Latest News

নির্ভয়া কাণ্ড: দোষী বিনয় কুমারের প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ রাষ্ট্রপতির

নির্ভয়া কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত বিনয় কুমারের প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্ভয়া কাণ্ডে দোষী বিনয় শর্মার প্রাণভিক্ষার আর্জিও খারিজ করছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এদিকে এক দোষীর আর্জি খারিজ হত না হতেই রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আর্জি জমা দিয়েছে নির্ভয়া কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত অক্ষয় ঠাকুর।

গত বৃহস্পতিবার রাষ্টপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়েছিল নির্ভয়া কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত বিনয় শর্মা। ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টায় তিহাড় জেলে ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল নির্ভয়া গণধর্ষণ কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত পবন কুমার গুপ্ত, অক্ষয় ঠাকুর, মুকেশ সিং এবং বিনয় শর্মার।

তবে তারিখ ঘোষণার পর থেকেই চলছে টালবাহানা। কখনও প্রাণভিক্ষার আর্জি তো কখনও কিউরেটিভ পিটিশন, কখনও বা সরাসরি রাষ্ট্রপতির খারিজ করা রিভিউ পিটিশনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে এই চার দোষী। আপ্রাণ চেষ্টা চলছে ফাঁসির দিন পিছনোর। পরপর এত আপিলের দৌলতে ৩১ জানুয়ারি বিকেলেই আদালত জানিয়ে দেয় ১ ফেব্রুয়ারি ফাঁসি দেওয়া সম্ভব নয় এই চার দোষীকে। তবে আদালতের এই রায়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফের আর এক দোষী বিনয় শর্মার প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ করেছেন রাষ্ট্রপতি।

জেলের ভিতরে দিনের পর দিন যৌন নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছিল বলে আগেই দাবি করেছিল আসামি মুকেশ সিং। প্রায় একই দাবি করেছিল বিনয় শর্মাও। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানিয়েছে বিনয়ের আইনজীবী এপি সিং বলেছিলেন, তাঁর মক্কেলকে জেলের ভিতর প্রতিদিন চরম নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। রোজই একপ্রকার মরেছে সে। তাই আর মৃত্যুদণ্ডের কী দরকার।

বিনয়ের বয়ানে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে লেখা পিটিশনে তার কৌঁসুলি সে সময় লিখেছিলেন, “আমি মনে করি এই প্রাণভিক্ষার আর্জি আপনি শুনবেন। কারণ কেউ আমার কথা শুনতে চাইছে না। ২০১২ সালের সেই ভয়ঙ্কর রাত আমার জীবন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এরপরেও জেলের ভিতর অত্যাচার সয়েছি। এখন আপনিই ঠিক করুন মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র সাজা কিনা।”

তবে শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়েছে বিনয় শর্মার প্রাণভিক্ষার আর্জি। অনেকেই এখন অনুমান করছেন হয়তো ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখ ফাঁসি হতে পারে নির্ভয়া কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত এই চারজনের। কারণ প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ হলে মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর হওয়ার মধ্যে ১৪ দিন সময় পাওয়া যায়। এখনও পর্যন্ত একমাত্র দোষী মুকেশ সিংয়েরই সবরকম আপিল করা হয়ে গিয়েছে এবং সেসব রাষ্ট্রপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের দরবারে খারিজও হয়ে গিয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ড পাঠানোর জন্য বাকি তিন দোষীর সবরকম আর্জি জানানোর রাস্তা এখনও বন্ধ হয়নি।

ফাঁসির দিন ঘোষণার পর থেকেই মৃত্যুদণ্ডের সাজা পিছিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে এই চার দোষী। দায়ের হচ্ছে একের পর এক পিটিশন। খারিজও হচ্ছে। তবে তারপর ফের নতুন নতুন কৌশল নিয়ে ময়দানে নামছেন দোষীদের কৌঁসুলি। ক্রমশই পিছিয়ে যাচ্ছে ফাঁসির দিন। বারবার সাজার দিন পিছতে থাকায় ক্ষুব্ধ দেশের আমজনতার একটা বড় অংশ। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পিছিয়ে গিয়েছে ফাঁসির দিন। ভেঙে পড়েছেন নির্ভয়ার মা আশা দেবীও। শুক্রবার ফের সাজার দিন পিছিয়ে যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, অপরাধীদের উকিল এখন গর্ব করে বলছেন চারজনের কখনই ফাঁসি হবে না।

You might also like