Latest News

বেহালাও আছে, খুঁটি পুজোও আছে, কিন্তু কোথায় শোভন, পার্থ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজো এসে গেল বলে। কিন্তু বেহালার পূর্ব-পশ্চিমে ওঁরা কোথাও নেই।

সেই পয়লা বৈশাখের দিন থেকে শুরু হয়েছে দুর্গাপুজোর খুঁটি পুজো। কিন্তু অধিকাংশ জায়গাতেই ডাক পড়ল না বেহালা পূর্ব এবং পশ্চিমের দুই বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। যে পুজোগুলি একটা সময় তাঁদের ছাড়া চলতই না, এ বার সেই ক্লাবগুলিতেও ব্রাত্য কলকাতার মহানাগরিক এবং শিক্ষামন্ত্রী।

বেহালা অঞ্চলের পুজোগুলি বেশ কয়েক বছর ধরেই ‘এসেছে শরৎ থিমের পরশ’ লাগিয়ে দেয় শহরের গায়ে। বড় বাজেটের পুজো, চোখ ধাঁধানো শিল্প তো আছেই। আর রাজ্যের শীর্ষ মন্ত্রীদের উপস্থিতি তাতে আরও জৌলুস বাড়িয়ে দেয়। এ বার সব থাকলেও নেই তাঁরা।


বেহালা পূর্বের বিধায়ক শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং পশ্চিম কেন্দ্রে পার্থবাবু। বাংলা নববর্ষের শুরুর দিনই খুঁটি পুজো হয়েছিল পূর্বের ঠাকুরপুকুর এসবি পার্কের পুজোয়। ১২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাজীব দাস এই পুজোর মূল মাথা। সংশ্লিষ্ট বিধায়ক শোভনবাবুকে খুঁটি পুজোয় নেমন্তন্ন করা হলেও আসেননি তিনি। শুধু তাই নয়, বেহালা নূতন দল, জয়শ্রী সর্বজনীনের মতো বড় পুজোগুলিতে ডাকাই হয়নি কাননবাবুকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোভনবাবুকে সস্নেহে এই নামেই ডাকেন)। বড়িশা ক্লাবের পুজোর মাথা সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লে। রাজনৈতিক মহলে তিনি শোভনবাবুর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। এই পুজোতেও ডাক পড়েনি মেয়রের। একই ভাবে ডাক পড়েনি শোভনবাবুর পুরনো পৌর কেন্দ্র ১৩২ নম্বর ওয়ার্ড-এর নস্করপুর সর্বজনীন এবং বর্তমান ওয়ার্ড ১৩১ নম্বরের দেবদারু ফটকের পুজোতেও। দেবদারু ফটক এবং নস্করপুর সর্বজনীন আবার পার্থবাবুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। তাঁকেও ডাকা হয়নি সেখানে। একই ভাবে পার্থবাবুর ডাক পড়েনি নন্দনা যুব সঙ্ঘ, বেহালা নূতন সঙ্ঘ, বড়িশা সর্বজনীনেও। গত রবিবার ঢাকঢোল পিটিয়ে খুঁটি পুজো হয়েছিল জয়রামপুর সর্বজনীন (বটতলা)-র পুজোয়। কিন্তু এখানেও কার্ড পাননি শিক্ষামন্ত্রী।


কিন্তু এই দুই হেভিওয়েট নেতাকে না ডাকার কারণ কী? দু’জনের সঙ্গেই যোগাযোগ করা হলেও জবাব মেলেনি কারোরই। রাজনৈতিক ভাবে এবং পারিবারিকভাবে বেশ কয়েক মাস ধরেই কোণঠাসা শোভন চট্টোপাধ্যায়। কখনও স্ত্রী গিয়ে মাঝরাতে দোরগোড়ায় ধর্না দিয়েছেন তো কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার ভরা করিডরে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “কী রে কানন, প্রেম করবি, নাকি কাজ করবি, ঠিক কর!” এ দিকে রাজনৈতিক মহলের মতে কলেজে কলেজে ভর্তি সিন্ডিকেট না রুখতে পারায় দলনেত্রীর মার্কশিটে নম্বর কমেছে পার্থবাবুর। কারণ পর্যবেক্ষকদের মতে, ছাত্র সংগঠনের পর্যবেক্ষক ছিলেন তিনি। গোটা ঘটনায় জয়া দত্তের ঘাড়ে কোপ পড়লেও পার্থবাবুর দায়িত্ব কোনও অংশে কম নয়।

বেহালার পুজোর আবহ তাই এ বার একটু অন্যরকম।

You might also like