Latest News

অরুণাচলের কিশোরকে তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে দিতে হবে, চিনা ফৌজের সঙ্গে কথা বলছে ভারতীয় সেনা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অরুণাচলের সিয়াং জেলার গ্রাম থেকে ১৭ বছরের এক কিশোরকে চিনের লাল সেনা তুলে নিয়ে গেছে এমন অভিযোগ করেছেন রাজ্যের বিজেপি সাংসদ তাপির গায়ো। এর আগেও পাঁচ অরুণাচলি যুবককে অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছিল চিনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে ঘিরে তুলকালাম চলছে। সবকিছু জেনেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নীরব কেন, সে নিয়ে কটাক্ষও করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর তির্যক মন্তব্যের পরেই ভারতীয় সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র সঙ্গে কথা বলছে ভারতীয় বাহিনী।

সূত্রের খবর, জিডো গ্রামের দুই স্থানীয় শিকারিকে অপহরণ করে চিনা সেনারা। মিরাম তারো নামে এক কিশোর গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ কুড়োতে এসেছিল। তাকে তুলে নিয়ে যায় চিনের সেনারা। রাজ্যের বিজেপি সাংসদের অভিযোগ, মিরামকে আটকে রাখা হয়েছে। তাঁর এক বন্ধু চিনাদের কব্জা থেকে পালিয়ে এসেছে।

অরুণাচলে আধিপত্য বিস্তারের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে চিন। ১৫টি জায়গার নামই বদলে দিয়েছে বেজিং। চিনা ভাষায় খোদাই করা নামের বোর্ড আটকে দেওয়া হয়েছে জায়গায় জায়গায়া। পার্বত্য এলাকা থেকে নদী, বসতি অঞ্চল, সবই নিজেদের বলে দাবি করছে চিন। এই সাংপো এলাকাতেই ২০১৮ সালে রাস্তা তৈরি করেছিল চিন।

অরুণাচলে চিনের আধিপত্য ভাবিয়ে তুলছে নয়াদিল্লিকে। চিনের মন্ত্রিসভা বেশ কয়েকটি জায়গার নাম সরকারি ভাবে স্বীকৃত হিসেবে ধরার জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে৷ চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস -এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী , ‘দক্ষিণ তিব্বতের ’ (অরুণাচল প্রদেশকে এই নামেই উল্লেখ করে চিন ) যে জায়গাগুলির নাম বদল করা হয়েছে তার মধ্যে দুটি পর্বত, নদী ও বসতি এলাকা রয়েছে। চিনা , তিব্বতি এবং রোমান অক্ষরে ওই নামগুলি কী ভাবে লেখা হবে , তাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে৷

এর আগেও একাধিকবার অরুণাচলের সীমান্ত লাগোয়া নানা গ্রাম থেকে স্থানীয় লোকজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে লাল ফৌজের বিরুদ্ধে। আপার সুবনসিরির নাচো সেক্টর থেকে পাঁচ যুবককে অপহরণ করেছিল চিনা সেনারা। ওই এলাকা ভারত-চিন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা ১০০ কিলোমিটার দূরে। পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চিন ও ভারতীয় বাহিনীর সংঘাতের আবহেই একের পর এক এমন ঘটনা উত্তেজনা তৈরি করে।

পুলিশ জানাচ্ছে, সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় অরুণাচলি যুবকরা গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ সংগ্রহ করতে আসে। শিকার ধরতে যায় তারা। আন্তর্জাতিক বাজারে ওই গুল্ম চড়া দামে বিক্রি হয়। জঙ্গলে সীমান্ত নির্দিষ্ট না-থাকায় হয়তো তাঁরা চিনা বাহিনীর মুখোমুখি পড়ে যায়। তখনই তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায় লাল সেনা।

পূর্ব লাদাখে ভারতের শক্তির সঙ্গে এঁটে উঠতে না পেরে অরুণাচলে নতুন করে সামরিক বিন্যাস করে ভারতের বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ ছোড়ারই চেষ্টা করছে চিন, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মত এমনটাই। পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার মতোই অরুণাচলের সীমান্ত নিয়েই দুই দেশের বাহিনীর বিবাদ অনেক পুরনো। সেই ১৯৬২ সালে ইন্দো-চিন যুদ্ধ বাধে এই অরুণাচলকে কেন্দ্র করেই। চিন একে দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলেই মনে করে। পূর্ব লাদাখের মতো অরুণাচলেও আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া তারা।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like