Latest News

সিপিএমের বাংলার সম্মেলনে বিদ্রোহ ঠেকাতে ছাঁকনির ভাবনা, পার্টি কংগ্রেস কেরলে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্মেলনের ঘণ্টা বেজে গেল সিপিএমে। গত বছরই এই সাংগঠনিক প্রক্রিয়া শুরুর কথা ছিল। কিন্তু পাঁচ রাজ্যের ভোটের আগে নেতৃত্ব বদল করার ঝুঁকি নেয়নি পার্টি। বলাই হয়েছিল একুশে ভোট মিটলে সম্মেলন প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিন দিনের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক শেষ হয়েছে রবিবার। সেখানে ঠিক হয়েছে ২০২২-এর এপ্রিল মাসে কেরলের কান্নুরে সিপিএমের ২৩তম পার্টি কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। যদিও তারিখ এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

তার আগে এবছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে যাবে শাখা স্তরের সম্মেলন। ধাপে ধাপে এরিয়া, জেলা এবং রাজ্য কমিটিগুলির সম্মেলন হবে। তবে বাংলার ক্ষেত্রে এবার ব্যতিক্রমী কৌশল নেওয়ার ভাবনা রয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের। যদিও তা নিয়ে ক্ষোভের দাবানল হওয়ারও আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেক নেতা।

কী কৌশল?

আগে বাংলায় সিপিএমের শাখা ও জেলাস্তরের মাঝে দুটি স্তর ছিল- লোকাল ও জোনাল কমিটি। গত সম্মেলন পর্ব থেকেই তা তুলে দিয়ে একটি স্তর করা হয়েছে। যার পোশাকি নাম এরিয়া কমিটি। সাধারণত শাখার সমস্ত সদস্যই তার উপরের স্তরের সম্মেলনে প্রতিনিধি হন এবং ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করেন। আগে লোকাল কমিটিতে সমস্ত শাখা সদস্য প্রতিনিধি হতেন। গতবার এরিয়া সম্মেলনেও একই ধারা বজায় ছিল। কিন্তু এবার এরিয়া সম্মেলনে ছাঁকনির ব্যবহার করতে পারে আলিমুদ্দিন।

কী সেই ছাঁকনি?

সব শাখা সদস্য এরিয়া সম্মেলনে প্রতিনিধি হবেন এমনটা নাও হতে পারে। শাখায় কত জন পার্টি সদস্য আছেন তাকে নির্দিষ্ট ফর্মুলায় বেঁধে দিয়ে এরিয়া সম্মেলন করার ভাবনা রয়েছে রাজ্য কমিটির। ৩:১ অথবা ২:১ ফর্মুলায় প্রতিনিধি নিয়ে এরিয়া সম্মেলন করা নিয়ে আগামী ১২-১৩ অগস্ট রাজ্য কমিটিতে আলোচনা হবে। সিদ্ধান্তও হয়ে যাবে দুদিনের রাজ্য কমিটির বৈঠকে।

কেন এমন ভাবনা?

সিপিএম নেতৃত্বের বক্তব্য, অতীতেও ২০০৪ সালে লোকাল কমিটির সম্মেলনে সব শাখা সদস্য প্রতিনিধি ছিলেন না। এবার কোভিডের কারণে সেই ফর্মুলার কথা ভাবা হচ্ছে। যদিও অনেকের মতে, নিচু তলার পার্টি সদস্যদের ক্ষোভের আঁচ পেয়েই এই কৌশলের ভাবনা আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের। কেন না, অনেকেরই আশঙ্কা এবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। প্রতিটি এরিয়া সম্মেলনে ভোটাভুটি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যা পরবর্তী স্তরের সম্মেলনগুলিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

যদিও আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের মুখে মুখে তর্ক জুড়ে দেওয়া অনেক জেলা এ ব্যাপারে তীব্র বিরোধিতা করতে পারে রাজ্য কমিটির বৈঠকে। কলকাতার এক নেতার কথায়, চার শতাংশ ভোট পাওয়ার পর এখনও গদি বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে রাজ্য নেতৃত্বের একটা বড় অংশ। তাঁর আরও বক্তব্য, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা না তৈরি হলে কমিটির ঢক্কানিনাদে কী হবে? যদিও একথা অনেকেরই অজানা নয়, সিপিএম সাংগঠনিক দল। কমিটির কাঠামোর বাইরে কিছু করা মুশকিল। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, নিজেদের রক্ষা করতে কোভিড বিধির দোহাই দিয়ে আলিমুদ্দিন চাইছে এরিয়া স্তরের সম্মেলনে বিদ্রোহ দমিয়ে দিতে। তবে শেষপর্যন্ত রাজ্য কমিটির বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয় সেটাই দেখার।

You might also like