Latest News

কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনায় মেতে উঠেছেন বাংলাদেশের হিন্দুরাও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবাংলার মতো আজ বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও ধনসম্পদের দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় মেতেছেন । বাংলাদেশে, প্রায় প্রতিটি হিন্দু  ঘরেই দেবী লক্ষ্মীর পুজো হয়ে থাকে। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশের সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিট থেকে পুজো শুরু হয়ে চলবে আগামিকাল বুধবার রাত ১০টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত।

মা লক্ষ্মী পৃথিবীতে আসবেন ঝাঁপিতে অফুরন্ত ধন নিয়ে। অবশ্য দেবী লক্ষ্মী তাঁর সন্তানদের শুধু ধনই দেন না। ষোলো ধরনের সম্পদও দেন। সেগুলি হলো বীরত্ব, স্বর্ণ, অন্যান্য রত্নরাজি, শস্য, সুখ, খ্যাতি, জ্ঞান, সাহস, শক্তি, জয়,উচ্চভাবনা, নৈতিকতা, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘজীবন, সুসন্তান, বৃদ্ধি, সৌন্দর্য, উচ্চাশা। বাংলাদেশে এই লক্ষ্মী পুজো কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো নামেও পরিচিত। কোজাগরী শব্দটি এসেছে ‘কো-জাগর্তি’ থেকে। যার অর্থ হলো ‘কে জেগে আছো?‘।

কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো নিয়ে অনেক গল্প ছড়িয়ে আছে সারা বাংলাদেশ জুড়ে। তার একটি হলো, ‘অনেক বছর আগের কথা। সেই সময় অমাবস্যায় হত লক্ষ্মী পুজো। আর ওই দিনটিতেই দীপাবলি পালন করা হতো। বাংলার এক রাজা ঘোষণা করেছিলেন লক্ষ্মী পুজোর সময়ে  প্রতিমার হাটে কোনও প্রতিমা অবিক্রিত থাকলে রাজা স্বয়ং সেগুলি কিনে নেবেন।  একবার এক মৃৎশিল্পী, দারিদ্রের প্রতীক অলক্ষ্মীর একটি প্রতিমা তৈরি করলেন। তাঁর তৈরি সব প্রতিমা বিক্রি হলেও সেই অলক্ষ্মীর প্রতিমাটি বিক্রি হল না। তখন রাজা তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতো অলক্ষ্মীর প্রতিমাটি কিনে নেন। তাঁর  প্রাসাদের লক্ষ্মী মন্দিরের পাশে মন্দির তৈরি করে অলক্ষ্মীকে প্রতিষ্ঠা করেন। শাস্ত্রে আছে যেখানে অলক্ষ্মী থাকেন, সেখানে মা লক্ষ্মী থাকেন না।  তখন রাজার প্রাসাদের লক্ষ্মী চলে যান রাজ্য ছেড়ে। এর ফলে ওই রাজার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। রাজা তখন ধর্মের কাছে যান। ধর্মঠাকুর পরামর্শ দেন, আশ্বিনের পূর্ণিমায় (কোজাগরী পূর্ণিমা) লক্ষ্মী ব্রত পালন করে মা লক্ষ্মীকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনতে। রাজা ধর্মঠাকুর পরামর্শ মতো  মা লক্ষীর ব্রত পালন করেন।তুষ্ট হয়ে মা লক্ষ্মীও ফিরে আসেন রাজার প্রাসাদে।  অলক্ষ্মীকে ফেলে দিয়ে আসা হয় রাজ্যের বাইরে। রাজ্যে আবার ফিরে আসে সুখ আর শান্তি।  সেই থেকে বাংলার ঘরে ঘরে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো শুরু হয়’।

 এখন বাংলাদেশে মা লক্ষীর আলতা রাঙা পায়ের চিহ্ন আঁকা চলছে ঘরের দেওয়ালে,উঠোনে। নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে উপবাস করবেন।  মা লক্ষ্মীকে মিষ্টি,ফুল,ফলের অর্ঘ দেবেন। পুজোর শেষে পুস্পাঞ্জলী দেবেন ভক্তিভরে। বরাবরের মতো এবারেও জাঁকজমক সহকারে লক্ষ্মী দেবীর আরাধনা করছেন গোপালগঞ্জের  হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। গত কয়েকদিন ধরেই  বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ  শহরের গোহাটা সর্বজনীন কালিবাড়িতে বসছে লক্ষীপ্রতিমার হাট। এছাড়াও জেলার দুই শতাধিক স্থানে এবার  লক্ষ্মী প্রতিমার হাট বসেছে। ভালোই চলছে বেচা কেনা। লক্ষ্মী প্রতিমার দাম এবার সাধ্যের মধ্যেই। ছোট প্রতিমার দাম দেড়শো টাকার মধ্যে এবং বড় প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে এক থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে। এর পাশাপাশি পুজোর উপকরণ হিসাবে  বিক্রি হচ্ছে তালের ফোঁপর, আখ,পদ্ম ফুল ও শোলার মালা, চালের গুঁড়ো, নলডুগলি লতা, কলাগাছ, হলুদগাছ , বেলপাতা, তুলসী, ধানের গোছা, জালা, ছাতা, মুড়কি, খৈ। মা লক্ষ্মীর পুজো হবে বাংলাদেশের সবকটি জেলাতেই।  প্রতিটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে লক্ষ্মী পুজো উপলক্ষে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

You might also like