Latest News

মেট্রো নেই, মিত্রাও চলে গেল, অনেক স্মৃতি নিয়ে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে কলকাতার আচ্ছে দিন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেসব একটা দিন ছিল। ছুটির দিনেও হাতিবাগান, ধর্মতলা, হাজরা চত্বর গমগম করত। মাল্টিপ্লেক্সের যুগে সে সব স্মৃতি। হারিয়ে যাচ্ছে সিনেমা হল। হারিয়ে যাচ্ছে সাবেক কলকাতার কত কত গল্প। সেই সাবেক কলকাতা- যখন কেউ সিনেমা দেখতে যেত না। তখন তো হলে ‘বই‍’ আসত।

মিনার, মিত্রা, দর্পণা, রাধা। একটু এগিয়েই পূর্ণশ্রী, খান্না, রূপবাণী। নীল ছবির জন্য বিখ্যাত বিধুশ্রীর তো নামই ছিল, বিধুবাবুর কোচিং সেন্টার। হাতিবাগান চত্বরেই স্টার, সারকারিনা, রংমহলের মতো একাধিক থিয়েটার হল। অল্প জায়গার মধ্যে অনেক আয়োজন। আর তা নিয়ে হাতিবাগান মানে শুধু বাজার নয়, সিনেমা-থিয়েটারের হাজারও আসর। এক এক সময়ে তো এত হলের একটিতেও টিকিট পাওয়া যেত না। সব হল হাউসফুল। সেসব এখন কল্পনারও অতীত।

শুধু কি সিনেমা হলের বাজার নাকি! অনুসারী শিল্প হিসেবে বাইরের দোকানদারদেরও ছিল রমরমা। এক-একটা শো ভাঙলে, হাতিবাগানের চায়ের দোকান, চপের দোকানে খরিদ্দার সামলানো দায়। তেলেভাজা, ঝালমুড়ির গন্ধে ম ম করত সিনেমা বাজার। বাদামের খোসায় ভরে যেত ফুটপাথ।

সুভাষ চক্রবর্তীর অপরেশন সানসাইন হকার উচ্ছেদে সফল হয়নি কিন্তু কোনও অপরেশন ছাড়াই সিনেম হল বিহীন হয়ে চলেছে হাতিবাগান। সবই আছে, শুধু একে একে মুছে যাচ্ছে সিনেমা হলের অস্তিত্ব। এবার সেই তালিকায় জুড়ে গেল মিত্রার নাম। মিত্রায় সিনেমা দেখে গোলবাড়ির কষা মাংস আর পরোটা খাওয়ার স্মৃতিও এবার ইতিহাসে ঢুকে গেল।

‘মরুতীর্থ হিংলাজ’, ‘আনন্দ আশ্রম’ তো অনেক আগের কথা এই তো সেদিন ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ দেখতে জনতার ঢল দেখেছে শ্যামবাজার, হাতিবাগান। একই এলাকার একাধিক হলে চলেছে একই ছবি। ভাবা যায়! না, তখন অনলাইন ছিল না। লাইন দেওয়াই ছিল টিকিট কাটার একমাত্র পথ। এই সব জায়গায় রাত জেগে লাইন দিত মানুষ। মিনার, মিত্রা, দর্পণার টানে দিনরাত এক হয়ে যেত উত্তর কলকাতার।

বদলটা আসতে থাকে নয়ের দশকের গোড়া থেকেই। মধ্যবিত্তের ঘরে ঘরে ঢুকতে শুরু করে টিভি। এর পরে এল ফ্ল্যাট কালচার, তার পিছু নিয়ে শপিং মল। বাদামভাজার জায়গা নিল পপকর্ন। সিনেমা হল সেদিন থেকে পিছু হঠতে শুরু করল মাল্টিপ্লেক্সের সামনে।

হাতিবাগানের মতোই ছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড। বাসস্টপের নাম আজও পূর্ণ। কিন্তু অপূর্ণ স্বপ্নের মতো সেই পূর্ণ সিনেমা হলটাই নেই। এক দিন পূর্ণ থিয়েটার হল হয়েছিল সিনেমা হল। তারপর শপিং মল…।

ভাবা যায় হারিয়ে যাওয়া সেই পূর্ণ হলেই ‘শোলে’ রিলিজের দিনে লাঠি চালাতে হয়েছিল পুলিশকে। ইতিহাস জানে সিনেমা দর্শক সামলাতে এক্সট্রা ফোর্স আনতে হয় ভবানীপুর থানা থেকে।

নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল শামশের মহাবীর রানার কলকাতায় প্রচুর জমি-জায়গা ছিল। এখনকার নিউ মার্কেট হগ সাহেবের বাজার এলাকাতেও ছিল জমি। ইউরোপ থেকে আনা আর্কিটেক্ট-কে দিয়ে বানানো হয় নিউ এম্পায়ার। রবীন্দ্রনাথের উপস্থিতিতে ‘নটীর পূজা’র অভিনয় হয় নিউ এম্পায়ারে। নিউ এম্পায়ারের পাশের জমিতে একই মালিকানায় তৈরি হয় লাইটহাউস।

বছর ২০ আগে আগুন লাগে লাইটহাউসে। পরে কলকাতা পুলিশ লাইসেন্সও বাতিল করে দেয়। জুড়ি হারিয়ে নিউ এম্পায়ার এখন একা। তবু নিউ এম্পায়ার নিজেকে আধুনিক করে সামলে নিতে পেরেছে, যেটা পারেনি অনেকেই। কলকাতার খ্যাতি ‘মেট্রো’ সিনেমা হল এখন ‘মেট্রো বাজার’।

আর কিছু দিন। তার পরে আর কষ্ট হবে না। উত্তরা-পূরবী-উজ্জ্বলা, মিনার-বিজলি-ছবিঘর, রাধা-পূর্ণ-প্রাচী, রূপবাণী-অরুণা-ভারতী এমন সব বাঙালির নিঃশ্বাস, প্রশ্বাঃসে জড়িয়ে থাকা নামগুলোই তো মুছে যাবে স্মৃতি থেকে।

আরও পড়ুন-

https://www.four.suk.1wp.in/news-kolkata-mitra-cinema-hall-has-been-closed-after-88-years/

You might also like