Latest News

অগস্ট থেকে কোনও ‘চেয়ার প্রফেসর’ থাকছেন না প্রেসিডেন্সিতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করে প্রেসিডেন্সি কলেজ। আর তারপরেই ক্ষমতায় আসার পর ২০১২ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মান বিশ্বের সামনে ফের আগের মতো তুলে ধরার জন্য ৫টি চেয়ার প্রফেসরের পদ তৈরি করা হবে। সেইমতো তিনজন প্রফেসরকে তিনটি চেয়ার প্রফেসরের পদে নিয়োগও করা হয়। কিন্তু বর্তমানে একজন চেয়ার প্রফেসর রয়েছেন প্রেসিডেন্সিতে। তাঁর মেয়াদ ফুরিয়ে যাচ্ছে ৩১ জুলাই। সুতরাং অগস্ট মাস থেকে আর কোনও চেয়ার প্রফেসর থাকছেন না প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

যে পাঁচটি চেয়ার প্রফেসরের পদ তৈরি করা হয়েছিল সেগুলি হলো, লিটারেচার ও কালচারাল স্টাডিজের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ডিসটিংগুইশড চেয়ার প্রফেসর, ন্যাচারাল সায়েন্সের জন্য আচার্য জগদীশ চন্দ্র বোস ডিসটিংগুইশড চেয়ার প্রফেসর, ইকোনমিক্সের জন্য সুভাষ চন্দ্র বোস ডিসটিংগুইশড চেয়ার প্রফেসর, ইন্টার কালচারাল ডায়লগ ও পিস স্টাডিজের জন্য নজরুল ইসলাম ডিসটিংগুইশড চেয়ার প্রফেসর ও দর্শনের জন্য স্বামী বিবেকানন্দ ডিসটিংগুইশড চেয়ার প্রফেসর।

এই পাঁচটি পদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ডিসটিংগুইশড চেয়ার প্রফেসর, আচার্য জগদীশ চন্দ্র বোস ডিসটিংগুইশড চেয়ার প্রফেসর ও সুভাষ চন্দ্র বোস ডিসটিংগুইশড চেয়ার প্রফেসর-এর জন্য তিনজন প্রফেসর নিয়োগ করা হয় ২০১৪ সালে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রফেসর সব্যসাচী ভট্টাচার্য্যকে আচার্য জগদীশ চন্দ্র বোস ডিসটিংগুইশড চেয়ার প্রফেসর পদে নিয়োগ করা হয়। কিন্তু ২০১৫ সালের জুলাই মাসে তিনি সেই পদ ছেড়ে দেন। সব্যসাচীবাবু অভিযোগ করেন, সেখানে পড়ানোর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হচ্ছে। তাই তাঁর পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়।

২০১৪ সালের মার্চ মাসে প্রফেসর সজল নাগকে সুভাষ চন্দ্র বোস ডিসটিংগুইশড চেয়ার প্রফেসর পদে নিয়োগ করা হয়। কিন্তু ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনিও পদত্যাগ করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অনেক পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্যের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নজরুল ইসলাম ডিসটিংগুইশড চেয়ার প্রফেসর ও স্বামী বিবেকানন্দ ডিসটিংগুইশড চেয়ার প্রফেসর পদে এখনও পর্যন্ত কোনও শিক্ষক নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি।

অর্থাৎ এখন কেবলমাত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ডিসটিংগুইশড চেয়ার প্রফেসর পদে রয়েছেন প্রফেসর স্বপন চক্রবর্তী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ইংরেজির অধ্যাপক ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই পদে যোগ দেন। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিকের কথায়, “২০১৯ সালের ৩১ জুলাই স্বপনবাবুর কার্যকাল শেষ হয়ে যাচ্ছে। তারপর আমাদের আর একজন চেয়ার প্রফেসরও থাকবেন না।”

কিন্তু কেন এমন হলো?

প্রেসিডেন্সির এক অধ্যাপকের কথায়, “২০১৫ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর সুগত বসুর নেতৃত্বে যে মেন্টর গ্রুপ গঠন করা হয়েছিল, তাদের উপরেই ভরসা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের। ২০১৮ সালে এই মেন্টর গ্রুপের কার্যকাল শেষ হয়ে যাওয়ার পর থেকে এই বিষয় নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।” আরেক অধ্যাপক জানিয়েছেন, “আমরা এটা বুঝতে পারছি না, কেন এই পদগুলিতে অধ্যাপক নিয়োগের ব্যাপারে যত্নবান হলেন না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কারণ এই পদে অধ্যাপক নিয়োগ হলে তাতে গোটা দুনিয়ায় প্রেসিডেন্সির মান অনেকটা বাড়ত।” অবশ্য এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়া কোনও মন্তব্য করেননি।

You might also like