Latest News

বিধ্বংসী করোনা ঝড় দেশে, দৈনিক সংক্রমণ লাখ ছুঁয়েছে, বেড়ে চলেছে ওমিক্রন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ অতি সাঙ্ঘাতিক পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। দেশে যেখানে কোভিড গ্রাফ নিম্নমুখী ছিল, এখন তাই বিপদসীমা ছাড়াতে চলেছে। আবারও রেকর্ড সংক্রমণ ধরা পড়ছে দেশে। দৈনিক আক্রান্ত লাখ ছুঁতে চলেছে। কোভিডের সেকেন্ড ওয়েভের সময় প্রতিদিনে চার লাখ সংক্রমণ ধরা পড়ত। ফের তেমন পরিস্থিতি তৈরি হবে কিনা সে নিয়ে উদ্বেগে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন বলছে, দৈনিক সংক্রমণ ৫৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। দেশের ‘আর-নম্বর’ বেড়ে চলেছে। মহারাষ্ট্রে দৈনিক সংক্রমণ সাতশোর বেশি, দিল্লিতে পাঁচশো ছুঁয়েছে, কর্নাটক ও গুজরাটে দুশোর বেশি।

মুম্বইয়ের ছবিটা বোধহয় সবচেয়ে ভয়াবহ। গত তিন দিনের মধ্যে শহরের সরকারি হাসপাতালগুলির ২২০ জন চিকিৎসক কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাচ্ছে, একদিনে পাঁচশোর কাছাকাছি ওমিক্রন আক্রান্ত দেশে। কোভিডের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে দেশে। রাজস্থানে ৭৩ বছর বয়সী এক মহিলা ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বড় শহরগুলিতে করোনা সংক্রমণ ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আক্রান্তদের জিনোম সিকুয়েন্স করে দেখা গেছে, বেশিরভাগই ওমিক্রন আক্রান্ত। অনেকের আবার বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাসই নেই।

পশ্চিমবঙ্গেও বাড়ছে কোভিড রোগীর সংখ্যা। বুধবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিনে দেখা গেছে একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১৪ হাজার। সংক্রমণের হার তথা পজিটিভিটি রেটও বেশি।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর শীর্ষস্থানীয় এপিডেমোলজিস্ট ড. সমীরণ পাণ্ডা বলেছেন,

কোভিডের নয়া প্রজাতি এলেও মিউটেশনের গতি একসময় কমে যাবে। ভাইরাল স্ট্রেনও দুর্বল হতে থাকবে। যদি মানুষের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বেড়ে থাকে এবং হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়, তাহলে নতুন করে কোভিড ওয়েভ আসার সম্ভাবনা নেই। ড. সমীরণের বক্তব্য, ঠিক যেমন করে সার্স ভাইরাসের মহামারী নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল তেমনভাবেই সার্স-কভ-২ শক্তিহীন হয়ে পড়বে।

করোনা তখনই হার মানবে যখন মানুষ সচেতন হবে, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞের। তাঁর পরামর্শ, সংক্রমণের গতি কমবে এবং ভাইরাল স্ট্রেনও দুর্বল হবে, যদি ঠিকঠাক কোভিড বিধি মেনে চলা যায়। তিনটি শর্ত মানলেই করোনার তাণ্ডব কমবে। কী সেই শর্ত– কোনও রকম জমায়েত করা যাবে না, অনাবশ্যক ঘোরাঘুরি বা ভ্রমণ নয় এবং মাস্ক বাধ্যতামূলক। আগামী তিন মাস কঠোরভাবে এই নিয়ম মেনে চললেই করোনা বিদায় নেবে, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞের।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like