Latest News

গ্রেফতার সুশান্ত সিংয়ের রাঁধুনি, মৃত্যুর তদন্তে নেমে মাদক চক্রের হদিশ মিলতে শুরু করেছে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিঁপড়ে খুঁজতে গিয়ে ক্রমশই যেন গোখরো সাপ বেরিয়ে পড়ছে। সুশান্ত সিং রাজপুত মৃত্যুকাণ্ডের তদন্তে নেমে বড়সড় মাদক চক্রের হদিশ পাচ্ছে পুলিশ।

যে রবিবাসরীয় সকালে বান্দ্রার বহুতলে সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃতদেহ উদ্ধার হয়, সে দিনই ঘটনাসূত্রে প্রথম বার তাঁর রাঁধুনির নাম উঠে এসেছিল—দীপেশ সাওয়ান্ত। মাঝ বয়সী লোক। দোহারা চেহারা। পুলিশ জানিয়েছিল, মৃত্যুর আগে দীপেশের থেকে নাকি এক গ্লাস ফলের রস চেয়ে খেয়েছিলেন সুশান্ত।

শনিবার সন্ধ্যায় সেই দীপেশকেই গ্রেফতার করে নিল এনসিবি। অভিনেত্রী-মডেল রিয়া চক্রবর্তীর ভাই শৌভিক চক্রবর্তী এবং স্যামুয়েল মিরান্ডার পর দীপেশ সাওয়ান্তকে গ্রেফতার করল নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। আজ এনসিবির দফতরে তলব করা হয়েছিল দীপেশকে। তাকে দীর্ঘ জেরা করে তার বয়ান রেকর্ড করেন নারকোটিক্স ব্যুরোর অফিসাররা। সন্ধ্যায় জেরার শেষে দীপেশ সাওয়ান্তকে গ্রেফতার করা হয়।

সুশান্ত সিং রাজপুতের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় মাদক যোগ রয়েছে বলে প্রথম বলিউডের মধ্যে থেকেই আওয়াজ উঠেছিল। সেই সব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছিল এনসিবি। তার পর দেখা যায়, যা রটেছে তা কিছুটা নয়, অনেকটাই বটে। তদন্তে নামার পর থেকে ইতিমধ্যে আটজনকে গ্রেফতার করেছে নারকোটিক্স ব্যুরো। এনসিবির এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, দীপেশ সাওয়ান্তকে গ্রেফতার করে এই মাদক চালানের ঘটনার অন্যতম সাক্ষীও করা হতে পারে। সবটাই অবশ্য তদন্তের গতিপ্রকৃতির উপর নির্ভর করছে।

তবে শুধু সুশান্তের সঙ্গে যোগাযোগে থাকা লোকজনই নারকোটিক্স ব্যুরোর সন্দেহের তালিকায় নেই। বরং গোয়া, বেঙ্গালুরু এবং মুম্বই, বিশেষ করে বলিউডের রাঘব বোয়ালদের সঙ্গে জড়িত মাদক পাচারকারীদের উপর আপাতত কড়া নজর রেখেছে এনসিবি। কারণ যে সমস্ত মোবাইল ফোনের চ্যাটের অংশবিশেষ সিবিআই, ইডি এবং নারকোটিক্স ব্যুরোর হাতে এসেছে এবং সেখানে ড্রাগ বা মাদকের ধরণ, ডোজ, প্রভাব, কীভাবে মাদক পাওয়া যাবে—ইত্যাদি নিয়ে বিশদে আলোচনার ট্রেইল পাওয়া গিয়েছে। তার ফলে সুশান্তের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটন নিয়ে সন্দেহ এবং রহস্য দুটোই পাল্লা দিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে।

গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার রাতে সুশান্তের বান্ধবী রিয়ার ভাই শৌভিক চক্রবর্তী এবং প্রয়াত অভিনেতার বান্দ্রার ফ্ল্যাটের ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডাকে গ্রেফতার করেছিল এনসিবি। শুক্রবার ভোর থেকেই এই দু’জনের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছিল নারকোটিক্স ব্যুরোর সার্চ টিম। তল্লাশির পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শৌভিক এবং স্যামুয়েলকে নিয়ে যাওয়া হয় এনসিবির দফতরে। দিনভর জেরার পর রাতে গ্রেফতার হন তাঁরা। আজ আদালত রায় দিয়ে জানিয়েছে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নারকোটিক্স ব্যুরোর হেফাজতে থাকবেন এই দু’জন।

এর আগে ইব্রাহিম কাইজান, আবদুল বসিত পরিহার এবং জাইদ ভিলাত্রা নামের তিন মাদক পাচারকারী বা ড্রাগ পেডলারকে গ্রেফতার করেছিল এনসিবি। এদের মধ্যে আজ কাইজানকে ১৪ দিনের জন্য বিচার বিভাগীয় হেফাজত (জুডিশিয়াল কাস্টোডি) দেওয়া হয়েছে। যদিও সে জামিন পেয়ে গিয়েছে বলে খবর। তবে বাকি দু’জন নারকোটিক্স ব্যুরোর হেফাজতে রয়েছে।

নারকোটিক্স ব্যুরোর অভিযোগ, শৌভিক এবং স্যামুয়েলের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ড্রাগ পেডলার জাইদ ভিলাত্রার। জাইদের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল আর এক মাদক পাচারকারী আবদুল বসিত পরিহার।

মূলত সুশান্তের মৃত্যুর ঘটনায় কোনও আর্থিক কেলেঙ্কারির যোগ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই তদন্তের সময় আধিকারিকদের হাতে আসে বেশ কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের অংশ-বিশেষ। সেখানে দেখা গিয়েছিল রিয়া, তাঁর ভাই শৌভিক, সুশান্তের ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডা, গোয়ার হোটেল ব্যবসায়ী গৌরব আর্য এবং সুশান্তের প্রাক্তন ম্যানেজার শ্রুতি মোদী মাদকের ধরন, ডোজ, প্রভাব এসব নিয়ে আলোচনা করেছেন। এরপরেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের চিঠি পেয়ে তদন্তে নামে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো।

You might also like