Latest News

নিটে স্বপ্নের রেজাল্ট! কীভাবে খাতায় উত্তর লিখেছিলেন? ফাঁস করলেন বেঙ্গালুরুর কৃতী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবারের নিট পরীক্ষায় স্বপ্নের রেজাল্ট করেছেন বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) অনিরুদ্ধ দাস। ৭২০-র মধ্যে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৮১। পারসেন্টাইল ৯৯। সর্বভারতীয় হিসেবে অনিরুদ্ধর র‍্যাঙ্ক হয়েছে ৭৯৪। ডাক্তারির প্রবেশিকায় চোখ ধাঁধানো এই রেজাল্ট করতে অনিরুদ্ধর কিন্তু খুব বেশি সময় লাগেনি। এক চান্সেই নিটে সফল হয়েছে সে। আর তারপর ফাঁস করেছে এই অভাবনীয় সাফল্যের রহস্য।

বলিউডে এসে কেন নাম বদলেছিলেন অজয়? আসল নামটা জানেন কি

অনিরুদ্ধ বলছেন, নিটে সফল হতে গেলে সারাবছর ধরেই পরিশ্রম করতে হবে। এর কোনও শর্টকাট নেই। সারা বছর ফাঁকি মেরে পরীক্ষার আগে প্রচুর পড়াশোনা করলেও নিট পাশ করা যায় না। পাশ যদি বা হয়, পাওয়া যায় না স্বপ্নের র‍্যাঙ্ক। তাই রোজ কিছু কিছু করে পড়তে হবে। তবেই পরীক্ষায় ভাল ফল সম্ভব।

নিজে কীভাবে পড়েছিলেন অনিরুদ্ধ? তিনি জানিয়েছেন, পরীক্ষার আগের কয়েক মাস দিনে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা বইখাতার মাঝেই মুখ গুঁজে থাকতেন তিনি। কিন্তু তাছাড়া সারাবছরই পড়াশোনা করেছেন দিনে দশ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে। তবে একটানা নয় একেবারেই। পড়ার মাঝে ছোট ছোট ব্রেক নিতে ভালবাসেন অনিরুদ্ধ। তাতেই মাথা আরও বেশি খুলে যায়। নিটের জন্য একাদশ শ্রেণী থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।

অনিরুদ্ধ জানিয়েছেন, পড়াশোনাটা যেমন জরুরি, তেমনই জরুরি ঠিক সময় বুঝেশুনে ব্রেক নেওয়া। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে উঠে অন্য কিছু করাও দরকার। এই থিওরিতে পড়াশোনা চালিয়েই সাফল্য পেয়েছেন তিনি, জানিয়েছেন অনিরুদ্ধ।

অনিরুদ্ধ দাসের দাদু একজন ইএনটি বিশেষজ্ঞ। তিনিই তাঁর মধ্যে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন গেঁথে দিয়েছিলেন। নেট পরীক্ষায় বাজিমাত করে এখন বেঙ্গালুরুর অনিরুদ্ধ অপেক্ষা করছে কাউন্সেলিংয়ের জন্য। তারপরেই ভাল দেখে কোনও ডাক্তারি কলেজে শুরু হবে তাঁর মেডিকেলের পাঠ। পরিবারে তিনিই প্রথম ডাক্তার হতে চলেছেন। বাবা ও দাদা বেছে নিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পথ।

শুধু কি দাদুর জন্যেই ডাক্তার হওয়ার সিদ্ধান্ত? তা নয়, অনিরুদ্ধ জানিয়েছেন অন্য কথা। তিনি বলেছেন, আমি কোথাও পড়েছিলাম আমাদের দেশে প্রতি হাজার জন মানুষের মধ্যে মাত্র ১.৩৪ জন ডাক্তার। এই পরিসংখ্যান জানতে পেরে আমি চমকে উঠেছিলাম। সেদিন থেকেই ঠিক করেছি, ডাক্তার হব। সমাজের সেবা করব।

ফিজিক্সের জন্য ডিসি পান্ডের বই পড়েছেন অনিরুদ্ধ। কেমিস্ট্রি আর বায়োলজির জন্য দেখেছেন ‘এমটিজি এনসিইআরটি- অ্যাট ইওর ফিঙ্গারটিপস’ বইটি। এছাড়া কোয়েশ্চেন ব্যাঙ্ক তো ছিলই। ভবিষ্যতে দাদুর মতো ইএনটি বিশেষজ্ঞ হতে চান না অনিরুদ্ধ। তিনি চান অরথোপেডিক্স নিয়ে পড়াশোনা করতে। কোন কলেজে পড়তে চান অনিরুদ্ধ? জানিয়েছেন, তেমন কোনও নির্দিষ্ট পছন্দ নেই। তবে অবশ্যই চাই সরকারি কলেজ।

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে কীভাবে উত্তর লিখেছিলেন অনিরুদ্ধ? ফাঁস করেছেন সেই কৌশলও। বলেছেন, তিনি উল্টো দিক ধরে এগিয়েছেন। অর্থাৎ, প্রথমে ফিজিক্স না ধরে বায়োলজি ধরেছিলেন তিনি। তারপর কেমিস্ট্রি এবং সব শেষে লিখেছেন ফিজিক্সের উত্তর। বায়োলজিতে এক নম্বরও কাটা যাবে না, এই ভেবেই সেটি আগে ধরেছিলেন বলে জানিয়েছেন অনিরুদ্ধ। রেজাল্টে দেখা গেছে সত্যি সত্যিই বায়োলজিতে ৩৬০ এর মধ্যে ৩৬০ পেয়েছেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন, ফিজিক্স বা কেমিস্ট্রি দিয়ে উত্তর লেখা শুরু করলে মাথা প্রথমেই গুলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ সেখানে অপেক্ষাকৃত কঠিন প্রশ্ন দেওয়া হয়। আগে সেগুলি করলে পরে বায়োলজিতে অনেক ছোটখাটো ভুল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই পরীক্ষার খাতায় উল্টোদিক থেকে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন অনিরুদ্ধ।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like