Latest News

মমতার চোখে চোখ রেখে কথা বলা সেই নগেন্দ্রকে সেরা পুলিশ বাছল কমিশন

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখে চোখ রেখে তিনি বলেছিলেন, ‘ম্যাডাম, খাকি পরে দাগ নেব না’। পুলিশের এমন বুকের পাটা দেখে চমকে উঠেছিল ভোটমুখী বাংলা। সেই নগেন্দ্র ত্রিপাঠীকে সেরা পুলিশ অফিসার বাছল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তিনি এখন বীরভূমের পুলিশ সুপারের দায়িত্বে রয়েছেন।

মঙ্গলবার জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে জাতীয় গ্রন্থাগারের অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাব বলেছেন, কর্মক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য সম্মানিত করা হয়েছে নগেন্দ্রকে। তাঁর সঙ্গেই পুরস্কৃত হয়েছেন হাওড়ার জেলাশাসক মুক্তা আর্য, উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক সুমিত গুপ্ত ও প্রাক্তন বারুইপুরের পুলিশ সুপার কামনাশিষ সেনগুপ্ত। বর্তমানে কামানাশিষ পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপারের দায়িত্বে রয়েছেন।

নন্দীগ্রামের ভোটের দিন সমস্ত আলো শুষে নিয়েছিলেন নগেন্দ্র। তাঁকে বিশেষ দায়িত্বে নিয়োগ করেছিল নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিন বয়াল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছেছিলেন নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যখন নগেন্দ্রর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন মুখ্যমন্ত্রীর চোখে চোখ রেখে তাঁর উর্দি ধরে সিনিয়র আইপিএস অফিসার নগেন্দ্র ত্রিপাঠী স্পষ্ট বলেছিলেন, “ম্যাডাম এই খাকি পরে কোনও দাগ নেব না।” মমতাকে বলতে শোনা যায়, দাগ তো অনেকেই নিয়ে নিয়েছে। জবাবে নগেন্দ্র বলেন, “আমি নেব না ম্যাডাম।”

মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ কর্তার সেই কথোপকথনের সেই এক্সক্লুসিভ ভিডিও দ্য ওয়াল-এই প্রথম দেখানো হয়েছিল। তৃণমূল জমানায় যখন বিরোধীরা প্রায় রোজই অভিযোগ করেন, পুলিশ দলদাসে পরিণত হয়েছে, বিজেপি-বাম-কংগ্রেস সব দল স্লোগান তোলে ‘পুলিশ তুমি উর্দি ছাড়ো, জনগণের ঝাণ্ডা ধরো’ তখন সেদিনের নগেন্দ্রর ভূমিকার তারিফ করেছিলেন সকলেই।

দেখুন সেই ভিডিও।

তাৎপর্যপূর্ণ হল, নগেন্দ্র নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থীর সামনে তাঁর পেশাগত দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অমর্যাদা কোনও ভাবেই করেননি। বরং এর পরেও কখনও হেসে, কখনও বা বোঝানোর সুরে মমতাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন যে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট করানোর স্বার্থে তিনি যথাসাধ্য করেছেন এবং করবেন। এ ব্যাপারে কোনও ত্রুটি হবে না।

অতীতে দেখা গিয়েছিল, ভোটের সময়ে নির্বাচন কমিশন যে অফিসারদের বিশেষ দায়িত্ব দেন, ভোটের পর তাঁদের অনেককেই কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করেছে সরকার। কিন্তু নগেন্দ্রর ক্ষেত্রে তেমন হয়নি। ভোটের পরেও বীরভূমের জেলা পুলিশ সুপার পদের দায়িত্বেই থেকে যান নগেন্দ্র। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, মমতাও হয়তো বুঝেছিলেন যে নির্বাচন কমিশনকে খুশি করতে গিয়ে নগেন্দ্র অতিসক্রিয় হয়ে ওঠেননি। তিনি নিষ্ঠার সঙ্গেই তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন। কোনও রাজনৈতিক প্ররোচনা বা চাপের বশবর্তী হননি নগেন্দ্র। তাই ভোটের পর নগেন্দ্রর পদের গুরুত্বও কমেনি।

 

You might also like