Latest News

আইনজীবী রজত দে-র হত্যার পুনর্নির্মাণ, কীভাবে খুন ! অভিনয় করে দেখালেন অনিন্দিতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোবাইল চার্জারের তার পেঁচিয়েই রজত দে-কে খুন। কিন্তু কীভাবে, কার সাহায্যে, না কি স্ত্রী অনিন্দিতা একাই খুন করেন রজতকে। প্রথম থেকেই এই প্রশ্নগুলিই পুলিশের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। শনিবার সেই রহস্য থেকেও পর্দা উঠল।  অনিন্দিতাকে দিয়ে গোটা ঘটনার পুনর্নির্মাণ করালেন নিউটাউন থানার পুলিশ আধিকারিকরা ।

ঘটনার পুনর্নির্মাণ অনুযায়ী-

  • চাদরের মধ্যেই মোবাইল চার্জারের তার পেঁচিয়ে ছিলেন অনিন্দিতা
  • ২৬ নভেম্বর ঘটনার দিন খাটে  বসেছিলেন রজত
  • রজতের গলায় চাদর জড়িয়ে টান দেন অনিন্দিতা
  • খাট থেকে পড়ে যান রজত
  • সেই কারণেই রজতের মাথায় ও হাতে আঘাতের চিহ্ন ছিল
  • খাট থেকে রজত পড়ে যাওয়ার পর গলায় চার্জারের তার পুরোপুরি বসে যায়
  • তখনই সেই তার দিয়ে রজতের শ্বাসরোধ করা হয়

এই গোটা বিষয়টি পুলিশের সামনে অভিনয় করে দেখান অনিন্দিতা। নিউটাউনে ডিবি-৯৭ ফ্ল্যাটে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে পুলিশ। শনিবারের পুনর্নির্মাণের পর জানা যায় আরও একটি বিষয়।আর তা হল, রজত খুনে কোনও তৃতীয় ব্যক্তির হাত নেই।যা জেরার মুখেও জানিয়েছিলেন অনিন্দিতা।এদিন প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলে ঘটনার পুনর্নির্মাণ। সেই সময় একবারের জন্যও তৃতীয় ব্যক্তির উল্লেখ করেননি অনিন্দিতা পাল। 

নিউটাউনের ফ্ল্যাটে খুনের পুনর্নির্মাণের জন্য যাচ্ছেন অনিন্দিতা

এখন প্রশ্ন উঠছে,  খুনের পরিকল্পনা কীভাবে করেন অনিন্দিতা?
জেরায় অনিন্দিতার স্বীকারোক্তি,  ক্রাইমের বই পড়ে রজত দে-কে খুনের ছক করা হয়। ক্রাইম বইয়ের উপর রীতিমত গবেষণা করেন তিনি। কীভাবে পুলিশের থেকে নিজেকে বাঁচাবেন, সেই পদ্ধতিও বই পড়েই জানেন রজতের স্ত্রী। অবশ্য শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারেননি। জেরার দ্বিতীয় দিনেই চিৎকার করে রজতকে থুনের কথা স্বীকার করেন অনিন্দিতা পাল।

আরও পড়ুন-

আইনজীবী রজত দে-র রহস্য মৃত্যু, স্ত্রী অনিন্দিতাকে আটক করল পুলিশ

নিউটাউনের আইনজীবীকে শ্বাসরোধ করেই খুন! বলছে ময়না তদন্তের রিপোর্ট

রজত খুনে অভিযুক্ত অনিন্দিতা। এতে কোনও সন্দেহ না থাকলেও পুলিশকে ভাবাচ্ছে আরও কয়েকটি বিষয়।প্রথমত, জেরায় প্রথম থেকেই অনিন্দিতার অভিযোগ করেছেন, তাঁর উপর যৌন নির্যাতন চালাতেন রজত। পুনর্নির্মাণের সময়ও একই অভিযোগ আনেন তিনি। সেক্ষেত্রে খুনের কারণ নিয়ে ধন্দে পুলিশ। দ্বিতীয়ত, অনিন্দিতা স্বীকার না করলেও, এই খুনে তৃতীয় ব্যক্তির হাত আছে বলে মনে করছে পুলিশ। কিন্তু এখনও সেই প্রমাণ না মেলায় তদন্তের গতি কিছুটা হোলেও কমেছে। ইতিমধ্যেই অনিন্দিতার পুলিশি হেফাজতের দিন বেড়ে ছয় দিন করা হয়েছে। ধন্দ মেটাতে দ্বিতীয়বার ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে পারে পুলিশ বলে জানা যাচ্ছে।

 

 

You might also like