Latest News

নিজের খুনিকে নাকি নিজেই চিনিয়েছিলেন এই মহিলা! ফিরে এসেছিলেন আত্মা হয়ে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেলুদা, ব্যোমকেশের পাতায় পাতায় রহস্যের কমতি নেই। বাস্তবে তেমন রহস্যের খোঁজ পাওয়া মুশকিল। কিন্তু সত্যিই কি তাই? আজও পৃথিবীতে এমন কিছু রহস্য থেকে গেছে সাদা চোখের পাতায় যার পর্দা সরানো যায়নি। উত্তর হাতড়ে চলেছেন খোদ গোয়েন্দারাও।

১৯৭৭ সালে শিকাগোর এক খুনের ঘটনা ঠিক তেমনই। আজও রহস্যের চাদরে মোড়া তেরেসিটা বাসা হত্যাকাণ্ড। শিকাগোর একটি হাসপাতালে শ্বাসযন্ত্র বিশেষজ্ঞের কাজ করতেন তিনি। থাকতেন ২৭৪০ নর্থ পাইন গ্লোভ অ্যাভিনিউয়ের একটি ফ্ল্যাটে। তাঁর রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

২৭৪০ নর্থ পাইন গ্লোভ অ্যাভিনিউয়ের তেরেসিটার ফ্ল্যাটে ঢুকেই চমকে উঠেছিল পুলিশ। কারণ ফ্ল্যাটের ঘরে মেঝের উপর দাউ দাউ করে জ্বলছিল তেরেসিটার দেহ। না, শরীরে তখন আর প্রাণ ছিল না। বরং তাঁর বুকে বিঁধে ছিল একটি ছুরি। সারা দেহে কোনও পোশাক ছিল না। দেহ মোড়া ছিল কার্পেট দিয়ে।

Bonus Episode : Teresita Basa "Voice from the Grave" - If the Walls Could Talk Podcast

 

খুনের ঘটনা সন্দেহ নেই, কিন্তু এমন খুন করল কে! কেনই বা করল? উত্তর খুঁজতে গিয়ে কালঘাম ছুটেছিল গোয়েন্দাদের।

উত্তর যে একেবারে মেলেনি তা নয়। খুনের কিনারা হয়েছে, শাস্তিও পেয়েছেন দোষী। তবে গোয়েন্দা কর্তারা সেই কিনারা করেননি। খুনের কিনারা নাকি নিজেই এসে করে গেছেন মৃত, মৃত্যুর পরেই।

ব্যাপারটা কী? কোনও ভূতের গল্প তও নয়। বাস্তব ঘটনা। গোয়েন্দারা স্বীকার করেছেন, মৃত ব্যক্তির আত্মা এসে নিজে খুনিকে চিনিয়ে দিয়েছেন, এছাড়া আর কোনও ব্যাখ্যা নেই। তাঁরা আর কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

তেরেসিটা বাসার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে হতাশ হয়েছিলেন গোয়েন্দারা। তাঁরা আন্দাজ করেছিলেন যৌন হেনস্থার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে তেরেসিটার সঙ্গে, যে কারণে তাঁর দেহে পোশাক ছিল না। কিন্তু রিপোর্ট বলে, তেমন কিছুই হয়নি।

তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল একটি চিরকুট। তেরেসিটার নিজে হাতে লেখা সেই চিরকুটে ছিল এ.এস নামের এক ব্যক্তির নাম। সে কে? কেন তাঁর নাম লিখেছিলেন তেরেসিটা তার কিছুই জানতে পারেননি গোয়েন্দারা। পুলিশ ছাড়াও তেরেসিটার এই রহস্যমৃত্যুর তদন্ত করছিলেন গোয়েন্দা স্ট্যানচুলা। তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তিনি আসল খুনিকে ধরতে পারছিলেন না। পাচ্ছিলেন না এই এ.এসের কোনও সূত্র।

Where are Teresita Basa and Allan Showery 39 years after her Voice From The Grave sent him to Prison? - Chicago History Cop

 

এমন করেই কেটে গিয়েছিল বেশ কয়েকমাস। তেরেসিটা বাসা হত্যাকাণ্ডের রহস্য রহস্য হয়েই থেকে যেতে পারত, যদি না গোয়েন্দা স্ট্যানচুলা নিজের ডেস্কে খুঁজে পেতেন আরও একটি চিরকুট। তাতে লেখা ছিল, তেরেসিটার খুনি কে, জানতে এই নম্বরে যোগাযোগ করুন।

একটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের নম্বর দেওয়া ছিল ওই চিরকুটে। স্ট্যানচুলা নড়েচড়ে বসেন। যোগাযোগ করে জানতে পারেন তেরেসিটার রহস্যমৃত্যুর তথ্য দিতে পারবেন তাঁর হাসপাতালের এক সহকর্মীই।

তেরেসিটার মতোই একই পেশায় একই হাসপাতালে কাজ করতেন রেমি চুয়া। তাঁর স্বামী হোসে গোয়েন্দা স্ট্যানচুলার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। স্ট্যানচুলাকে তিনি যা বলেন, তা রীতিমতো রোমহর্ষক, সেই সঙ্গে আষাঢ়ে গল্পও মনে করতে পারেন কেউ কেউ।

কী বলেছিলেন হোসে চুয়া? তিনি বলেছিলেন, তাঁর স্ত্রী রেমির উপর বেশ কয়েক রাতে নাকি ভর করেছে তেরেসিটার আত্মা। রেমির গলা দিয়েই সে জানিয়েছে কে তাঁর খুনি। জোগাড় করে দিয়েছে সমস্ত তথ্য প্রমাণও। মাঝেই মাঝেই রাতে সম্পূর্ণ অন্য স্বরে কথা বলে উঠেছে রেমি।

She Solved Her Own Murder. Do you believe in the paranormal? | by John Villablanca | ILLUMINATION | Medium

 

চিরকুটের সেই এ.এস’ই খুন করেছে তাতে কোনও সন্দেহ ছিল না আর। রেমির উপর ভর করে তেরেসিটা জানিয়েছে অ্যালান সওয়ারি নামের এক ব্যক্তিই তার খুনি। তেরেসিটার বাড়িতে সে এসেছিল টিভি সারাই করতে। তারপর আলমারি থেকে সমস্ত দামি গয়নাগাটি চুরি করে নেয় সে। কাজ সেরে তেরেসিটাকে খুন করে পালায়। প্রমাণ লোপাটের জন্য আগুন ধরিয়ে দেয় তেরেসিটার নগ্ন দেহে।

এখানেই শেষ নয়, অ্যালান ওই গয়না নিয়ে কোথায় কী করেছে তাও জানিয়ে দেয় তেরেসিটার আত্মা। তার কথা মতো অ্যালানের প্রেমিকার কাছ থেকে তেরেসিটার গয়না উদ্ধার করে পুলিশ।

তবে রেমি চুয়া কীভাবে একথা জানতে পারলেন, তিনি আদৌ সত্যি বলছেন কিনা তার কোনও কিনারা করতে পারেননি স্ট্যানচুলা। তেরেসিটার আত্মাই খুনিকে চিনিয়ে দিয়েছিল এছাড়া আর কোনও ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি। আজও তেরেসিটা হত্যাকাণ্ড ও তার রহস্যের কথা শুনলে গা ছমছম করে ওঠে শিকাগোবাসীর।

You might also like