Latest News

বরফ জমছিল শরীরে, থেমে যাচ্ছিল শ্বাস, কানাডা সীমান্তে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় এই ভারতীয় পরিবারের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিরায় শিরায় কাঁপন ধরছিল। হাড়হিম ঠান্ডায় একটু একটু করে জমে যাচ্ছিল রক্ত। থেমে যাচ্ছিল শ্বাস। প্রায় ৪০ ফুট উঁচু পাহাড়ি উপত্যকায় মাইনাস ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দুই শিশুকে নিয়ে ছটফট করছিলেন জগদীশ বলদেবভাই পটেল ও তাঁর স্ত্রী বৈশালীবেন পটেল। মার্কিন-কানাডা সীমান্তে বরফে জমে মৃত্যু হয় এই ভারতীয় পরিবারের। দুই সন্তানকে নিয়ে নির্মম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন দম্পতি।

আমেরিকা-কানাডার সীমান্তের কাছে বরফে জমে এক ভারতীয় পরিবারের মৃত্যুর খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। নড়েচড়ে বসে দেশের বিদেশমন্ত্রক। কানাডা সরকার ও সেখানকার ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে গোটা ঘটনা জানার চেষ্টা চলে। নিহত ভারতীয় পরিবারের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছিল এতদিন। জানা গেছে, কানাডার কাছে মানিটোবা পাহাড়ি এলাকায় বরফে জমে মৃত্যু হয় এক দম্পতি ও তাঁদের দুই সন্তানের। জগদীশ, বৈশালীবেন ও তাঁদের তিন বছরের ছেলে ধার্মিক ও ১১ বছরের মেয়ে বিহাঙ্গির নিথর দেহ উদ্ধার করে মানিটোবা রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেন পুলিশ।

কানাডা পুলিশ জানাচ্ছে, কোনও পাচারকারী খপ্পরে পড়েছিল ওই পরিবার। তাদের অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় সীমান্ত এলাকাতেই ছেড়ে দিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। সেখান থেকে আর ফিরতে পারেননি অসহায় মানুষগুলো। প্রচণ্ড ঠান্ডায় জমেই মৃত্যু হয় তাদের।

স্টিভ শ্যান্ড নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে মার্কিন পুলিশ। পাচারকারী চক্রের সঙ্গে এই স্টিভের যোগসূত্র আছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই স্টিভ ফ্লোরিডার বাসিন্দা। সম্ভবত পাচারকারী দলের সঙ্গে এর যোগসূত্র রয়েছে। স্টিভকে জেরা করে জানা গেছে, মৃতদের কোনও বৈধ নথিপত্র ছিল না। সীমান্ত পার করিয়ে তাদের পাচার করা হচ্ছিল। ওই দলে আরও পাঁচজন ভারতীয় ছিল। তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।

ওই পরিবারের চারজন কোনওভাবে দলছুট হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড ঠান্ডায় অন্ধকার পথ পার হতে গিয়ে তাদের মর্মান্তিক পরিণতি হয়। প্রায় ৪০ ফুট উঁচু পাহাড়ি এলাকায় বরফের মধ্যে পড়েছিল চারজনের দেহ। ওই এলাকার তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নীচে।

পুলিশ জানাচ্ছে, একটি ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ভারতীয়দের। ওই ভ্যান থেকে খাবারের ব্যাগ, জলের বোতল, প্লাস্টিকের কাপ, জুসের প্যাকেট  ও স্ন্যাকস পাওয়া গেছে। পুলিশের অনুমান, ভ্যানে করে নিয়ে গিয়ে হেঁটে সীমান্ত পার করানোর উদ্দেশ্য ছিল পাচারকারীদের। তবে তার আগেই চারজন দলছুট হয়ে অন্য পথে চলে যায়। প্রায় ১১ ঘণ্টা হাঁটানো হয়েছিল তাদের।

টরন্টোর কনসুলেট জেনারেল অব ইন্ডিয়ার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, মৃতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাদের সবরকমভাবে সহযোগিতা করা হবে।

You might also like