Latest News

‘আমরা ভারতীয়!’ তালিবান যোগের অভিযোগ উড়িয়ে কী দাবি উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দের?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে আফগানিস্তানে তালিবান ফিরেছে, আরেকদিকে তাদের সঙ্গে ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলার প্রত্যন্ত দেওবন্দ শহরের নামও আলোচনায় উঠে আসছে। এই দেওবন্দেই ১৮৮৬ সালে তৈরি হওয়া নামী সুন্নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের সঙ্গে তালিবানের যোগ নিয়েও চর্চা চলছে।  দেওবন্দের প্রায় ৩০০ ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র বা মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষা নেয় প্রায় ৬ হাজার পড়ুয়া, যাদের বেশিরভাগই ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, বাংলাদেশের নাগরিক। বলা হয়, তালিবান নাকি ইসলামের দেওবন্দি ধারা, ব্যাখ্যা মেনে চলে।

কিন্তু দেওবন্দের বাসিন্দাদের দাবি, তালিবানের কট্টরপন্থী ইসলামি ধ্যানধারণার সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক, সংযোগই নেই। দারুল উলুম দেওবন্দের অধ্যক্ষ তথা জামিয়াত উলেমা-ই-হিন্দের সভাপতি আরশাদ মাদানির মতে, যোগসূত্রটা কেবলমাত্র ইতিহাসের। ভারতের দেওবন্দিরা পাকিস্তান, আফগানিস্তানের দেওবন্দিদের পড়িয়েছিল বটে, তবে তা শুধুমাত্র ১৯ শতকে যখন ব্রিটিশদের উপমহাদেশ থেকে তাড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল।

মাদানির দাবি, আমার পূর্বজ মৌলানা মাহমুদ হাসান দেওবন্দি দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের যোদ্ধা ছিলেন। ব্রিটিশদের সঙ্গে লড়তে তিনি দেশপ্রেমিকের নিয়ে জমিয়ত গঠন করেছিলেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় তিনি নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মৌলানা উবেদুল্লা সিন্ধিকে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে সাহায্যের জন্য একটি মিত্র বাহিনী গঠনে আফগানিস্তানে পাঠিয়েছিলেন। সেইমতো সিন্ধি আফগানিস্তানের জনতার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেন, আফগানিস্তানে প্রথম ভারতের প্রাদেশিক সরকারও  তৈরি করেন। মহেন্দ্র প্রতাপ সিংকে তার প্রেসিডেন্ট করা হয়, তিনি উপনিবেশবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেন। সাম্প্রতিক কালে দেওবন্দের সঙ্গে আফগানিস্তানের কোনও সংযোগই নেই। যিনি আফগানিস্তানে স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করেন, তিনি  ছিলেন এক দেওবন্দি। তালিবান যে দেওবন্দের অনুগামী বলে নিজেকে দাবি করছে, তারা  সম্ভবতঃ তাঁর তিনটি প্রজন্ম পরের লোকজন।

ক্ষুব্ধ দারুল উলুমের মুখপাত্রের দাবি, ‘ধর্মীয় শিক্ষা দিই বটে, কিন্তু আমরাও ভারতীয়।  আমাদের সততা নিয়ে সংশয় ছড়াতে তালিবানি সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ টেনে আনা অপমানজনক। তিন প্রজন্মের ওপর দেওবন্দের বাসিন্দা জনৈক কৃষকেরও মত, সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষার যোগসূত্র দেখানা অন্যায়। ওদের কাজকর্মের জন্য ইসলামকে দায়ী  করা আরও খারাপ। কোনও ধর্মই কাউকে খুন বা অঙ্গচ্ছেদের শিক্ষা দেয় না, ইসলামও দেয় না। তালিবান মহিলা, পুরুষদের ওপর ভয়ঙ্কর অত্যাচার করেছে, যা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাঁরা কট্টরপন্থী, মৌলবাদী ইসলামে বিশ্বাসী হলে যেসব দেশ থেকে এখানে ছাত্ররা পড়তে আসে, সেখানেও সন্ত্রাসবাদী হামলা ঘটত।

 

You might also like