Latest News

চিন-পাকিস্তান নিয়ে রাহুলের মন্তব্যের জবাবে বিজেপির হাতিয়ার ‘প্রণব-কথা’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সদলবলে নেমে পড়ল বিজেপি। বুধবার লোকসভায় প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতির চিন, পাকিস্তান সংক্রান্ত ভাষণ নিয়ে তাঁকে তীব্র আক্রমণ করেছেন বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মুখ খুলেছেন সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী, আইনমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। সংসদীয় মন্ত্রী রাহুলের সমালোচনার জবাব দিতে হাতিয়ার করেছেন প্রয়াত প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আত্মজীবনীর চিন-পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অংশটি।

সংসদের বাজেট অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আলোচনায় গতকাল রাহুল গান্ধী তীব্র ভাষায় দেশের বিদেশ নীতির সমালোচনা করেন। ঘটনাচক্রে গতকাল কলকাতায় মোদী সরকারের বিদেশ নীতি নিয়ে সরব ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তৃণমূল নেত্রী প্রশ্ন তোলেন নিকট প্রতিবেশী বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটানের মতো দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে। তাঁর ইঙ্গিত ছিল, সম্পর্কে আগের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ নেই।

অন্যদিকে, সংসদে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, মোদী সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার সুযোগেই পাকিস্তান ও চিন কাছাকাছি এসেছে। বর্হিবিশ্বে ভারতের গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতাও বর্তমান সরকার ধরে রাখতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন কংগ্রেস নেতা। রাহুলের প্রশ্ন, এবার প্রজাতন্ত্র দিবসে কোনও বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান কেন এলেন না? তাঁর বক্তব্য, কূটনৈতিক ব্যর্থতাই এর কারণ।

এর জবাবেই সংসদীয় মন্ত্রী যোশীর দাবি, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় তাঁর আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন, কীভাবে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর কংগ্রেস গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড চিন ও পাকিস্তানকে অর্পণ করেছিল। এটা ছিল কংগ্রেসের মস্ত বড় ভুল।

প্রণবের আত্মজীবনীর অংশ তুলে ধরে যোশী দেখাতে চেয়েছেন কংগ্রেসের বিদেশ নীতি, বিশেষ করে চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে দলের মধ্যেই মতবিরোধ ছিল।

প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রণব দীর্ঘদিন দেশের বিদেশ মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্যের মতো মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকার সময়ও প্রতিবেশী এই দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল তাঁর। এ ছাড়া, বিদেশ মন্ত্রক সংক্রান্ত বহু কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি। রাহুলকে বিঁধতে বিজেপি তাই প্রণবকে হাতিয়ার করল, মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন রাহুল। প্রধানমন্ত্রীকে রাজা, শাহেনশাহ বলে উল্লেখ করে বলেন, বিজেপি দেশে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে ১৯৪৭-এ কংগ্রেসের হাত দিয়ে যে ব্যবস্থার অবসান হয়েছিল। রাহুলের ওই মন্তব্যের বিরুদ্ধে গোটা দেশেই বিজেপি পাল্টা প্রচারে নামার পরিকল্পনা নিচ্ছে।

রাহুলের বিদেশনীতি সংক্রান্ত মন্তব্যের সমালোচনা করে বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তাঁকে ইতিহাসের পাঠ দিয়েছেন। বলেন, কংগ্রেস নেতার উচিত ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখা। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান বেআইনিভাবে একটি গোটা উপত্যকা চিনকে হস্তান্তর করে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সেই ১৯৭০-এ চিন কারাকোরাম হাইওয়ে তৈরি করে। ওই বছর থেকেই দু-দেশের মধ্যে পারমানবিক অস্ত্র নিয়ে বোঝাপড়ার সূত্রপাত হয়েছিল। আর ২০১৩-তে শুরু হয় চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর নির্মাণের কাজ।

জয়শঙ্কর বোঝাতে চেয়েছেন, এই সময় দিল্লির ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। অর্থাৎ চিন ও পাকিস্তানের সম্পর্ক মধুর হয়েছে ভারতে কংগ্রেস শাসনের সময়।
অন্যদিকে, প্রহ্লাদ যোশীর বক্তব্য, রাহুল গান্ধী কি চিনকে সমর্থন করছেন? তিব্বত সমস্যার মূলে যে কংগ্রেস, রাহুল কি তা জানেন না? নাকি সচেতনভাবেই এই ব্যাপারে অজ্ঞতা প্রকাশ করছেন?

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like