Latest News

কলকাতা পুলিশে ফের করোনা হানা, মৃত্যু কনস্টেবল মনোজ কুমার সিংয়ের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল কলকাতা পুলিশের আরও এক কনস্টেবলের। জানা গিয়েছে, প্রয়াত কনস্টেবলের নাম মনোজ কুমার সিং। কলকাতা পুলিশের পোর্ট ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন তিনি। একদম সামনের সারিতে থেকে লড়ছিলেন মহামারীর সঙ্গে। কিন্তু অবশেষে হার মানলেন এই করোনা যোদ্ধা। কয়েকদিন আগেই কোভিড আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মনোজবাবু। গতকাল নবমীর দিন মৃত্যু হয়েছে তাঁর। পুজোর দিনে করোনা যোদ্ধার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে তাঁর পরিবারে। কলকাতা পুলিশের তরফে তাদের টুইটার হ্যান্ডেলে এই কনস্টেবলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। কনস্টেবল মনোজ কুমার সিংয়ের মৃত্যুতে শোকের ছায়া কলকাতার পুলিশ মহলে।

কয়েকদিন আগেই করোনা আক্রান্ত হয়ে কলকাতা পুলিশের আরও এক আধিকারিকের মৃত্যু হয়েছে। কোভিড সংক্রমণে মৃত্যু হয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর সিদ্ধান্ত শেখর দে’র। সশস্ত্র পুলিশের পঞ্চম ব্যাটেলিয়নে কর্মরত ছিলেন তিনি। করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আক্রান্ত হন তিনি। বেশ কিছুদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ওই অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর। তারপর মৃত্যু হয় তাঁর।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় আরও এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টরের। তাঁর নাম গৌতম মাহাতো। কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চে কর্মরত ছিলেন তিনি। তার আগে গত ২১ অগস্ট করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় কলকাতা পুলিশের এসিপি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। গত ৬ জুন করোনায় মৃত্যু হয় কলকাতা পুলিসের সাউথ ডিভিশনের কনস্টেবল সেবাস্তিয়ান খাকার। এরপর ১৩ জুন মারা যান শিয়ালদহ ট্রাফিক গার্ডের কনস্টেবল দিলীপ সর্দার। ১২ জুলাই করোনায় মৃত্যু হয় কলকাতা পুলিশের ইস্ট ট্রাফিক গার্ডের সিভিক ভলান্টিয়ার সুব্রত দাসের। এরপর ২৪ জুলাই মারা যান হেস্টিংস থানার কনস্টেবল কৃষ্ণকান্ত বর্মন। ওই একই দিনে করোনায় মৃত্যু হয় কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের ইকুইপমেন্ট সেলের অফিসার ইনচার্জ অভিজ্ঞান মুখার্জির। গত ২৯ জুলাই করোনায় মৃত্যু হয় চারু মার্কেট থানার কনস্টেবল দেবেন্দ্র নাথ তির্কির। এরপর ৩১ জুলাই করোনায় মৃত্যু হয় চিৎপুর থানার অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর তপন চন্দ্র কুমারের। তারপর ২ অগস্ট করোনায় মৃত্যু হয় জোড়াবাগান ট্রাফিক গার্ডের কনস্টেবল দীপঙ্কর সরকারের।

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের ২ হাজারের বেশি কর্মী সংক্রামিত হয়েছেন। সুরক্ষার স্বার্থে লালবাজারের ভিতরে তৈরি হয়েছে পৃথক আইসোলেশন সেল। কিন্তু তাতেও কোনও ভাবেই এড়ানো যাচ্ছে না করোনার সংক্রমণ। একদম সামনের সারিতে থেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করে যোদ্ধাদের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে চিন্তায় রয়েছে প্রশাসনও।

You might also like