Latest News

ত্রালের এনকাউন্টারে খতম ৩ জঙ্গি, জুন মাসে এই নিয়ে ১২টি এনকাউন্টার দক্ষিণ কাশ্মীরে, নিহত মোট ৩৩ জন জঙ্গি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল দক্ষিণ কাশ্মীরের ত্রালে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চলে অভিযান। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ, সিআরপিএফ, সেনাবাহিনীর ৪২ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস-এর যৌথ অভিযানের শেষে খতম হয়েছে তিনজন জঙ্গি। নিরাপত্তাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে আহত হয়েছেন দু’জন সেনা জওয়ানও।

জানা গিয়েছে, নিহত তিন জঙ্গি ত্রাল এলাকারই বাসিন্দা। অস্ত্রশস্ত্র আদানপ্রদানে জঙ্গি সংগঠনগুলোকে সাহায্য করতে তারা। তারপর সরাসরি যোগ দেয় জঙ্গি সংগঠনে। ওই এলাকায় আর কোনও জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে কিনা তা জানতে ত্রালের চিউহা উলার এলাকায় জারি রয়েছে তল্লাশি অভিযান। কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে রাখা হয়েছে গোটা এলাকা। চলছে টহলদারি।

সেনার তরফে জানানো হয়েছে জুন মাসে এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ কাশ্মীরে ১২টি এনকাউন্টার হয়েছে। খতম হয়েছে ৩৩ জন জঙ্গি। গত ছয় মাসে উপত্যকায় খতম হয়েছে শতাধিক জঙ্গি, জানিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ডিজি দিলবাগ সিং। এই সময়কালকে উপত্যকার সোনালী দিন বলেও এর আগে উল্লেখ করেছেন উপত্যকার পুলিশ প্রধান।

গোপন সূত্রে নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে খবর ছিল ত্রালের চিওয়া উলার এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে কয়েকজন। এই খবরের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকেই যৌথ ভাবে এনকাউন্টার অভিযান শুরু করে ভারতীয় সেনার ৪২ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস এবং সিআরপিএফ। নিরাপত্তারক্ষীরা জানিয়েছেন, এনকাউন্টার অভিযান শুরু হতেই তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে যায় জঙ্গিরা। এরপর লুকিয়ে থাকা জঙ্গিরা এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিকেষ হয়েছে তিন জঙ্গি।

চলতি বছর উপত্যকায় জঙ্গি দমন কার্যকলাপে মারাত্মক ভাবে সক্রিয় নিরাপত্তাবাহিনী। জম্মু-কাশ্মীরের অনাচেকানাচে থাকা জঙ্গি ঘাঁটি খুঁজে সেগুলো ধ্বংস করছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। গত ছয় মাসে শতাধিক জঙ্গি খতম হয়েছে বিভিন্ন যৌথ এনকাউন্টারে। তাদের মধ্যে রয়েছে হিজবুল মুজাহিদিন, জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তৈবার কুখ্যাত কম্যান্ডাররা। শহিদ হয়েছেন বেশ কয়েকজন সেনা জওয়ান। তবে বিভিন্ন অভিযানে ব্যাপক ভাবে সাফল্যও পেয়েছে সেনাবাহিনী। হিজবুলের মোস্ট ওয়ান্টেড রিয়াজ নাইকু এবং জইশের কুখ্যাত ফৌজি ভাই নিকেষ হয়েছে এনকাউন্টারে। নিরাপত্তাবাহিনী এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে জঙ্গি দমন অভিযানে উপত্যকার আমজনতা যেভাবে সহায়তা করেছে তা প্রশংসনীয়।

গত কয়েকমাসে বারবার সংঘর্ষ হয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকাতেও। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অসংখ্য বার যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর জুনের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ২ হাজারেরও বেশি বার সীমান্তে সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে পাক সেনা। পায়ে সাংকেতিক ভাষায় লেখা আংটা বাঁধা পায়রা উদ্ধার হয়েছে আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকা থেকে। ভারতীয় ভূখণ্ডের আকাশে চক্কর কাটা পাকিস্তানি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে সেনাবাহিনী। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র।

You might also like