Latest News

ব্রেনে এত বড় ফাঙ্গাস? বিশ্বে প্রথম! টিউমার ভেবে অস্ত্রোপচার করে চমকে গেলেন ডাক্তাররা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড সারিয়ে উঠেছিলেন মহিলা। বেশ কয়েক সপ্তাহ হয়েছে। তার পরেই তীব্র মাথার যন্ত্রণা। এমআরআই করে ডাক্তাররা দেখলেন, মাথার ভেতরে বাদামের আকারের ছোট টিউমার। পরে অস্ত্রোপচার করাবেন বলে গাফিলতি করেছিলেন মহিলা। ফলও হল মারাত্মক। সপ্তাহ দুয়েক পরেই দেখা গেল টিউমারটির আকার ২০ গুণ বেড়ে গেছে। অস্ত্রোপচার করে চমকে গেলেন ডাক্তাররাও। টিউমার তো নয়? তেমনই দেখতে লাগছিল, কিন্তু এ জিনিস অন্য। দ্রুত শাখাপ্রশাখা মেলছিল মস্তিষ্কের ভেতরে। এমনও সম্ভব!

মধ্যপ্রদেশের এক মহিলার ব্রেন সার্জারি করে সে রিপোর্ট সামনে এনেছেন নিউরোসার্জনরা। আর এই রিপোর্ট দেখে রীতিমতো চমকে গেছে বিজ্ঞানীমহল। ইনদওর মেডিকেয়ার হাসপাতালের নিউরোসার্জন ডাঃ দীপক কুলকার্নি বলছেন, গোড়াতে সিটি স্ক্যান করে ছোট আকারের টিউমার মনে হয়েছিল। পরে এমআরআই করে দেখা যায়, দুই সপ্তাহের মধ্যে সেটা ২০ গুণ বেড়ে গেছে। কোষের অনিয়মিত বৃদ্ধি এত তাড়াতাড়ি এত বিশালভাবে কী করে হল সেই নিয়ে ধন্দে ছিলেন ডাক্তাররা। অস্ত্রোপচারের পরে টিউমারের মতো মাংসপিণ্ডটা কাটাছেঁড়া করে দেখা যায়, আসলে সেটা ছত্রাক। সংক্রামক অ্যাসপারজিলাস ছত্রাক যা নিয়ে কিছুদিন আগেই শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। কোভিড সারিয়ে ওঠা রোগীদের অ্যাসপারজিলাস নামক ছত্রাকের হানায় অ্যাসপারজিলোসিস রোগ হতে দেখা যাচ্ছিল। সেই ছত্রাকই ব্রেনের কোষের মধ্যে ঢুকে গিয়ে ডালপালা মেলে বিশাল আকার নিয়েছে।

নিউরোসার্জন ডাঃ দীপক কুলকার্নি বলছেন, ব্রেন সার্জারি করে টিউমার, বুলেট বের করেছেন তিনি। জটিল ক্ষতও সারিয়েছেন। কিন্তু এত বড় ফাঙ্গাস টিউমারের মতো আকার নিয়ে মস্তিষ্কে বাসা বেঁধেছে, সেটা আগে কখনও দেখা যায়নি। এটি আকার-আয়তনেই প্রায় ৮.৪*৪*৪.৬। বায়োপসি করে ফাঙ্গাসের ধরন বুঝতে পেরেছেন ডাক্তাররা। সেটি অ্যাসপারজিলাস গোত্রের ছত্রাকই। নিউরোসার্জনদের দাবি, বিশ্বে প্রথম মানুষের ব্রেনে এত বড় ছত্রাক দেখা গেছে।

What is Aspergillosis?
অ্যাসপারজিলাস

ইদানীংকালে কোভিড রোগী বা কোভিড সারিয়ে ওঠা রোগীদের মধ্যেই ছত্রাকের সংক্রমণ বেশি দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের রোগ মিউকরমাইকোসিসের পরে অ্যাসপারজিলাস গোত্রের ছত্রাকের সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। ফুসফুস, সাইনাস ও অন্যান্য অঙ্গ আক্রান্ত হচ্ছে। মধ্যপ্রদেশের ওই মহিলাও কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন, সে কারণেই ছত্রাকের রোগ দেখা গেছে কিনা তা নিশ্চিত করা যায়নি।

অ্যাসপারজিলোসিস ছত্রাক মৃত ও পচনশীল জৈব বস্তুতে জন্মায়। বাসি খাবার, নোংরা আবর্জনা থেকেও এই ছত্রাকের রেণু ছড়াতে পারে। বাতাসে ভেসে বা নোংরা জল, খাবারের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ঢুকতে পারে। অ্যালার্জিক ব্রঙ্কোপালমোনারি অ্যাসপারজিলোসিস (এবিপিএ) সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে রোগীদের। তাছাড়া ক্রনিক পালমোনারি অ্যাসপারজিলোসিস, ইনভ্যাসিভ অ্যাসপারজিলোসিস হতেও দেখা যাচ্ছে। নিউরোসার্জনরা বলছেন, নাক বা মুখ দিয়ে ছত্রাকের রেণু ঢুকে মস্তিষ্কেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে, যেমন মধ্যপ্রদেশের মহিলার হয়েছে।

ডায়াবেটিস আছে বা রক্তে শর্করার পরিমাণ অনিয়ন্ত্রিত, এমন রোগীদের অ্যাসপারজিলোসিসের ঝুঁকি বেশি। তাছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে কোনও জটিল রোগের চিকিৎসায় আছেন এমন রোগী, শরীরে কোমর্বিডিটি আছে যাদের তারাও হাই-রিস্ক গ্রুপে। অক্সিজেন থেরাপি চলছে এমন রোগীদের শঙ্কাও বেশি, যদি সঠিক উপায় ও পরিচ্ছন্নতা বজায় না রেখে থেরাপি করা হয় তাহলে। স্টেরয়েডের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার থেকেও অ্যাসপারজিলোসিস হতে পারে।

You might also like