Latest News

কংগ্রেসকে পাশে নিয়েই যস্মিন দেশে যদাচার নীতি সিপিএমের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে গত হায়দরাবাদ পার্টি কংগ্রেসে সীতারাম ইয়েচুরি তাঁর লাইনকে দলে কিছুটা হলেও প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। তা হল, বিজেপি-কে রুখতে কংগ্রেস-সহ সমস্ত গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরেপক্ষ শক্তিকে এক জায়গায় করে সিপিএম চলবে। অর্থাৎ অর্থনৈতিক নীতির কারণে বিজেপি ও কংগ্রেসের সঙ্গে সমদূরত্বের লাইন খারিজ হয়ে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, এই রাস্তাও খুলে দেওয়া হয়েছিল, রাজ্য ভিত্তিক নির্বাচনী সমঝোতা হতে পারে। তাতে কোনও রাজ্য যদি মনে করে কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়া করে সেখানে নির্বাচনে লড়বে তাহলে তা করা যেতেই পারে।

তারপর থেকে বাংলা, বিহার তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে সিপিএম নির্বাচনী লড়াই লড়েছে কংগ্রেসের সঙ্গে প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ জোট করে। সামনের এপ্রিলে সিপিএমের ২৩ তম পার্টি কংগ্রেস। তার আগে সেই হায়দরাবাদেই তিন দিনের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে ঠিক হল, আগের পার্টি কংগ্রেসের লাইনেই দল চলবে। লাইনে কোনও বদল হবে না কান্নুর পার্টি কংগ্রেসে।

সিপিএমের রীতি হল, পার্টি কংগ্রেসে যে রাজনৈতিক খসড়া পেশ করা হবে তা জনসমক্ষে আনা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনের পর সেই খসড়া এবার বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হবে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তা প্রকাশিত হবে। দলের সদস্যরা তো বটেই আম পাবলিকও সেই খসড়ার উপর অ্যামেন্ডমেন্ট তথা সংশোধনী পাঠাতে পারেন। তারপর পার্টি কংগ্রেস চূড়ান্ত করবে তা গৃহীত হবে কি না।

মুখ্য আলোচ্য ছিল, নির্বাচনী কৌশলের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি নির্দিষ্ট লাইন বেঁধে দেবে কি না। তাতে ঠিক হয়েছে, দিল্লি তা চাপিয়ে দেবে না। যে রাজ্য যেমন মনে করবে তেমন করবে। যেমন আসন্ন উত্তরপ্রদেশ ভোটে সিপিএম সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধবে। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে কিছু আসনে প্রার্থী দেবে তারা। আবার কেরল, ত্রিপুরা কোনও ভাবেই বামফ্রন্ট বা বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের বাইরে গিয়ে লড়বে না। বাংলা, বিহার, তামিলনাড়ুর প্রসঙ্গ ভিন্ন।

সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে কেরল, কর্ণাটকের একটা অংশ কংগ্রেসের প্রতি চরম মনোভাব দেখানোর পক্ষে সায় দিয়েছিল। কিন্তু তা গৃহীত হয়নি। সীতারাম বলেছেন, এখন ফোকাস হওয়া উচিত বিজেপিকে ঠেকানো। কংগ্রেসকে সেই বন্ধনীতে আনা মানে সামগ্রিক ভাবে বিজেপি বিরোধী পরিসরকে আঘাত করা।

দলের এক প্রবীণ নেতার বক্তব্য, এটা হল দলের মধ্যে ফেডেরাল ব্যবস্থা অনুসরণ। অর্থাৎ একটি কোনও লাইন গোটা দেশের পার্টির জন্য শেষ কথা হতে পারে না। মূল বিষয়টি গোটা দলের জন্যই প্রযোজ্য। তা হল, বিজেপি সবচেয়ে বড় বিপদ। সেটা মাথায় রেখে রাজ্য পার্টি লড়াইয়ের সঙ্গী বাছাই করবে। কারণ, কংগ্রেসও এখন সব রাজ্যে সমান শক্তিশালী নয়। যেমন উত্তরপ্রদেশ, বিহারে নগন্য শক্তিতে পরিণত হয়েছে। হালে বাংলাতেও একই দশা দলটির।

You might also like