Latest News

কোভিশিল্ড বা কোভ্যাক্সিন নিয়েছেন? বুস্টার ডোজে নেওয়া যাবে কর্বেভ্যাক্স, দামেও কম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার দেওয়া শুরু হয়েছে । কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছিল, এই বুস্টার প্রিকশনারি ডোজের ‘মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ’ করা যাবে না। অর্থাৎ প্রথম দুটি ডোজ যে টিকার নেওয়া হয়েছে, তৃতীয় ডোজও সেই টিকারই নিতে হবে। তবে এখন একাধিক নতুন ভ্যাকসিন চলে আসছে বাজারে। বুস্টার ডোজের জন্য ভ্যাকসিন বানাচ্ছে দেশীয় সংস্থাগুলো। যার মধ্যে দেশের সবচেয়ে পুরনো বায়োলজিক্যাল ফার্ম বায়োলজিক্যাল ই-র তৈরি ভ্যাকসিন কর্বেভ্যাক্সে ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল। থার্ড ডোজের জন্য এই ভ্যাকসিন কতটা কার্যকরী হবে তার ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু হতে যাচ্ছে দেশে।

১৮ থেকে ৮০ বছর বয়স অবধি স্বেচ্ছাসেবক বেছে নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ টিম জানাচ্ছে, ভ্যাকসিনের ফার্স্ট ও সেকেন্ড ডোজ কোভিশিল্ড বা কোভ্যাক্সিনের নিলে থার্ড ডোজে কর্বেভ্যাক্স নেওয়া যেতে পারে। এই ভ্যাকসিনের শট শরীরে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি করবে।

বুস্টার হিসেবে কর্বেভ্যাক্স কতটা কার্যকরী তার জন্য ৩৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালে ১৮০ জনকে বুস্টার দেওয়া হবে যাঁরা দুটি ডোজ কোভিশিল্ডের নিয়েছেন, দ্বিতীয় পর্যায়ে বাকি ১৮০ জনকে কর্বেভ্যাক্সের বুস্টার দেওয়া হবে যাঁরা প্রথম দুটি ডোজ কোভ্যাক্সিনের নিয়েছিলেন। থার্ড ডোজের পরে পর্যবেক্ষণে রেখে দেখা হবে শরীরে কতটা অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে।

কেমন ভ্যাকসিন কর্বেভ্যাক্স?

সার্স-কভ-২ ভাইরাসের রিসেপটর ডোমেনকে খুঁজে বের করতে পারে এই ভ্যাকসিন। তারপর ভাইরাসের সঙ্গে জুড়ে গিয়ে আস্তে আস্তে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এর জন্য এই ভ্যাকসিনও তৈরি হচ্ছে বিশেষ ফর্মুলায়। কর্বেভ্যাক্স বানিয়েছে বায়োলজিক্যাল ই। দেশের নামী ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলির মধ্যে প্রথম সারিতেই আছে বায়োলজিক্যাল ই। ১৯৫৩ সালে হায়দরাবাদে তৈরি হয়েছিল এই বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি। দেশের সবচেয়ে পুরনো বেসরকারি বায়োলজি ফার্মগুলির একটি।

১৯৮০ সালে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস প্রতিরোধী যে ভ্যাকসিন বানিয়েছিল এই সংস্থা সেই ফর্মুলাই নেওয়া হয়েছে কোভিড ভ্যাকসিন বানাতে। তবে ভাইরাস চিহ্নিত করতে এতে পিচিয়া প্যাস্তোরিস নামে ছত্রাক ব্যবহার করা হয়েছে। এই ছত্রাক মানুষের শরীরের কোনও ক্ষতি করে না। তবে ভাইরাল প্রোটিন চিহ্নিত করতে পারে।

ফাইজার ও মোডার্না আরএনএ টেকনোলজিতে টিকা বানিয়েছে। যেখানে ভাইরাল প্রোটিনের জিনগত তথ্য আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড)-এর মাধ্যমে শরীরে ঢোকানো হচ্ছে। মানুষের দেহকোষে ঢুকে যা ভাইরাল প্রোটিনের নকল করবে এবং ইমিউন কোষগুলিকে (বি-কোষ ও টি-লিম্ফোসাইট কোষ) সক্রিয় করে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলবে।

কর্বেভ্যাক্স ভ্যাকসিনও তৈরি হয়েছে করোনার স্পাইক দিয়ে, তবে স্পাইক প্রোটিনের কিছু অংশ সরাসরি ব্যবহার করে টিকা বানানো হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, ভাইরাল স্পাইক নেওয়া হয়েছে মানে ভয়ের কারণ নেই। মানুষের শরীরে ঢুকে এই প্রোটিন প্রতিলিপি তৈরি করে সংক্রমণ ছড়াবে না। উল্টে শরীরে ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে তুলবে। অ্যাডাপটিভ ইমিউন রেসপন্স তৈরি হবে যাতে শরীরও এই ধরনের ভাইরাল প্রোটিনকে চিনে রাখতে পারবে ও তার প্রতিরোধে নিজের সুরক্ষা কবচ তৈরি করবে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, বায়োলজিক্যাল ই-র তৈরি কর্বেভ্যাক্স এখনও অবধি দেশের সবচেয়ে সস্তার ভ্যাকসিন। প্রথমে বলা হয়েছিল এই টিকার দুটি ডোজের দাম পড়বে ৫০০ টাকার কাছাকাছি। তবে সাম্প্রতিক রিপোর্টে স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, কর্বেভ্যাক্স টিকার দুটি ডোজের দাম হতে পারে ৪০০ টাকারও কম।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা সুখপাঠ               

You might also like