন্টারনেট পরিষেবা কেন শুরু হচ্ছে না, তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। জবাব দিয়েছে কেন্দ্র। ফের একবার কেন্দ্র জানাল পড়াশোনা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য ২জি ইন্টারনেট পরিষেবা যথেষ্ট।

রবিবার একটি লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জি কে রেড্ডি লোকসভায় জানান, “কাশ্মীরে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু রয়েছে। কেবলের মাধ্যমে এই ইন্টারনেট পরিষেবার পাশাপাশি ২০২০ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে মোবাইলেও পরিষেবা চালু রয়েছে। মার্চ মাস থেকে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া সাইট থেকেও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে ২জি পরিষেবার মাধ্যমেই সাধারণ মানুষ ও স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের সব রকমের বার্তা পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে। তাতে কোনও সমস্যা হচ্ছে না। ২জি পরিষেবাতেই সরকারের ই-লার্নিং ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন ই-লার্নিং অ্যাপ ব্যবহার করতেও কোনও সমস্যা হচ্ছে না। পড়াশোনা সংক্রান্ত অনেক কিছুই ডাউনলোড করা সম্ভব হচ্ছে।”

সংসদে জি কে রেড্ডি জানান, জম্মু-কাশ্মীরের ২০টি জেলার মধ্যে দুটি জেলা গান্দেরবাল ও উধমপুরে ৪জি ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হয়েছে। যেসব এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানোর সম্ভাবনা নেই সেখানে হাইস্পিড পরিষেবা চালু করতে সমস্যা নেই। কিন্তু এই পরিষেবা ব্যবহার করে যাতে নাশকতা না ছড়ানো যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হচ্ছে বলেই জানিয়েছেন তিনি।

আরও একটি জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে কোনও নেতাকে গৃহবন্দি করে না রাখা হলেও ২২৩ জনকে প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনের আওতায় রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে জম্মু-কাশ্মীরে যাতায়াতে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু সুরক্ষার কারণে ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর প্রশাসন। এই মুহূর্তে কাউকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কিছু ব্যক্তিকে অতিরিক্ত সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।”

কেন্দ্র যতই সাফাই দিক, বিরোধীরা কিন্তু নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসছে না। তাদের দাবি, এভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে মানুষের স্বাধীনতাকে খর্ব করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এভাবে গোটা কাশ্মীর জুড়ে হাইস্পিড পরিষেবা না থাকায় ও এতদিন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় সরকারের অনেক লোকসান হয়েছে ও অনেক যুবক-যুবতীরা কাজ হারিয়েছেন। এর ফলে আখেরে দেশের অর্থিনীতিরই ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

You might also like