Latest News

গোবর মেখে করোনা তাড়ানোর চেষ্টা! বিপদ বাড়ছে বই কমছে না, সাবধান করলেন চিকিৎসকরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোবর মাখলে করোনা সেরে যায় বা গোমূত্র খেলে করোনা হয়ই না– এরকম নানা দাবিদাওয়া গত বছর থেকেই ভেসে আসে দেশের নানা প্রান্ত থেকে। ধর্মান্ধ একদল মানুষ যে কোনও কারণেই হোক এসব তথ্য ছড়িয়ে আসছেন, আর কিছু মানুষ তা মেনে চলার চেষ্টাও করছেন। তবে এই করতে গিয়ে বিপদ বাড়ছে বই কমছে না, এমনটাই বলছেন চিকিৎসকরা। তাঁরা সাফ জানিয়েছেন, একে তো এসবের কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, বরং এসব থেকে ছড়াতে পারে আরও অন্যান্য রোগ। তাই করোনা প্রতিরোধে গোবর ও গোমূত্র ব্যবহার করতে বারণ করছেন চিকিৎসকরা।

গত কয়েক মাস ধরে কোভিডের দ্বিতীয় ঝড়ের দাপটে টালমাটাল পরিস্থিতি। ওষুধের অভাব শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন ধরে। হাসপাতাল, বেড, অক্সিজেন– সবেরই আকাল দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই যেন আরও বেশি করে ভরসা রাখছেন ঘরোয়া চিকিৎসার উপর, নানান টোটকার উপর। আর তা করতে গিয়েই বিপত্তি। জানা গেছে, গুজরাট সহ দেশের পশ্চিম দিকের রাজ্য রাজ্যগুলিতে অনেকেই গোবর ও গোমূত্র ব্যবহার করছে।

বস্তুত, অনেকেরই বিশ্বাস, গোবর মাখলে ও গোমূত্র খেলে নাকি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, যা করোনার সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে। ফলে অনেকেই রীতিমতো গোয়ালে গিয়ে মাঝেমাঝেই গোটা শরীরে গোবর ও গোমূত্র মাখছে করোনার সঙ্গে লড়তে। চিকিৎসকরা এই অভ্যেসে বিপদ দেখছেন। এর কোনও বৈজ্ঞানিত সত্যতা নেই বলেই জানিয়েছেন তাঁরা।

এমনিতে হিন্দুধর্মে গরুকে পবিত্র প্রাণী বলে মানা হয়, গোবর দিয়ে ঘর নিকোনোর পদ্ধতিও নতুন নয়। আবার নিয়মিত গোমূত্র পানে নানা রোগঅসুখ সারে, এরকম ধারণাও বহু দিনের। কিন্তু এসব রীতি হিসেবে পালিত হলেও, বিজ্ঞানের দিক থেকে এর কোনও ব্যাখ্যা নেই।

তা সত্ত্বেও করোনা পরিস্থিতিতে এই গোবর ও গোমূত্র নিয়ে রীতিমতো বাড়াবাড়ি করছেন এক শ্রেণির মানুষ। আমেদাবাদের একটি গোয়ালের মালিক মধুচরণ দাস জানিয়েছেন, সম্প্রতি থেকেই তাঁর গোয়ালে এসে মানুষ ভিড় করছেন। তারা গোবরের সঙ্গে গোমূত্র মিশিয়ে সারা শরীরে মেখে যোগাসন করছেন। বেশ কিছুক্ষণ পরে শরীরে ধুয়ে নিচ্ছেন দুধ অথবা বাটারমিল্ক দিয়ে। চিকিৎসকরা সাবধান করছেন এভাবেই পশুর থেকে একসঙ্গে অনেক মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে অন্যান্য রোগ।

ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়শনের চিকিৎসক জেএ জয়ালাল জানিয়েছেন, গোবর ও গোমূত্র করোনার বিরুদ্ধে লড়তে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে এমন কোনও প্রামাণ্য তথ্য নেই। এটা একটা বিশ্বাস মাত্র। তবে এ বিশ্বাসে ঝুঁকি রয়েছে। পশুর শরীর থেকে মানুষের শরীরে অন্যান্য রোগ সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়াও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনেকেই একেবারে অন্ধবিশ্বাসে গোবর ও গোমূত্র ব্যবহার করে নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন এবং কোভিড বিধি মানছে না। ফলে আরও ঝুঁকি বাড়ছে। শুধু তাই নয়, গোয়ালে একসঙ্গে অনেকের ভিড় করাও ঠিক নয়।

You might also like