Latest News

সুভাষ চক্রবর্তী বেঁচে থাকলে বুদ্ধদেবের পদ্মভূষণ প্রত্যাখ্যান নিয়ে পার্টির সঙ্গে বিরোধ বাঁধত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রীয় সম্মান পদ্মভূষণ প্রত্যাখ্যান করলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। বলাই যায়, এটা তাঁর দলের সিদ্ধান্ত।

সিপিএমের প্রাক্তন মন্ত্রী প্রয়াত সুভাষ চক্রবর্তী বেঁচে থাকলে বুদ্ধদেবের জাতীয় সম্মান প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধ বাঁধত পার্টির সঙ্গে। সুভাষ খোলামেলা বলতেন, ‘দেশ আগে, দল পড়ে।’ রাষ্ট্রীয় সম্মান নিয়ে বলতেন ‘সে তো রাষ্ট্রীয় অমূল্য।’ শুধু তাই নয়, মন্ত্রী সুভাষ এক ব্যবসায়ীকে পদ্মশ্রী দেওয়ার আর্জি জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে সরকারি প্যাডে চিঠিও লেখেন। তা নিয়ে দলের ভর্ৎসনার পরও অবস্থান বদলাননি বিতর্ক সঙ্গী করে চলা এই সিপিএম নেতা।

এর পরও ১৯৯৮ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যুদ্ধ বেঁধেছিল। যা কারগিল যুদ্ধ নামে খ্যাত। ওই যুদ্ধে নিহত ভারতীয় সেনাদের শহিদ বলে সম্মান জানিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন সুভাষ।

যুদ্ধে নিহত ভারতীয় সেনাদের দেহ নিজের নিজের রাজ্যে সামরিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য করা হয়। বাংলায় প্রশাসন এবং বিভিন্ন দল তাতে যুক্ত হলেও ক্ষমতাসীন সিপিএম ও অন্য বাম দলগুলি নীরব ছিল। যুদ্ধে নিহত হন বরানগর সিঁথি এলাকার তরুণ কনাদ ভট্টাচার্য। তিনি ছিলেন সেনার কর্নেল। সুভাষ বাবুর অনুগামীরা তাঁর হয়ে কনাদের দেহে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এর কিছুদিনের মধ্যে বহরমপুরে এসএফআইয়ের একটি সম্মেলনে সুভাষ বলেন, কারগিলে শহিদ ভারতীয় সেনাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।

তাঁর বক্তব্য নিয়ে হইচই শুরু হয়। যদিও সরাসরি পার্টি নেতৃত্ব সেন্সর করেনি। কিন্তু পার্টির অন্য নেতারা তাঁর কোথায় সায়ও দেননি। এর কিছুদিন পর পার্টির সঙ্গে বিরোধ বাঁধলে দল ছাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন প্রায়ই তিনি বলতেন, দল আগে নয়। দেশ আগে। দেশকে ভালোবাসতে হবে আগে। সেই সময় তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির বোঝাপড়া প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। নতুন দল গড়ে সুভাষ তৃণমূলের সঙ্গে বোঝাপড়া করবে বলেও ঠিক হয়। সল্টলেক স্টেডিয়ামে মমতা-সুভাষ বৈঠক তুমুল কৌতুহলের সৃষ্টি করে। শেষ পর্যন্ত দল ছাড়েননি সুভাষ।

You might also like